এবছরের গণেশ চতুর্থীতে হাত আর মাত্র কয়েকটা দিন। আগামী সোমবার ৫ সেপ্টেম্বর মহাসমারোহে সারা দেশে পালিত হবে গণেশ চতুর্থী। বহুকাল ধরে এই উৎসব পালিত হয়ে আসছে। [(ছবি)থিমের বাজারে গণপতি কখনও স্পাইডারম্যান, কখনও 'বাহুবলী']
এই উৎসহ মহারাষ্ট্রে বিশাল বড় করে পালন করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখানে দর্শনার্থীরা ভিড় জমান। ভক্তেরা শ্রদ্ধা ও আস্থা নিয়ে গণপতির পুজো করে। পুজোর পরে জলে বিসর্জন দেওয়া হয় গণেশের মূর্তি। [(ছবি) পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের ১০টি বৈশিষ্ট যা অবিশ্বাস্য কিন্তু সত্যি]
এইসব কথা কে না জানে। তবে, গণেশ ঠাকুর ও গণেশ চতুর্থী উৎসব নিয়ে একাধিক চমকপ্রদ তথ্য রয়েছে যা অনেকের কাছেই অজানা। এই প্রতিবেদনে আজ আমরা এমন কিছু তথ্যই তুলে ধরব। [(ছবি) যে চরিত্রগুলির উল্লেখ মহাভারত ও রামায়ণ উভয় মহাকাব্যেই রয়েছে!] তথ্য ১ পুরাণমতে দেবী পার্বতীর সখী জয়া ও বিজয়া তাঁকে পরামর্শ দিয়েছিলেন, মহাদেবের জন্য নন্দি রয়েছে যে সবসময় মহাদেবের কথা মান্য করে চলে, ভোলানাথ যা বলেন নন্দি অক্ষরে অক্ষরে তা পালন করেন। কিন্তু পার্বতীর জন্য এমন কেউ নেই। তাই পার্বতীর জন্যও এমন কারোর থাকা উচিত যে দেবীর কথা সর্বদা মেনে চলবে। এরপরই সৌন্দর্য চর্চার জন্য যে চন্দনবাটা গায়ে লাগিয়েছিলেন দেবী তা দিয়ে গণেশের মূর্তি তৈরি করেন তিনি। এবং পরে তাতে প্রাণসঞ্চার করে। তথ্য ২ শিব মহা পুরাণমতে ভগবান গণেশের গায়ের রং সবুজ ও লাল। তথ্য ৩ জন্মের পর থেকে গণেশকে 'পার্বতী পুত্র' বলেই সম্বোধন করা হত। এর পর বাবা মহাদেব ছেলের নামকরণ করেন গণেশ। গণেশের অর্থ হল গণের নেতা। এর পর থেকেই গণেশ নামে পরিচিত হন তিনি। তথ্য ৪ গণেশের প্রায় ১০৮টি নাম আছে। প্রাচীন সংস্কৃত অভিধান অমরকোষ গ্রন্থে‘গণেশ' নামের আটটি সমার্থক শব্দ পাওয়া যায়। ‘বিনায়ক', ‘বিঘ্নরাজ' (যা ‘বিঘ্নেশ' নামেরও সমার্থক), ‘দ্বৈমাতুর' (যাঁর দুইজন মা),[২১] ‘গণাধিপ' (যা ‘গণপতি' ও ‘গণেশ' নামেরও সমার্থক), ‘একদন্ত' (যাঁর একটি দাঁত, এখানে গণেশের হস্তীমুণ্ডের বাইরের দাঁতের কথা বলা হয়েছে), ‘হেরম্ব', ‘লম্বোদর' (যাঁর স্ফীত উদর) ও ‘গজানন' (যাঁর হাতির মতো মাথা)। মারাঠি ভাষায় বলা হয় 'বিনায়ক', 'বিঘ্নেষ','বিঘ্নেশ্বর'। তামিল ভাষায় দুটি জনপ্রিয় নাম হল পিল্লাই ও পিল্লাইয়ার। ‘পিল্লাই' শব্দের অর্থ ‘শিশু' এবং ‘পিল্লাইয়ার' শব্দের অর্থ ‘মহান শিশু'। তবে‘পিল্লাইয়ার' নামটির মূল ‘পিল্লে' শব্দটির আদি অর্থ সম্ভবত ‘হস্তীশাবক। বর্মি ভাষায় গণেশ ‘মহা পেইন্নে'। থাইল্যান্ডে গণেশের জনপ্রিয় নামটি হল ‘ফ্রা ফিকানেত'। শ্রীলঙ্কার সিংহল বৌদ্ধ অঞ্চলগুলিতে গণেশ ‘গণ দেবিয়ো' নামে পরিচিত। তথ্য ৫ পুরাণমতে গণেশের হাতে পাঁচ রাক্ষসের নিধন হয়েছিল। অহন্তাসুর (অহমের প্রতীক), মায়াসুর (মায়ার প্রতীক), লোবাসুর (লোভের প্রতীক), কামাসুর (কামের প্রতীক) এবং ক্রোধাসুর (ক্রোধের প্রতীক) তথ্য ৬ গণেশ চতুর্থীর দিন চাঁদের দিকে না তাকাতে নেই। বলা হয়, চন্দ্রদেব নাকি গণেশের গজমুখ দেখে হাসিতে ফেটে পড়েছিলেন। তাতে ক্রুদ্ধ হয়ে গণেশ ঠাকুর চাঁদকে অভিশাপ দিয়েছিলেন যে যদি কেউ গণেশ চতুর্থী থেকে অনন্ত চতুর্দশী পর্যন্ত চাঁদের দিকে তাকায় তাহলে ওই ব্যক্তির জীবনে সমস্যা ঘনিয়ে আসবে। তথ্য ৭ পুরাণমতে ঋদ্ধি ও সিদ্ধির সঙ্গে বিবাহ বয় গণপতির। তাঁর দুই সন্তান হল ক্ষেম ও লাভ। তথ্য ৮ ১৯৮৩ সালে লোকমণ্য তিলক প্রথম সার্বজনীনভাবে গণেশ চতুর্থীর পুজো শুরু করেন। তথ্য ৯ ২০১৪ সালে শুধু মুম্বইতে ১০,০০০ সার্বজনীন মণ্ডপে গণেশ ঠাকুরের পুজো করা হয়েছিল। এছাড়া বাড়ির ঠাকুরের সংখ্যা ছিল ১,৮০,৬৫০। প্রতিবছর এই সংখ্যা ক্রমশই বাড়ছে। তথ্য ১০ মহারাষ্ট্র ছাড়াও গণেশ চতুর্থী কর্ণাটক এবং অন্ধ্রপ্রদেশের কিচু অংশেও ধুমধামের সঙ্গে পালিত হয়। ভারতের বাইরে নেপালের তেরাই অঞ্চলে গণেশ চতুর্থী পালিত হয়।

No comments:
Post a Comment