ভারত-নেপাল সীমান্ত দিয়ে নারী পাচারের ঘটনা নতুন কিছু নয়। তবে ক্রমশ ভয়ঙ্কর চেহারা নিয়েছে সেই নারী পাচার। সম্প্রতি ‘সশস্ত্র সীমা বল’ বা এসএসবি-র দেওয়া একটি রিপোর্টে দেখা গিয়েছে এই পাচার গত পাঁচ বছরে বেড়েছে ৫০০ শতাংশ। নেপালের তেরাই অঞ্চল থেকে দিল্লি, কলকাতা কিংবা মুম্বইয়ের যৌনপল্লীতে পাচার করা হচ্ছে নেপালের মেয়েদের।
রিপোর্ট বলছে, ২০১৩ তে সীমান্ত থেকে ১০৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছিল, ২০১৭ তে সেই সংখ্যাটা ছিল ৬০৭। অর্থাত্ সংখ্যাটা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এক একটি মেয়েকে অন্তত ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।
দালালদের লক্ষ্য থাকে নেপালি মেয়েরাই। সশস্ত্র সীমা বল জানিয়েছে, অধিকাংশ মহিলাই নেপালের। তাদের সীমান্তপথে পাচার করে দেওয়া হচ্ছে ভারতের মেট্রো শহরগুলিতে। শিশুদের শ্রমিক হিসেবে লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে কাজে। নেপালের সমাজ ও নারীকল্যাণ মন্ত্রক থেকে জানানো হয়েছে, দেশের ৭৬ টি জেলার মধ্যে অন্তত ২৬ টি জেলায় নারী পাচারের সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে।
সশস্ত্র সীমাবলের রিপোর্ট অনুযায়ী পাহাড়ের তপশিলী জাতির মেয়েদেরই পাচার করা হচ্ছে বেশি। অবশ্য উচ্চবিত্ত পরিবারের মহিলারাও রয়েছে তালিকায়। দালালরাই ৯-১৬ বছরের মেয়েদের সীমান্ত এলাকা থেকে বাসে করে ভারতে নিয়ে আসছে। সীমান্তেই ঠিক করা হচ্ছে দর। প্রতিটি শিশুর ক্ষেত্রে দর যেখানে ৬ হাজার টাকা। মেয়েদের ক্ষেত্রে সেটাই প্রায় ৫০ হাজার। অনেকক্ষেত্রে পরিবারের লোকেরাই দালালের ভূমিকা নিয়ে থাকে।
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, নেপালি মেয়েদের গ্রাম থেকে প্রথমে কাঠমাণ্ডু নিয়ে আসা হয়। সেখানে হোটেলে রাখা হয় মেয়েদের। তারপর সীমান্ত দিয়ে দালাল মারফত পাচার করা হয়। দালালরা বাস কিংবা ট্রেনে মেয়েদের দিল্লি, মুম্বই, কলকাতার যৌনপল্লীতে পৌঁছে দেয়। সাধারণত জুন থেকে আগস্ট মাসের মধ্যেই এই নারীপাচার বেশি হয়।

No comments:
Post a Comment