অর্ক রায়, মালদা : অবশেষে ভাঙন ঠেকানোর কাজ শুরু করলো সেচ দপ্তর। গতকালের পর আজ থেকে জোরকদমে ইঞ্জিনিয়ার থেকে অন্যান্য পদস্থ কর্তারা গঙ্গা ভাঙ্গন রোধের কাজ শুরু করেছেন।
কালিয়াচক ৩ ব্লকের বৈষ্ণবনগর থানার অন্তর্গত শোভাপুর- পারদেওনাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের পার দেওনাপুর থেকে খাসপাড়া পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র ভাঙন চলছে। এরই মধ্যে ওই এলাকার এক কিলোমিটার গঙ্গার পাড় মেরামতির কাজ সম্পন্ন করেছে মালদা সেচ দফতরের ইঞ্জিনিয়ারেরা। কিন্তু বাকি পাঁচ কিলোমিটার এলাকার জন্য নতুন করে কোনো অর্থ বরাদ্দ হয়নি। যার ফলে সেখানে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ করতে পারে নি সেচ দপ্তর । যদিও এই ভাঙ্গন হওয়ার পিছনে কেন্দ্র সরকারের অধীনস্থ সংস্থা ফারাক্কা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষেই দুষেছেন সেচ দপ্তরের কর্তা থেকে গ্রামবাসী সকলেই। এতদিন কেন্দ্র সরকারের ওই এজেন্সি কালিয়াচক ৩ ব্লকের পারদেওনাপুর এলাকায় গঙ্গার ভাঙন প্রতিরোধের কাজ করে এসেছে। কিন্তু হঠাৎ করে ফরাক্কা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ ভাঙ্গন প্রতিরোধে কাজ থেকে সরে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের কথা ভেবেই রাজ্য সরকার প্রাথমিক পর্যায়ে এক কিলোমিটার বাঁধ মেরামতের জন্য ১২ কোটি টাকা বরাদ্দ করে । সেই টাকা দিয়েই সেচ দপ্তর কাজ সম্পূর্ণ করেছে। শোভাপুর - পারদেওনাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তত ২৫ টি গ্রামের মানুষ এই ভাঙ্গন নিয়ে রীতিমতো আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। সেচ দপ্তরের মালদার ইঞ্জিনিয়ার বলেন, পারদেওনাপুর থেকে খাসপাড়া পর্যন্ত অনেক জায়গায় ভাঙ্গনে ক্ষতি হয়েছে। রাত জেগে সেই সমস্ত জায়গায় অস্থায়ী ভাবে বাঁধ মেরামতির কাজ চলছে। কোথাও বালির বস্তা দিয়ে, আবার কোথাও মাটি ফেলে এই কাজ করা হচ্ছে। রাজ্য সরকারের বরাদ্দ অর্থে যে কাজ হওয়ার কথা ছিল, সেটি সম্পূর্ণ করে ফেলা হয়েছে। কিন্তু নতুন করে মন্ডলপাড়া, দেওনাপুর সহ আরো কয়েকটি এলাকার পাঁচ কিলোমিটার জায়গায় নতুন করে ভাঙন হচ্ছে । সেই ভাঙ্গনকবলিত জায়গার কাজের জন্য যদিও এখনও নতুন করে কোনো অর্থ বরাদ্দ হয় নি। পুরো বিষয়টি রাজ্য প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।

No comments:
Post a Comment