সন্তান জন্মদানে অক্ষম পুরুষদের জন্য জিংক - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Wednesday, 5 September 2018

সন্তান জন্মদানে অক্ষম পুরুষদের জন্য জিংক



 ঢাকায় পরিচালিত সাম্প্রতিক এক গবেষণার পরিশেষে সন্তান জন্মদানে পুরুষের সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি উপাদান হিসেবে জীঙ্কের অপরিহার্যতার কথা উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, সক্ষমতার ক্ষেত্রে পুরুষের বীর্যে জিঙ্কের উপস্থিতির পরিমাণ একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্ণায়ক হিসেবে কাজ করে।
‘ইমপ্যাক্ট অব সেমিনাল প্লাজমা জিঙ্ক অ্যান্ড সিরাম জিঙ্ক লেভেল অন সিমেন প্যারামিটার অব ফারটাইল অ্যান্ড ইনফারটাইল  মেলস’- শিরোনামের এ গবেষণাটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) বায়োক্যামেস্ট্রি ডিপার্টমেন্টের সেন্টার ফর অ্যাসিসটেড রিপ্রোডাকশন বিভাগে পরিচালিত হয়।
গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
এতে প্রভাব বিস্তারকারী মোট ১৬ জন সক্ষম পুরুষ এবং ৬৯জন অক্ষম বা বন্ধ্যা পুরুষের -এ দুটি দলের  ওপর এ গবেষণা চালানো হয়। এসময় এ উভয় দলের পুরুষদের বীর্যে সিরাম জিঙ্ক এবং প্রজনক প্লাজমা জিঙ্কের উপস্থিতির পরিমাণ (বা মাত্রা) পরিমাপ বা পরীক্ষা করা হয়েছে।
এ গবেষণার প্রধান গবেষক হিসেবে প্রফেসর পারভিন ফাতিমা  পরীক্ষার ব্যাখায় বলেছেন, ‘ এ গবেষণার মাধ্যমে আমরা সন্তান জন্মদানে  সক্ষম পুরুষ দলের (রক্তে ) সিরাম জিঙ্কের পরিমাণ অক্ষম পুরুষদের তুলনায় কম পেয়েছি। সেক্ষেত্রে সক্ষম পুরুষদের তুলনায় অক্ষম পুরষদের (বীর্যে) প্লাজমা জিঙ্কের পরিমাণ উচ্চমাত্রায় পাওয়া গেছে। যা পরিসংখ্যানগতভাবে নির্দিষ্ট করা যায়নি।’
প্রকৃতির স্বভাবানুযায়ী, পুরুষের বীর্যে শুক্রাণু কোষ গঠনের ক্ষেত্রে একটি অপরিহার্য উপাদান হিসেবে নির্ণায়ক জিঙ্ক এবং টেসটসটেরোন হিসেবে পরিচিত প্রাণীদেহে উপস্থিত জৈবযৌগের মতো যৌন হরমোনসমুহ। এ উপাদানগুলোর অভাবে পুরুষের প্রজনন অঙ্গসমূহের (টেস্টিকুলার) কার্যকারিতা কমে যায় যা প্রজননে অক্ষম পুরুষদের অক্ষমতার জন্য দায়ী কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি।
এ প্রসঙ্গে প্রফেসর ফাতিমা ব্যাখা করে বলেন, ‘ বীর্যে উচ্চমাত্রার প্রজনক প্লাজমা জিঙ্কের সমাবেশ শুক্রাণু গণনার ক্ষেত্রে একটি ইতবাচক পারম্পার্য তৈরি করে, একইসঙ্গে শুক্রাণুর  ক্রিয়াশীলতার ক্ষেত্রে উপযুক্ত পরিমাণে সিরাম টেসটসটেরোনের মাত্রার প্রভাব অধিক গুরুত্বপূর্ণ । এটি বাইরের ঘন তন্তুসমূহ দিয়ে সালফার অণু দ্বারা দৃঢ় সেতুবন্ধন গঠনে অথবা শুক্রাণুর পরিপক্কতার ক্ষেত্রে প্রেটিন অণুসমুহের বন্ধন শক্তিশালী করতে সাহায্য করে থাকে। যা শুক্রাণুর ক্রিয়াশীলতা বজায় রাখার মাধ্যমে এর বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। বিশেষ করে এ গবেষণায় শুক্রাণুর অগ্রসরমান ক্রিয়াশীলতার ক্ষেত্রে যা দেখা গেছে।’
শুক্রাণুর উৎপাদন, পরিপক্কতা এবং  ক্রিয়াশীলতার ক্ষেত্রে জিঙ্কের স্বল্পতা প্রভাব ফেলে। একই সঙ্গে এটি পরিপক্ক শুক্রাণুর জীবন্ত কোষসমুহের উর্বরতার সক্ষমতাও নিশ্চিত করে থাকে।
এ গেবষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রাথমিকভাবে মূত্রথলিতে প্রোস্টেট ফ্লুইড নিঃসরণের কারনে বীর্যে উচ্চমাত্রায় জীঙ্কের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
বীর্যের বিভিন্ন পরিমাপকের ওপর সুনিদিষ্ট প্রভাব রাখার মধ্য দিয়ে এর উর্বরতা বৃদ্ধিতে অবদান রাখে জিঙ্ক। প্রজনক প্লাজমা কোষের ঝিল্লি স্থির রাখার ক্ষেত্রে এবং নিউক্লিয়ার ক্রোমাটিন অথবা জটিল প্রেটিনসমূহ একত্রিত করার মধ্য দিয়ে রীতিবদ্ধ শুক্রাণুর কোষসমূহকে স্বাভাবিকভাবে জীবন্ত রাখার ক্ষেত্রেও জিঙ্ক কাজ করে।
এদিকে সন্তান জন্মদানে সক্ষম পুরুষদের দলে, সব পরিমাপকই ইতিবাচক সম্পর্ক প্রমাণ করেছে। তবে অক্ষম পুরষদের ক্ষেত্রে শুক্রাণুর অঙ্গসংস্থান ছাড়া আর সব পরিমাপক নেতিবাচক সম্পর্ক প্রদর্শন করেছে। এর পাশাপাশি সক্ষম পুরুষ দলে কেবলমাত্র  বীর্যের ক্রিয়াশীলতার ক্ষেত্রে  একটি সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যানগত সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া গেলেও  বন্ধ্যা বা অক্ষম দলের পুরুষদের বেলায় কিছুই পাওয়া যায়নি।
মানব দেহে মোট মিলিয়ে দুই গ্রাম পরিমাণ জিঙ্ক রয়েছে। একজন প্রাপ্ত বয়স্ক নারীর জন্য প্রতিদিন কমপক্ষে ১০ মাইক্রোগ্রাম জিঙ্ক এবং একজন প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষের জন্য ১২ মাইক্রোগ্রাম জিঙ্ক প্রয়োজন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) হিসেব মতে, জিনের অভাব বিশ্বের জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ (প্রায় দুই বিলিয়ন মানুষ) জিঙ্ক স্বল্পতায় ভুগছে। বিভিন্ন অঞ্চলভেদে এর ব্যাপকতার হার  চার থেকে ৭৩ শতাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত ।
এ গবেষণায় পরিশেষে দেখা গেছে, জিঙ্ক বীর্যের বিভিন্ন পরিমাপকের  উপর তার উল্লেখযোগ্য প্রভাব রাখার মধ্য দিয়ে উর্বরতা তৈরিতে অবদান রাখতে পারে।  পাশাপাশি এতে এও প্রমাণিত হয়েছে যে, অক্ষম বা বন্ধ্যা পুরুষদের চিকিৎসাসেবা বা তথ্যানুসন্ধানের ক্ষেত্রে প্রজনক প্লাজমা  জিঙ্কের সংখ্যা সহায়তা করতে পারে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad