বাম হাতে ঘড়ি পরার পেছনের ইতিহাস! - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Friday, 21 September 2018

বাম হাতে ঘড়ি পরার পেছনের ইতিহাস!

বামহাতে ঘড়ি পরার পেছনের ইতিহাস!
আমাদের মাঝে অধিকাংশ মানুষ ঘড়ি বাহাতে পড়তেই বেশি পছন্দ করেন। কিন্তু এর পেছনেও কিন্তু অনেক কারণ রয়েছে। বেশ কিছু স্টাডির পর একদল গবেষকের মনে হয়েছিল শরীরের গঠনকে যদি গুরুত্ব দেওয়া হয়, তাহলে ছেলেদের নাকি ডান হাতে এবং মেয়েদের বাঁহাতে ঘড়ি পরা উচিত কিন্তু তবুও এই নিয়মটা কেউ মেনে চলে না কেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ইতিহাসের দিকে নজর ফেরাতে হবে। আর এমনটা করলে জানতে পারবেন যখন ছোট ঘড়ির জন্ম হয়েছিল, তখন বেশিরভাগই তা পকেটে রাখতেন। তাই তো পকেট ঘরির চল সে সময় বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।
কবজিতেও যে ঘড়ি পরা যেতে পারে, সে বিষয়ে কারওই সে সময় কোনও ধারণা ছিল না। তবে বোর যুদ্ধের সময় একদল সৈনিক চামড়ার স্ট্র্যাপে ঘড়ি আটকে কবজিতে পরা শুরু করলো। তাদের মূল লক্ষ ছিল মিলিটারি অপারেশনের প্রতি মিনিটকে নথিবদ্ধ করা। আর এমনটা করতে গেলে বারে বারে পকেট থেকে ঘড়ি বার করা ছিল বেজায় মুশকিল কাজ। তাই তো সে সময় থেকে শুরু হল কবজিতে ঘড়ি পরা।
একথা ঠিক যে হাত ঘড়ির জন্ম লগ্ন থেকেই বাঁহাতে ঘড়ি পরা শুরু হয়েছিল। কারণ ছিল একটাই। আসলে সে সময়কার হাত ঘড়ি ছিল বেজায় বড় এবং ভঙ্গুর। তাই সহজেই যাতে কোথায় ঠোকা লেগে ঘড়িটা ভেঙে না যায়, তা সুনিশ্চিত করতেই বাঁহাতে ঘড়ি পরা শুরু হয়েছিল। কারণ বিভিন্ন কাজ করতে ডান হাত যতটা কাজে লাগে, ততটা কিন্তু বাঁহাত কাজে আসে না। তাই যদি বাঁহাতে ঘড়ি পরা যায়, তাহলে ভাঙার আশঙ্কা কম। তাই সেই শুরু। তারপর থেকে যত সময় এগিয়েছে বাঁহাতের ঘড়ি পরার চল জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
ইতিহাস ঘেঁটে বাঁহাতে ঘড়ি পরার কারণ সম্পর্কে ধারণা করা গেলেও এ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট উত্তর পাওয়া সম্ভব বিজ্ঞানের হাত ধরেই। একাধিক গবেষণার পর এই বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই যে সিংহভাগ মানুষই ডান হাতে কাজ করতে বেশি স্বচ্ছন্দ। আর ডান হাতি মানুষদের চোখের গতিবিধি বিচার করলে একথা বুঝতে অসুবিধা হয় না যে বাঁহাতে ঘড়ি পরলে সহজে সময় দেখা সম্ভব হয়। আর যদি ডান হাতে ঘড়ি পরা হয়, তাহলে কাজ করতে করতে যদি সময় দেখার প্রয়োজন পরে, তাহলে কাজ থামিয়ে তা করতে হবে, যা বাঁহাতে ঘড়ি পরলে করার প্রয়োজন পরে না। তাই বেশিরভাগই বাঁহাতে ঘড়ি পরা শুরু করলো। এক সময়ে ঘড়িকে বাঁচাতে যেখানে বাঁহাতে ঘড়ি পরা শুরু হয়েছিল। সেখানে এক সময়ে এসে তা প্রয়োজনে রূপান্তরিত হল। আর একসময় এই প্রয়োজন কখন যে অভ্যাসের রূপ নিলো, তা অনেকেরই জানা নেই!

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad