উন্মত্ত যৌন মিলন - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Saturday, 8 September 2018

উন্মত্ত যৌন মিলন


একেক দেশের একেক রীতি প্রচলিত রয়েছে একেক বিষয়কে নিয়ে। পাশ্চাত্যে সংস্কৃতির মাত্রা ও ধারা একে বারেই ভিন্ন। তা সত্ত্বেও বার্লিনবাসীর এমন সংস্কৃতি ও আচরন অনেকটা চমকে যাবার মত। গভীর রাতে খোলা পরিবেশে উন্মত্ত যৌন মিলন, যার দর্শক শুধু  নিরব প্রকৃতি এমন হলেও না হয় মানা যেত৷ কিন্তু প্রকাশ্যে দিনেরবেলা এরকম মিলন দৃশ্য বোধহয় শোভনীয় নয়৷  বিশেষ করে যাঁরা যৌনতাকে  দরজার আড়ালে, চার দেয়ালের মধ্যে রাখতে পছন্দ করি, তাঁদের জন্য বিব্রতকরও চরম আপত্তিজনক। 
তবে বার্লিনে কিন্তু নগ্নতাবাদ, জার্মান ভাষায় যাকে বলে ‘ফ্রাইকর্পারকুলট্যুর’ নতুন নয় ৷ ১৯২০ সালের দিকে প্রতিবাদের অংশ হিসেবে সেখানে নগ্ন দেহের প্রদর্শনী শুরু হয়৷  আর নগ্নতা বিষয়ক প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মেলনও অনুষ্ঠিত হয় বার্লিনে, ১৯২৯ সালে৷
২০১৩ সাল, মানে চলতি বছর খোলা আকাশের নীচে সঙ্গম প্রতিরোধে বেশ সক্রিয় পুলিশ৷ সামাজিক ন্যায়বিচারের স্বার্থে এটা করছে তারা৷  কিন্তু প্রতিরোধ সহজ নয়৷  সাইকেল চালিয়ে যাওয়ার পথে কিংবা গাড়ি থামিয়ে হঠাৎ হয়ত কোনো জুটি কোথাও শুরু করে দিল সঙ্গম৷  ফলে দ্রুত তাঁদের ঠেকানো কঠিন৷  তবে এই চর্চা বাড়ায় শহরের খানিকটা লাভও হচ্ছে৷  প্রকাশ্যে সঙ্গমরতদের ধরতে পারলেই আর্থিক জরিমানা করছে পুলিশ৷  এভাবে অনেক টাকা আয় হচ্ছে৷
অবশ্য জরিমানার ক্ষেত্রে নিয়ম খানিকটা শিথিল করেছে কর্তৃপক্ষ৷  বেকাররা এক্ষেত্রে ছাড় পাবে৷ রাস্তাঘাটে সঙ্গমরত অবস্থায় ধরা পড়লে তাঁদের জরিমানা ৩৪ ইউরো৷
 লিয়া ম্যাকডোনেল, ভয়েচে ভেলে  গ্রীষ্মে বার্লিন রূপ নেয় বিশাল, খোলা আকাশের নীচে পার্টির একটি স্থান হিসেবে৷ বার্লিনবাসীর  সাধারণ আচার  যা ঘরের মধ্যে করতে হয়, গ্রীষ্মে সেসব করেন ঘরের বাইরে।
বহু প্রতীক্ষিত হয় গ্রীষ্মের দিন গুলি তাদের কাছে। আর গ্রীষ্মের প্রথম প্রখর সূর্যোদয়কে বার্লিনবাসী মনে করেন সবুজ সংকেত৷ এই সংকেত পেয়ে তাঁরা নিজেদের যাবতীয় ব্যক্তিগত বিষয়াদি খোলা আকাশের নীচে নিয়ে যান৷ এই সবের মধ্যে তাঁদের শোবার ঘরও পরে৷
ফলে শোবার ঘরের কাজ বলে আমরা যা মনে করি, মানে যৌন মিলন, সেটাও বার্লিনবাসী  সেরে নেন প্রকাশ্যে,  খোলা আকাশের নীচে৷  এই ধারা আগে সীমিত পর্যায়ে পালিত হলেও ইদানিং তা   ক্রমশ বাড়ছে৷  আর এই কাজে স্থান বিবেচনার ক্ষেত্রে তাঁদের কোনো বাছবিচার নেই৷ পার্ক, রাস্তা, পার্কিং-এর জায়গা, নদীর পাড়, বাগান, এমনকি বাড়ির ছাদ – যেখানে সম্ভব সেখানেই শুয়ে পড়ছেন তাঁরা৷ এ এক আজব দৃশ্য।
এ বছর অবশ্য বার্লিনে গ্রীষ্ম একটু দেরিতে শুরু হয়েছে৷  ব্যাপক বৃষ্টিপাত এবং হঠাৎ ঠান্ডার জন্য এই পরিস্থিতি৷  তাসত্ত্বেও খোলা আকাশের নীচে যৌনাচার শুরু হয়ে গেছে পুরোদমে৷  বিষয়টি এত তীব্র আকার ধারন করছে যে শহর কর্তৃপক্ষও উদ্বিগ্ন বিষয়টি নিয়ে।
জার্মান পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য অনযায়ী, ২০১২ সালে মুক্ত পরিবেশে সঙ্গমে অংশ নেওয়া ২৩৯ ব্যক্তিকে জরিমানা করেছে পুলিশ৷  গড়ে তাঁদের দেড়শো ইউরো করে জরিমানা করা হয়েছে৷ আগের তিন বছরের তুলনায় জরিমানার এই হার প্রায় দ্বিগুন৷  বার্লিনের সবচেয়ে বড়, বিখ্যাত বাগানটি হচ্ছে ‘টিয়ারগার্টেন’ এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় ‘ট্রেপটাওয়ার পার্ক’৷  মুক্ত পরিবেশে শারীরিক মিলনের জন্য এই দু’টি জায়গাই বার্লিনবাসীর সবচেয়ে পছন্দ৷  টিয়ারগার্টেনের একটি অংশে মিলনে আগ্রহীদের ভিড় এত বেশি যে সেখানে পুলিশ বিশেষ নজরদারি ব্যবস্থা চালুতে বাধ্য হয়েছে৷
তবে বার্লিনের সব বাসিন্দাই যে এমনটা চান, তা কিন্তু নয়৷ অনেকেই আবার এটা পছন্দ করছেন না। সাধারণভাবে তাঁরা অত্যন্ত উদার হলেও অনেকে খোলা আকাশের নীচে এরকম সঙ্গম রোধ বা অন্ততপক্ষে নিয়ন্ত্রণের পক্ষে কথা বলছেন।  জার্মান আইনে অবশ্য পাবলিক প্লেসে নগ্ন হতে কোনো বাধা নেই৷ আরো বিভ্রান্তিকর ব্যাপার হচ্ছে, খোলা আকাশের নীচে যৌন মিলনেও আইন অনুযায়ী বাধা নেই – শুধু অন্তত একটি টাওয়েল ব্যবহার করে নিজেদের ঢেকে রাখতে হবে৷
যত জরিমানা ধার্যই হোক, থেমে নেই অবাধ যৌন মিলন আর কর্তৃপক্ষও থামাতে পারছে না একে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad