নগরীর ভাসমান তরুণ-তরুণীদের ৭২ শতাংশেরই একাধিক জনের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষণায় গত এক বছরের তথ্য নিয়ে জানা যায়, তাদের ২৩ শতাংশের এক জনের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করেছে।গবেষণায় গত এক বছরের তথ্য নিয়ে জানা যায়, তাদের ২৩ শতাংশের এক জনের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করেছে। এছাড়া ১১ শতাংশ দুই জনের সঙ্গে এবং ৬৬ শতাংশ তিন বা তারও অধিক জনের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক রক্ষা করে।
‘ঢাকা নগরীর ভাসমান যুবাদের যৌন আচরণ ও দুর্বলতা’ শীর্ষক গবেষণায় এ তথ্য উঠে আসে।
বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘যুব সম্প্রদায়ের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং অধিকার উন্নয়ন’ শীর্ষক সেমিনারে এ গবেষণা প্রকাশ করা হয়।
বেসরকারি সংস্থা লিঙ্ক আপ বাংলাদেশ, মেরী স্টোপস বাংলাদেশ ও পপুলেশন কাউন্সিল যৌথভাবে এ সেমিনার আয়োজন করে।
বেসরকারি সংস্থা পপুলেশন কাউন্সিলের পক্ষে গবেষণাটি তুলে ধরেন সংগঠনটির সহকারী প্রোগ্রাম অফিসার তারিক হোসেইন।
নগরীর গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল ভাসমান মানুষের বসবাস এলাকায় ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সের ৪৪৭ জন তরুণ-তরুণীর সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে গবেষণাটি করা হয়। ২০১৪ সাল থেকে এ গবেষণা শুরু হয়ে সম্প্রতি শেষ হয়।
গবেষণা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সের ভাসমান তরুণ-তরুণীদের ৭২ শতাংশ খোলা আকাশের নিচে বসবাস করে, আর ১৯ বছরের উপরে বাস করে ২৮ শতাংশ তরুণ।
তাদের মধ্যে রেলস্টেশনে বসবাস করে ২৭ শতাংশ, লঞ্চঘাটে ১৫ শতাংশ, রাস্তায় ও ফুটপাতে ৩৬ এবং বাসস্ট্যান্ড, পার্ক ও অন্যান্য স্থানে ২২ শতাংশ তরুণ-তরুণী রাত যাপন করে থাকে।
ভাসমান তরুণ-তরুণীদের ৬ শতাংশের সঙ্গে তাদের পিতা-মাতা বা অন্য অভিভাবক রয়েছে, আর ৯৪ শতাংশদের সঙ্গে কোন অভিভাবক নেই।
খোলা আকাশের নিচে একই স্থানে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছে এমন তরুণ-তরুণীর সংখ্যা ২ শতাংশ। আর অন্য শহর থেকে ঢাকায় এসেছে ৩৮ শতাংশ, তাদের মধ্যে গ্রাম থেকে এসেছে সবচেয়ে বেশি ৫৯ শতাংশ। ঠিকানা জানা নেই ১ শতাংশ তরুণ-তরুণীর।
তাদের মধ্যে একেবারে স্কুলে যায়নি ৪৬ শতাংশ, প্রাইমারি শেষ করতে পারেনি ৪৮ শতাংশ ও প্রাইমারি পর্যন্ত পড়াশুনা করেছে ৬ শতাংশ।
এ পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এসব তরুণ-তরুণীর মধ্যে ৯২ শতাংশ অবিবাহিত, ৭ শতাংশ বিবাহিত ও ১ শতাংশের ডিভোর্স হয়ে গেছে।
ভাসমান তরুণদের মধ্যে ৬-১০ বছর বয়সে কাজ শুরু করেছে ৪৫ শতাংশ, আর ১১ থেকে ১৯ বছর বয়সে ৫৫ শতাংশ ভাসমান তরুণ-তরুণী কাজ শুরু করেছে।
গবেষণায় দেখা যায়, ভাসমানদের পেশার মধ্যে ২৮ শতাংশের কাজ কুলি, দৈনিক মজুরিতে কাজ করে ৩০ শতাংশ, পরিবহন শ্রমিক ৬ শতাংশ, রেস্টুরেন্ট, হোটেল, ভ্যান চালকের সহযোগী ২২ শতাংশ ও কোন কাজ না করে ঘুরে বেড়িয়ে থাকে ১৪ শতাংশ তরুণ।
তাদের ৩৪ শতাংশের মাসিক আয় ৫ হাজার টাকার নিচে, ৫ থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে আয় ৫৬ শতাংশের। ১০ হাজার টাকার উপরে মাসিক আয় করে থাকে ১০ শতাংশ তরুণ।
এসব ভাসমান তরুণ-তরুণীর মধ্যে প্রথম সঙ্গীর (স্ত্রী/স্বামী) সঙ্গে সবশেষ যৌন মিলনে কনডম ব্যবহার করেছে ১২.২ শতাংশ, কনডম ব্যবহার করেনি ৮৭.৮ শতাংশ। অন্যদিকে, স্ত্রী ব্যতীত অন্যজনের সঙ্গে কনডম ব্যবহার করেছে ৫১.৭ শতাংশ, কনডম ব্যবহার করেনি ৪৮.৩ শতাংশ তরুণ।
কর্মক্ষেত্রে শারীরিকভাবে নির্যাতিতের শিকার হয়েছে ৭৭ শতাংশ।
অন্যদিকে, কর্মক্ষেত্রে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১২ শতাংশ।
গত ছয় মাসে স্বাস্থ্য সেবা নিতে ২২ শতাংশ সরকারি হাসপাতালে গিয়েছে। এছাড়া বেসরকারি ক্লিনিকে ১৩ শতাংশ, প্রাইভেট ক্লিনিকে ৩ শতাংশ, মোবাইল ক্লিনিকে ১ শতাংশ, অনিবন্ধিত ফার্মেসিতে ৬৩ শতাংশ, লিঙ্কআপ স্যাটেলাইট ক্লিনিকে ৪ ও অন্যান্য সেবা কেন্দ্রে ৩ শতাংশ তরুণ-তরুণী সেবা নিয়েছে।
গত ছয় মাসে স্বাস্থ্য সেবা নিতে ২২ শতাংশ সরকারি হাসপাতালে গিয়েছে। এছাড়া বেসরকারি ক্লিনিকে ১৩ শতাংশ, প্রাইভেট ক্লিনিকে ৩ শতাংশ, মোবাইল ক্লিনিকে ১ শতাংশ, অনিবন্ধিত ফার্মেসিতে ৬৩ শতাংশ, লিঙ্কআপ স্যাটেলাইট ক্লিনিকে ৪ ও অন্যান্য সেবা কেন্দ্রে ৩ শতাংশ তরুণ-তরুণী সেবা নিয়েছে।

No comments:
Post a Comment