সরকারি নথিতে লিখিত প্রতিশ্রুতি: পালন না করায় বিপাকে মালদা জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Tuesday, 25 September 2018

সরকারি নথিতে লিখিত প্রতিশ্রুতি: পালন না করায় বিপাকে মালদা জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি



অর্ক রায়, মালদা : ভোটে জিততে ভোটারদের লোভনীয় প্রতিশ্রুতি নতুন কোন ঘটনা  নয়। অন্তত এ দেশে সেটাই দস্তুর হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু ভোট বৈতরণী পার হওয়ার পর সে সব কথা মনে না রাখলেও কোন অসুবিধায় পরেন না ভোটে জিতে আসা নেতা-নেত্রীরা ! কিন্তু তাই বলে একেবারে সরকারি প্যাডে সই করে, সিল মেরে প্রতিশ্রুতি? আর পরে  ভোটে জেতার পর অন্যান্য নেতাদের মতো, সেই প্রতিশ্রুতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে  বিড়ম্বনায় মালদা জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি চন্দনা সরকার।

এবারে পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে,তখন তিনি মালদা জেলা পরিষদের কৃষি সেচ ও সমবায় স্থায়ী সমিতির প্রাক্তন কর্মাধ্যক্ষ। কালিয়াচক -৩ নম্বর ব্লকের দিনুটোলা গ্রামের মানুষদের অভিযোগ, জেলা পরিষদে তাঁকে জিতিয়ে আনলেই গ্রামে কমিউনিটি সেন্টার তৈরির জন্য তিন লক্ষ টাকা অনুদান দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন চন্দনা সরকার। নির্বাচনের মঞ্চে মাইকের সামনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে
 প্রতিশ্রুতি নয়, একেবারে সরকারি কাজে ব্যবহার হওয়া প্যাডে সই করে লিখিত প্রতিশ্রুতি। কিন্তু নির্বাচনে জেতার পর সেই চন্দনা সরকার এখন তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত মালদা জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি। নির্বাচনের আগে দেওয়া কথা না রাখায়, সেই সই করা প্রতিশ্রুতি পত্র নিয়ে মঙ্গলবার জেলা পরিষদে এসে ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা। গ্রামবাসীদের এহেন আচরণে প্রথমে হকচকিয়ে গেলেও পরে সমস্ত ঘটনা জানার পর যথেষ্টই অস্বস্তিতে জেলা প্রশাসন। অন্যদিকে গ্রামবাসীরাও অনর, বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও অভিযোগ জানাবেন বলে জানিয়েছেন, দিনু টোলার বাসিন্দারা।
অন্যদিকে অদ্ভুত বেআইনি ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনিক স্তরে । কারণ,সরকারি কাজে ব্যবহৃত হওয়া মালদা জেলা পরিষদের কৃষি সেচ ও সমবায় স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ চন্দনা সরকারের প্যাডে লেখা “দিনুটোলা ওয়ার্ড ও গ্রামের লোকের সুবিদার্থে কমিউনিটি হলের জন্য তিন লক্ষ টাকা জেলা পরিষদের ফান্ড থেকে দিলাম।” ভোটে জেতার জন্য এমন লিখিত প্রতিশ্রুতি দেখে চক্ষু চড়কগাছ জেলা পরিষদের সদস্য থেকে শুরু করে জেলার প্রশাসনিক কর্তাদের। কারণ রাজ্য সরকার বা জেলা পরিষদ কারও তরফেই এমন বরাদ্দের কথা কখনও ঘোষণা করা হয়নি। টাকা বরাদ্দ হলেও সেই টাকা উন্নয়নমূলক খাতে খরচ করতে হলে নির্দিষ্ট সরকারি বিধি ও পদ্ধতি রয়েছে। সেখানে শুধু ভোট পেতে এমন অদ্ভুত কাণ্ডটা তিনি করলেন কি করে ?

যদিও চন্দনাদেবী দাবি করেছেন,  এটা নাকি একেবারেই ভুলবশত করে ফেলা। তিনি বলেন, “ভোটারদের বিশ্বাস করাতেই এমন প্রতিশ্রুতি এ ভাবে লিখে দিতে বাধ্য হয়েছিলাম।”
আর এই বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন জেলার বিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃত্ব থেকে সাধারণ ভোটার সকলেই, তাদের প্রশ্ন ভোটে জিততে অনেক বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ,এমনকি অনেক নেতা ও বিভিন্ন সময় মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দেন ভোটারদের। কিন্তু এভাবে সরকারি প্যাড ব্যবহার করে লিখিত প্রতিশ্রুতি! ভোটারদের বিশ্বাস ভঙ্গ! এ তো শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কিন্তু এত বড় অপরাধ করার পরও অভিযুক্তর বিরুদ্ধে কোন ধরনের প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক ব্যবস্থা নেয়া হয় কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad