নেহরুর গলায় মালা পরিয়ে সমাজচ্যুত হয়েছেন যে নারী - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Monday, 1 October 2018

নেহরুর গলায় মালা পরিয়ে সমাজচ্যুত হয়েছেন যে নারী

নেহরুর গলায় মালা পরিয়ে সমাজচ্যুত হয়েছেন যে নারী
ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর গলায় মালা পরিয়েছিলেন তিনি। সাঁওতাল কুমারি হয়ে পুরুষের গলায় মালা পরানোয় সমাজ ধরে নেয় বিয়ে হয়ে গেছে তাদের। কিন্তু নেহরু সাঁওতাল না হওয়ায় অন্য জাতে বিয়ে করার অপরাধে সমাজচ্যুত করা হয় বুধনি নামের এই নারীকে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার দীর্ঘ ৫৮ বছর পর ওই নারীর খবর প্রকাশ্যে এনেছে। সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, ১৯৫৯-এর ৬ ডিসেম্বর দামোদর নদের উপর নির্মিত একটি বাঁধের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ওই মালা পরিয়েছিলেন এই নারী।
একই সঙ্গে জানা গেছে ৭৮ বছর বয়সী জীবনভর নানা বঞ্চনার কাহিনী। সেই বঞ্চনায় জন্ম নিয়েছে ক্ষোভ। আর সেকারণেই কিছুদিন আগে ফিরিয়ে দিয়েছেন বলিউড পরিচালকের বায়োপিক বানানোর প্রস্তাব।
জানা যায়, ১৯৫৯ সালে দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন নির্মিত পাঞ্চেত বাঁধের উদ্বোধন করেন জওহরলাল নেহরু। সেই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে স্থানীয় রাবণ মাঝির সঙ্গে নির্বাচিত হয়েছিলেন সেদিনের ১৫ বছর বয়সী সাঁওতাল কিশোরী বুধনি। অনুষ্ঠানে নেহরুর গলায় মালা পরিয়ে দেন তিনি। খুশি হয়ে সেই বাঁধ উদ্বোধনের সুইচ টিপতে দেয়া হয়েছিল ওই কিশোরীকে।

খুশি হয়ে বাড়ি ফিরে বুধনি পেয়েছিলেন তিক্ত অভিজ্ঞতা। গ্রামের মোড়লেরা রায় দিলেন অজাতে বিয়ে করেছেন তিনি। শাস্তি হিসেবে সমাজচ্যুত করে একঘরে করে দেওয়া হয় তাকে।
তবে নেহরু তাকে আশ্বাস দিয়েছিলেন, সারাজীবন তার চাকরি থাকবে। তবে তা থাকেনি তার। দামোদর ভ্যালি করপোরেশনের কর্মী হিসেবে কাজ শুরুর পর ১৯৬২ সালে চাকরি হারান তিনি। পরে অবশ্য ১৯৮৫ সালে রাজীব গান্ধীর হস্তক্ষেপে ওই চাকরিতে পুর্নবহাল হন। এখনও সেখানে কর্মরত তিনি।
সমাজচ্যুত হওয়ার পর সুধীর দত্ত নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে আশ্রয় পেয়েছিলেন এই বুধনি। পরে একটি মেয়ে হলেও সেও সাঁওতাল সমাজে ঠাঁই পায়নি।
বুধনির প্রতিবেশীরা জানান, ‘কয়েক দিন আগে মুম্বাই থেকে একজন পরিচালক তার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। তিনি তার বায়োপিক করতে চান। অনেক টাকা অফার করা হয়েছিল বুধনিকে। কিন্তু টাকার অঙ্ক মোটা হলেও তিনি রাজি হননি।’
৭৮ বছরের বুধনি এখন নানা রোগে আক্রান্ত। বহু দিন আগেই ভাত খাওয়ার অভ্যেস ছেড়েছেন। যদিও রান্না করা থেকে কাপড় কাচা, ঘর পরিষ্কার করা— এই বয়সেও তিনি নিজের হাতে করেন। সাঁওতাল সমাজের অনেক কিছু এখন পরিবর্তন হলেও ওই ঘটনার পর কখনই নিজের সমাজে ফেরেননি এই নারী।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad