দেখুন: খড়,মাটির দূর্গা নয়! কাপড় ও রং তুলির দূর্গাপূজা - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Wednesday, 3 October 2018

দেখুন: খড়,মাটির দূর্গা নয়! কাপড় ও রং তুলির দূর্গাপূজা


অন্য দুর্গা!পট দুর্গা! তুলি রঙ আঁকা মা দূর্গা পুজো ,হ্যাঁ এটাই সত্য ! মূর্তি বলে কিছু নেই।খড়, মাটি নয় শুধু কাপড় আর রং তুলি দিয়ে আঁকা মা দুর্গার ছবি বসিয়ে ঘটা করে করা হয় পুজো ।এই ভাবেই দীর্ঘ সাড়ে তিনশো বছরের ধরে রং তুলি দিয়ে আঁকা মা দুর্গার ছবি তে পুজো হয়ে আসছে জামুড়িয়ার ইকড়া গ্রামের বিন্দুবাসিনী মন্দিরে ।এই অন্য রকম পুজো দেখতে আশেপাশের অঞ্চলের মানুষ ভিড় করেন ।সময় এর কবলে এই পূজা জৌলুষ কমলেও ঐতিহ্য এখনো অম্লান। ঠিক কবে থেকে এখানে পূজো চালু হয়েছে কেউ বলতে পারে না। কিন্তু পুজো পাট যে বহু পুরনো সেটা স্বীকার করেন সকলেই। শ্রুতি আছে এখানে আগে মাটির দূর্গা পুজা হত ।বহুকাল আগে বিন্দ্য পর্বত থেকে এক সাধু হঠাৎ ইকরা গ্রামে এসে ওঠেন ।পুজোর সময় মন্দিরের বাইরে সাধুটি কে দেখে অবাক হন বাসিন্দারা ।সেদিন আগন্তুক পরিযায়ী সাধু অষ্টধাতুর মূর্তি দিয়ে বলেছিলেন আজ থেকে তোরা এটাকে মা দুর্গা রূপে প্রতিদিন পুজো করবি। আর কখনও বিসর্জন দিবি না ।অষ্টধাতুর মূর্তি পিছনে একটা দুর্গামূর্তি একে রাখবি ।সেই থেকে মন্দিরের নাম বিন্দুবাসিনী মন্দির নামে পরিচিত হয় বলে বাসিন্দাদের দাবি ।আজও এখানে কাপড়ে আঁকা পটের দুর্গা পুজো হয়ে আসছে ।কথিত আছে প্রথমেই পুজো চ্যাটার্জী পরিবারের থাকলেও পরে দোহিত্র সূত্রে ব্যানার্জি ও চক্রবর্তী পরিবারের পরিচালনা চলে পুজো। ইতিহাস মেনে প্রথমে অনিল সূত্রধর পরে সুকুমার চাটার্জী এবং বর্তমানে অলোক চক্রবর্তী এই ছবি এঁকে আসছেন। অলোক চক্রবর্তী পেশায় ইসিএল কর্মী ।তিনি কখনও ছবি আঁকেননি। দুর্গার মূর্তি ছাড়া অন্য কোনো ছবি আঁকতেও পারেন না ।

অলোক চক্রবর্তী জানান,৩০ বছর আগে তিনি যখন ছোট ছিলেন বাদল চ্যাটার্জী তাকে ছবিটা আঁকতে বলেন ।তখন অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ থাকার জন্য পুরনো ধুতি কেচে তার ওপর দুর্গামূর্তি আঁকতেন ।সময়ের সঙ্গে বর্তমানে নতুন কাপড়ের উপর ফেব্রিক এবং দামি রং ব্যবহার করেন। তিনি দাবি করেন মায়ের আশীর্বাদে গত ৩০ বছর ধরে তিনি এই কাজটি করে আসছেন এবং অদূর ভবিষ্যতেও যতদিন পারবেন তিনি এই কাজটি করে যাবেন। তার আক্ষেপ তার একমাত্র ছেলে যদি এই প্রথা চালিয়ে যেতে না পারেন ।
এই দুর্গাপূজা ঐতিহ্য হলো পুজো হয়ে গেলেও কাপড়ের দূর্গার্টি বিসর্জন হয় না রেখে দেওয়া হয় মন্দিরে ।পরেরবার নতুন পটের দূর্গা এলে দশমীর দিন পুরাতন পটের দুর্গা বিসর্জন দেওয়া হয় ।ইতিহাস মেনে আজও চলে আসছে ।অলোক বাবু জানান, যখন তার ঘর থেকে কাপড় আঁকা দুর্গা নিয়ে চলে যায় তখন যেন মনে হয় নিজের মাকে ঘর থেকে বের করে দিচ্ছি ।মনটা ভারি হয়ে যায়।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad