মানুষকে মেরে আমি বাংলাদেশকে জল দেব না । পরপর তিন দিন তিনটি জনসভা থেকে এভাবেই ভারত বাংলাদেশ তিস্তা চুক্তি নিয়ে নিজের অনড় অবস্হান দিল্লি এবং ঢাকাকে জানিয়ে দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবারও আলিপুরদুয়ারের বীরপাড়ায় একটি সভা থেকে মমতা বলেন ‘বাংলাদেশকে আমিও পানি দিতে চাই। আমি বাংলাদেশকে ভালবাসি। যেখানে পানি আছে সেখান থেকে দেবো। যেখানে নেই সেখান থেকে দেবো কি করে?’ তিনি জানান ‘বাংলার মানুষগুলোকে মেরে, বাংলার মানুষের সঙ্গে বেইমানি করে বাংলাদেশকে পানি দিতে পারবো না।
রাজ্যের স্বার্থ ক্ষুন্ন হবে-এই মনোভাব নিয়ে ২০১১ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং’এর ঢাকা সফরসঙ্গী হয় নি মমতা। এরপর হাজার চেষ্টা করেও তার পুরোনো অবস্থান থেকে নড়ানো যায় নি। সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি সফওে তার সঙ্গে একান্ত বৈঠকেও তিস্তার পানি বন্টনে সায় দেন নি মমতা। পরিবর্তে বিকল্প প্রস্তাব দেন তিনি। যদিও সেই প্রস্তাবে সাড়া দেয় নি হাসিনা। কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে হাসিনার সফর শেষের পর রাজ্যের প্রায় প্রতিটি সভা থেকেই তিস্তা ইস্যুতে সরব হচ্ছেন মমতা। তার পক্ষে যে কোন ভাবেই তিস্তার পানি দেওয়া সম্ভব নয় প্রতিদিনই নতুন করে সেকথা জানিয়ে দিচ্ছেন রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী।
দুই দেশের সরকারকে উদ্যেশ্য করে মুখ্যমন্ত্রী জানান ‘আমার গাজলডোবার ওপরে অনেকের নজর আছে দেখছি। চার বছর ধরে গাজলডোবা করেছি। তিন হাজার কোটি রুপ্রি প্রজেক্ট। গাজলডোবাই যদি তোমাদের দিয়ে দিই, সব কাজ যদি বন্ধ হয়ে যায়-তবে শিলিগুড়ি, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি পানি পাবে না।
ফারাক্কা ইস্যুতে তিনি বলেন ‘২৫ বছর আগে ফারাক্কা থেকে বাংলাদেশকে যখন পানি দেওয়া হল তখন বলা হল ৭০০ কোটি রুপি দেওয়া হবে। কিন্তু আজ পর্যন্ত সেই রুপি তো দিলই না, উল্টে কয়েকশত গ্রাম পানির তলায় তলিয়ে গেল’।
এদিনের সভা থেকে ছিটমহল প্রসঙ্গটি তুলে মমতা বলেন ‘ছিটমহলে বাংলাদেশের ৭ হাজার একর জমি ছিল, আর বাংলার ১০ হাজার একর জমি ছিল। কিন্তু বাংলাদেশকে ভালবাসি বলেই আমরা পেয়েছি ৭, দিয়েছি ১০’।
No comments:
Post a Comment