ফতোয়া দিয়েই সংবাদ শিরোনামে টিপু সুলতান মসজিদের ইমাম নরুর রহমান বরকতি। একের এক চোখ মোটা ফতোয়া দিয়েই দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশেও মুখরোচক হয়েছেন। সচেতনরা বলছেন রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের অমান্য করে সমাজকে ঔধ্যত্বের বার্তা দিয়েছেন বরকতি। অনেকেই আরও এক ধাপ এগিয়ে বিভিন্ন মহলের দাবি, ইমামের রাষ্ট্রীয় আইন না মানা মানসিকতা থেকে কালিয়াচক এবং ধুলাগড় ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে সেই দায় কে নেবে।
মসজিদের ইমাম হয়ে যেভাবে শাসকের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বিরোধিতা করছেন বরকতি তাও নাকি নজিরবিহীন। শুক্রবার বরকতি বলেছেন, দেশের সেক্যুলার শক্তি নিয়ে আরএসএস এর বিরোধিতা করবেন। আরএসএস যা করছে তা চলতে থাকলে সেক্যুলার শক্তিকে নিয়ে জেহাদ ঘোষণা করবেন। বরকতি এদিন জেহাদ শব্দের ব্যাখ্যা যা দিয়েছেন তাও নিজের মত করে। ইমামের ভাষায় জেহাদ হল বিরোধিতা করা।
লালবাতি লাগানো গাড়ি চড়ে ঘোরা নিয়ে তাঁকে নিয়ে বিতর্ক এখন তুঙ্গে। কিন্তু কোনওভাবেই পিছপা হঠতে রাজি নন টিপু সুলতান মসজিদের ইমাম নরুর রহমান বরকতি।
বরকতির গ্রেফতার দাবিতে বিক্ষোভও দেখায় বিজেপি। তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআরও হয়েছে। এমনকি লালবাজার অভিযানেরও ডাক দেয় বিজেপি। এর মধ্যেই ফের মুখ খুললেন টিপু সুলতান মসজিদের ইমাম।গাড়ি থেকে লালবাতি খেলা নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি আজ বলেছেন প্রধানমন্ত্রী কমান্ডো নিরাপত্তা ছেড়ে দিলে তিনিও লালবাতি ছেড়ে দেবেন। পাশাপাশি তিনি আজ বলেন, লালবাতি নিয়ে আমার কেউ কিছু করতে পারবে না। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যও কিছু করতে পারেননি। আমার কেউ কিছু করতে পারবে না। আমাকে কেউ ধরতে পারবে না।এদিন বরকতি বলেন, আরএসএস যদি হিন্দুরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় তাহলে আমরা তার বিরোধিতা করব। আমি শাহি ইমাম। তারপরেও আমার বিরুদ্ধে সরব বিভিন্ন মহল। তাহলে সাধারণ মুসলিমের কী অবস্থা হবে একবার ভাবুন। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন লালবাতি লাগানো গাড়ি আর কেউ ব্যবহার করতে পারবেন না। একমাত্র রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি, লোকসভার স্পিকার ও দেশের প্রধান বিচারপতি ছাড়া সবাই এই নিয়মের আওতায় পড়বেন। এরকম এক অবস্থায় বরকতির দাবি, তাঁকে লালবাতি লাগানোর অনুমতি দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে কারও কথায় তিনি তা খুলবেন না। এনিয়ে এখন বিতর্ক তুঙ্গে। কিন্তু কিছুতেই তিনি মুখ বন্ধ করছেন না শাহি ইমাম।

No comments:
Post a Comment