পাঁচ বছর আগে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে দিল্লি এসেছিলেন মমতা ব্যানার্জি। বৈঠক করেছিলেন সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে। এবারও একই উদ্দেশ্য নিয়ে ১০ জনপথে কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে দেখা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তবে এবারের মমতা রাজনৈতিকভাবে অনেক বেশি সচেতন। তাই সোনিয়ার সঙ্গে বৈঠক শেষে মমতা জানালেন, ‘বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে, যার মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনও ছিল। তবে কোনও নাম নিয়ে আলোচনা হয়নি। প্রার্থী যিনিই হোন তিনি হবেন সর্বসম্মত। এই বিষয়ে বিরোধী দলের সঙ্গেও কথা বলতে হবে। আগামী সপ্তাহে আবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বৈঠক হতে পারে।’ বৈঠকে কংগ্রেস সহসভাপতি রাহুল গান্ধীও উপস্থিত ছিলেন।
জুলাই মাসের মধ্যেই সেরে ফেলতে হবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। শুধু মমতাই নন, অন্য বিরোধী নেতারাও বিষয়টি নিয়ে সক্রিয়। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার যেমন জানিয়ে দিয়েছেন, প্রণব মুখার্জি রাষ্ট্রপতি হিসেবে পুননির্বাচিত হলে তিনি খুশি হবেন। কংগ্রেসও চায় প্রণব মুখার্জিকে সমর্থন করতে। তবে প্রণববাবু রাজি থাকলে তবেই তা করা হবে। এদিকে বর্তমান রাষ্ট্রপতি জানিয়ে দিয়েছেন, কেন্দ্রের শাসক দল না চাইলে তিনি রাষ্ট্রপতি পদে দাঁড়াবেন না। বিজেপি সূত্র বলছে, এখনও রাষ্ট্রপতি হিসেবে কোনও নাম স্থির করতে পারেনি তারা। গোপন সূত্রের খবর, এবার রাষ্ট্রপতি পদে তাদের পছন্দের কাউকে বসাতে চাইছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ। তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কিছু ভোটের ঘাটতি নিয়ে চিন্তিত শাসক দল। এমনিতে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে কংগ্রেসের মধ্যে গোপালকৃষ্ণ গান্ধী ও হামিদ আনসারির নাম ঘোরাফেরা করছে। নীতিশ কুমার, সীতারাম ইয়েচুরির মতো নেতাদেরও এ ব্যাপারে সমর্থন রয়েছে। সোনিয়া অখিলেশ যাদব, লালু প্রসাদের মতো নেতাদের সঙ্গে কথা সেরে নিয়েছেন। এদিন কথা বলে নিলেন মমতার সঙ্গে। এখানেই অনেকে মনে করছেন, বিরোধী জোটের সর্বসম্মত প্রার্থী ঠিক করতে জাতীয় নির্ধারক শক্তি হয়ে উঠবেন মমতা।
তবে এবার মমতা আগে থাকতে কোনও নাম ভেবে নিয়ে আসেননি। তাই, সোনিয়া–মমতার বৈঠকের পরেই প্রার্থী বাছাইয়ের পথ নির্দেশিকা তৈরি হবে। সে কারণেই মমতা ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে আবার বৈঠক হতে পারে। তৃণমূল সূত্র কিন্তু বলছে, প্রণববাবু আর এক বার প্রার্থী হলে মমতা খুশিই হবেন। কারণ মমতার সঙ্গে প্রণববাবুর সম্পর্ক বেশ ভাল। কিন্তু শাসকদল কিংবা কংগ্রেস তথা বিরোধী শিবির কী ভাবছে সেটা দেখেই মমতা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চাইছেন। সেই কারণেই দিল্লি বিমানবন্দরে গতকাল নেমেই মমতা বলেছিলেন, ‘এটা কেন্দ্রের ব্যাপার। তারাই সিদ্ধান্ত নেবে।’
২০০২ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি কে আর নারায়ণনকে পুনর্নির্বাচিত করতে চেয়েছিল কংগ্রেস। কিন্তু তখন বিজেপি সরকার নারায়ণনকে চায়নি বলেই তিনিও আর প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াননি। এবারও প্রণব মুখার্জিকে পুনর্নির্বাচিত করতে চাইবে বলে মনে হয় না বিজেপি।
সঙ্গে সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধী। ১০ জনপথ থেকে বেরিয়ে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। ছবি: অশোক মজুমদার
No comments:
Post a Comment