জামিন পেলেন তৃণমূল সাংসদ ও লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা সুদীপ ব্যানার্জি - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Friday, 19 May 2017

জামিন পেলেন তৃণমূল সাংসদ ও লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা সুদীপ ব্যানার্জি

 aajkaal


ওড়িশা হাইকোর্টে জামিন পেলেন তৃণমূল সাংসদ ও লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা সুদীপ ব্যানার্জি। শারীরিক অসুস্থতার কারণে গ্রেপ্তার হওয়ার সাড়ে ৪ মাস পর শর্তাধীন জামিন পেলেন তিনি। শুক্রবার ওড়িশা হাইকোর্টের বিচারপতি জেপি দাস সিবিআইয়ের ‘‌প্রভাবশালী তত্ত্ব’‌ খারিজ করে দিয়ে জামিন মঞ্জুর করেন। জামিনের শর্ত হিসেবে বলা হয় সুদীপকে ব্যক্তিগত বন্ডে ২৫ লক্ষ টাকা জমা দিতে হবে, তদন্তকারী অফিসারদের কাছে সুদীপকে নিজের পাসপোর্ট জমা দিতে হবে এবং জামিন পেয়ে কলকাতায় ফিরে সাক্ষীদের কোনওভাবেই প্রভাবিত করা যাবে না। এই তিনটি শর্তেই মঞ্জুর করা হয়েছে জামিন। ৩ জানুয়ারি রোজভ্যালি–কাণ্ডে সিবিআই গ্রেপ্তার করে সাংসদ সুদীপ ব্যানার্জিকে। ইতিমধ্যেই অসুস্থতার কারণে ভুবনেশ্বর অ্যাপোলো হাসপাতালে রয়েছেন তিনি। কলকাতা থেকে ভুবনেশ্বর ছোটাছুটি করতে হয়েছে নয়না ব্যানার্জিকে। ভুবনেশ্বরে সুদীপকে দেখতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তিনি বারবারই বলেছেন, প্রতিহিংসার রাজনীতি চলছে। সুদীপদা বীরের মতো বেরিয়ে আসবেন। গত জানুয়ারি মাসের ৩ তারিখ মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে বিধাননগরের সিজিও কমপ্লেক্সে সিবিআই অফিসারদের সঙ্গে দেখা করতে যান সুদীপ ব্যানার্জি। ভুবনেশ্বর থেকে সেদিন সকালে রোজভ্যালির তদন্তকারী অফিসার কলকাতায় এসেছিলেন। তাঁকে প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। গোয়েন্দাদের অভিযোগ ছিল, সাংসদ বেশ কিছু প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দিতে পারেননি। সেই কারণেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁকে। সুদীপ ব্যানার্জি গ্রেপ্তার হওয়ার পর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রসঙ্গত, সুদীপকে গ্রেপ্তারের কিছুদিন আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল আর এক সাংসদ তাপস পালকে। তিনি এখনও জামিন পাননি। সুদীপের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪২০, ৪০৯, ৪০৮, ১২০ বি, ৩৪ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছিল। এছাড়াও চিটফান্ড আইনেও তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি ও সুব্রত বক্সি ভুবনেশ্বরে গিয়েছিলেন সুদীপের সঙ্গে দেখা করতে। পার্থ চ্যাটার্জি বলেছিলেন, লোকসভার বাজেট অধিবেশনে যাতে দুই সাংসদ থাকতে না পারেন, তার জন্য পরিকল্পনা মাফিক তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সিবিআই এই তদন্ত করছে না। সিবিআইকে দিয়ে এই তদন্ত করানো হচ্ছে। ৯ জানুয়ারি সুদীপ ব্যানার্জিকে ভুবনেশ্বর আদালতে তোলা হয়। ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত সিবিআই হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয় আদালত। এরপর তাঁর ১৪ দিনের জেল হেফাজত হয়। তদন্ত চলাকালীন আদালতে সুদীপের আইনজীবী কালীচরণ মিশ্র বলেন, উনি ৪ বারের সাংসদ, ৪ বারের বিধায়ক। এক সময়ে উনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ছিলেন। লোকসভায় রেলওয়ে স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান। সিবিআই বলছে রোজভ্যালির ব্যবসা বাড়ানোর ক্ষেত্রে উনি নাকি জড়িত। টাকা নিয়েছেন। গোপন বৈঠক করেছেন রোজভ্যালির কর্ণধার গৌতম কুণ্ডুর সঙ্গে। পরিচিত লোককে গৌতম কুণ্ডুর সংস্থায় চাকরি দিতে সুপারিশ করেছেন। সিবিআই রোজভ্যালি–কাণ্ডে চার্জশিট দিয়েছে। তাতে সুদীপ ব্যানার্জির নাম ছিল না। হঠাৎই নতুন বছরে চিঠি দিয়ে তাঁকে ডেকে পাঠানো হয়। তিনি গিয়েছেন। সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সত্ত্বেও তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে কী অভিযোগ তার নির্দিষ্ট কোনও প্রমাণ থাকলে সিবিআই দেখাক। এরপর জামিনের আবেদনও করা হয়। তখন জামিন পাওয়া যায়নি। কিন্তু আজ সুদীপের শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে তাঁর জামিন মঞ্জুর করল ভুবনেশ্বর আদালত। ‌

আমি খুশি: সুদীপের স্ত্রী নয়না
সুদীপের স্ত্রী নয়না কলকাতায় রয়েছেন। ওড়িশা হাইকোর্টের রায় তিনি শুনেছেন। আজ তৃণমূল ভবনে দলের বৈঠকে যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছিলেন। সে সময়ই সুদীপের জামিনের খবর তঁার কাছে আসে। নয়না বলেন, ‘আমি এখনই এ নিয়ে কিছু বলব না। ‌এটি আইনের অধীনে রয়েছে। যা বলার দলই বলবে। ব্যক্তিগতভাবে আমি খুব খুশি। সুদীপ অসুস্থ। ওঁকে কীভাবে কলকাতায় আনা যায় সেই ব্যবস্থাই করছি। কলকাতায় আনার পর দল আমাকে যেভাবে এগোতে বলবে, সেভাবেই এগোব। আশা করি দলের বৈঠকে সুদীপের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে।’‌ ‌‌

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad