আরএসএস পরিচালিত সারদা শিশুতীর্থ স্কুল বন্ধ করার বিজ্ঞপ্তিতে জুলাই মাস পর্যন্ত স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট ৷ উত্তর দিনাজপুরের করনদীঘিতে অবস্থিত আরএসএস পরিচালিত সারদা শিশুতীর্থ স্কুল বন্ধ করার জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করে উত্তর দিনাজপুরের ডিআই ৷ সেই বিজ্ঞপ্তিতেই এদিন স্থগিতের নির্দেশ দেন অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ৷
হাইকোর্টের
পর্যবেক্ষণে ব্যাকফুটে রাজ্য। অনুমোদনহীন করণদিঘির সারদা শিশুতীর্থ স্কুল
বন্ধে জেলা স্কুল পরিদর্শকের বিজ্ঞপ্তিতে স্থগিতাদেশ হাইকোর্টের। জুলাই মাস
পর্যন্ত স্থগিতাদেশের নির্দেশ বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। RSS
পরিচালিত স্কুলগুলি বন্ধের বিজ্ঞপ্তি জারি করে স্কুল শিক্ষা দফতর।
হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণের জেরে রাজ্যের উদ্যোগ ধাক্কা খেল।
গরমের ছুটির তিন সপ্তাহ পর এই মামলার
পরবর্তী শুনানি ৷ উল্লেখ্য, শিক্ষা দফতরের অনুমোদন সংক্রান্ত কিছু নিয়ম না
মানার কারণে এই স্কুল বন্ধের জন্য নোটিশ জারি করা হয় ৷ কিন্তু এদিনের
হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে ব্যাকফুটে রাজ্য ৷
শিক্ষায় গৈরিকী
করণ বরদাস্ত নয় বলে বারে বারে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপরই
আরএসএস-এর প্রতক্ষ্য ও পরোক্ষ প্রভাবে পরিচালিত রাজ্যের ১২৫টি স্কুল বন্ধে
নোটিশ দেয় স্কুল শিক্ষা দফতর। তার মধ্যে একটি স্কুল ছিল করণ দিঘির সারদা
শিশুতীর্থ স্কুল। গত ১৫ই মার্চ স্কুল কর্তৃপক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসে স্কুল
শিক্ষা দফতর। সেখানে বহু প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি স্কুলটি। তখনই জানানো
হয় স্কুলকে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট দেওয়া যাবে না। এরপর ১০ এপ্রিল
বিজ্ঞপ্তি জারি করে স্কুল শিক্ষা দফতরের উত্তর দিনাজপুরের ডি আই। নোটিশে
বলা হয়,
করণদিঘির সারদা শিশুতীর্থ স্কুলের অনুমোদন নেইশিক্ষার অধিকারের আইন মেনে যে যে পরিকাঠামো দরকার তা নেই
ফলে স্কুলকে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট দেওয়া যাচ্ছে না
দ্রুত স্কুল বন্ধ করতে হবে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
নোটিশকে
চ্যালেজ্ঞ করে সারদা সেবা ট্রাস্টের হয়ে হাইকোর্টে মামলা করেন সৃজন পাল।
শুক্রবার মামলার শুনানি হয় বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এজলাশে।
বিচারপতি জানান,স্কুল বন্ধ করার এক্তিয়ার নেই ডিসট্রিক্ট ইন্সপেক্টর অফ
স্কুল উত্তর দিনাজপুরের ৷ জুলাই মাস পর্যন্ত স্কুল বন্ধের নোটিশের ওপর
অন্তবর্তী স্থগিতাদেশ দেওয়া হচ্ছে ৷ গরমের ছুটির তিন সপ্তাহ পর ফের হবে
মামলার শুনানি ৷
শিক্ষা দফতর
সূত্রে খবর, রাজ্যে আরএসএস এর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদতে চলছে প্রায় সাড়ে তিনশ
স্কুল। কমবেশি সাত হাজার ছাত্রছাত্রী সেখানে। রাজ্যের মতে পরিকাঠামোর অভাব
আছে স্কুলে। বিশেষ স্বার্থে চালানো হচ্ছে স্কুল গুলি। হাইকোর্টের
পর্যবেক্ষণে স্কুল বন্ধে রাজ্যের উদ্যোগ কার্যত ধাক্কা খেল।
রাজ্যসরকারের
রাডারে এবার আরএসএস পরিচালিত স্কুল ৷ মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই এই স্কুলগুলি
নিয়ে তদন্তে নামে রাজ্যের শিক্ষা দফতর ৷গত ৮ মার্চ বিধানসভায় এমনটাই
জানান, শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ৷ তিনি বলেন, ‘‘ আরএসএস পরিচালিত
স্কুলগুলি নিয়ে অভিযোগ অনেক দিনের ৷ এদের বিরুদ্ধে ধর্মান্ধতা তৈরির
চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে ৷ এচাড়া পঠনপাঠন ও অনিয়ম নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ ৷
এইসব অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে ৷ উত্তরবঙ্গ ও উত্তর ২৪ পরগনায় এই ধরনের আরএসএস পরিচালিত স্কুলের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ৷ ’’
শিক্ষামন্ত্রীর
এই বক্তব্যের অবশ্য তীব্র বিরোধিতা করে ন বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ৷
পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে পাল্টা তিনি বলেছেন, ‘‘ আগের সরকার তো অনুমোদনই দিত
না ৷ এধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দিত না ৷ এখন মোটা টাকা নিয়ে
কিছু অনুমোদন দিচ্ছে রাজ্য সরকার ৷ আরএসএস পরিচালিত স্কুলগুলিতে সরকারি
পাঠ্যক্রম অনুযায়ী পড়াশোনা হয় ৷ তাছাড়াও অতিরিক্ত শিক্ষার ব্যবস্থা থাকে ৷
সেটা মোটেই অন্যায় কিছু নয় ৷ ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে
পড়াশুনা করা হয় এই স্কুলগুলিতে ৷ আগে মাদ্রাসাগুলিতে নজর দিক সরকার ৷
সেখানে তো জেহাদি শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে !’’
No comments:
Post a Comment