বাবা আপন হলেও মা সত তাই নবজাতককে নিয়ে সংসারে ঠাঁই মিলছে না মায়ের। সন্তানকে বেঁচে বাঁচতে চাইছে মা।পুলিশ এবং হাসপাতাল কতৃপক্ষ সন্তান সহ নতুন মা কে ঘরে ফেরাতে নিয়ে পড়েছেন মহা ফাঁফরে।
হাসপাতাল সুত্রের খবর, সংসারে অভাবের জন্য খুব কম বয়সে মায়ের সাথে মুম্বাই পাড়ি দিয়েছিল নদীয়া জেলার হরিনঘাটা থানার নাপিত সাতবেড়িয়া এলাকার সাজিনা খাতুন। মুম্বাইতে ভালোই চলছিল তার জীবন। মায়ের এক সিদ্ধান্তে বদলে গেল জীবন। কম বয়সে ওই এলাকার একটি ছেলের সাথে বিয়ে দিয়ে দিল মা। বিয়ের মাস খানেক পর থেকে স্বামী অত্যাচার করতো বলে অভিযোগ। গর্ভবতী অবস্হায় ঘুরতে যাবে বলে হাওড়া গামী ট্রেনে তাকে বসিয়ে পালিয়ে যায় স্বামী। অনেক বছর পর কলকাতায় এসে কষ্টে শিষ্টে সাজিয়া বাবার বাড়িতে সে ওঠে । কিন্তুু বাবা ও সৎ মা তাকে গর্ভবতী অবস্হায় ঘরে রাখতে অস্বীকার করে। তারপর বাড়ি থেকে বেরিয়ে হাবড়া স্টেশনে আশ্রয় নেয় । শারিরীক অবস্হার অবনতী হলে সে নিজেই হাবড়া হাসপাতালে আসে। ডাক্তারকে সব খুলে বলার পর হাসপাতালের স্পেশাল ইউনিটে তাকে রেখে চিকিৎসা করা হয় সমস্ত সরকারী খরচায়। পাঁচদিন আগে সাজিনা এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেয়। তারপর থেকে হাসপাতাল থেকে পালানোর চেষ্টা করে সে। ছেলেকে কি ভাবে মানুষ করবে। তার কাছে কোন টাকা নেই এবং তার বাবার কোন কাগজ পত্র নেই। বাবা মা বাড়িতে নেবে না তাই কোথায় যাবে সে। তাই শিশু পুত্রকে বিক্রী করে সে আবার মুম্বাই ফিরে যেতে চায়। হাসপাতালের পক্ষ থেকে সাজিনার বাবা মাকে খবর দেওয়া হলে তাও মেয়ের কাছে আসতে চায়না তারা। হাসপাতাল কতৃপক্ষ চাইল্ডলাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করে শিশু ও মায়ের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছে।
No comments:
Post a Comment