ফের পুলিশের মানবিক মুখ দেখল শহরবাসী। রেলের এক
কর্মচারী ট্রেন দূর্ঘটনায় দুটো পা কাটা পড়েছে। সেই অবস্থায় লাইনে পড়ে ছটফট করছেন। রেল কর্তীপক্ষের
লোকজন খবর পেয়েও ঘটনাস্থলে যায়নি বলে অভিযোগ। শুধুমাত্র একটি অ্যাম্বুলেন্স ডেকেই খান্ত হয়েছেন।
এই ঘটনার
খবর কানে পৌছতেই ব্যান্ডেল জিআরপির ওসি সুরেশ ভৌমিক তার সাব ইনেস্পেক্টর সৌমেন দাস
ও তনুময় পুরকায়েতকে ঘটনাস্থলে যাবার জন্যে তরিঘড়ি নির্দেশ দেন। খবর পেয়ে ততক্ষনে
ঘটনাস্থলে হাজির হয়েছিলেন আরপিএফের কয়েকজন কর্মী। কিন্তু এই ঘটনায় জিআরপির পুলিশ
অফিসাররা গুরুত্বর আহত ওই রেল কর্মচারীকে বাঁচাতে শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত চেষ্টা
করে গিয়েছেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে কোনও চতুর্থ শ্রেনীর কর্মীর অপেক্ষা না করেই পুলিশের
অফিসাররা ওই রেল কর্মীকে ঘটনাস্থ থেকে উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে চাপিয়ে সোজা
চুঁচুড়া সদর ইমামবাড়া হাসপাতালে এসে ভর্তী করেন। কিন্তু জীবনের শেষ লড়াইতে ওই রেল
কর্মী হেরে গিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছেন ওই রেল কর্মীর নাম আশিষ দাস
(৫৬)। বাড়ি উওরপাড়া থানার কোন্নগড় ক্ষুদিরাম বোস রোড এলাকায়। তিনি কাঁচরাপাড়ায়
রেলের ওয়াকশপে কর্মরত ছিলেন। সোমবার দুপুরে তিনি শিয়ালদহ রামপুরহাট প্যাসেঞ্জারে
চেপে নৈহাটি থেকে ব্যান্ডেলে ফিরছিলেন। ব্যান্ডেল স্টেশনে ট্রেনটি ঢোকার মুখে
আচমকাই তিনি ট্রেন থেকে পড়ে লাইনে ঢুকে যান। ওই সময়ে তার দূটো পা কাটা পড়ে। ওই
রেলকর্মীকে তার জীবনের শেষ লড়াইতে জিতাতে না পেরে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন
ব্যান্ডেল জিআরপির অফিসাররা। এই প্রসঙ্গে ব্যান্ডেল জিআরপির সাব ইনেস্পেক্টর
প্রদ্যুত ঘোষ তার সহ কর্মীদের আক্ষেপ প্রকাশ করে বলছিলেন, আর একটু আগে ওই রেল
কর্মীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে পাড়লে হয়ত তিনি বাঁচলেও বাঁচতে পাড়তেন।

No comments:
Post a Comment