চুঁচুড়া কোর্ট সড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিবাদে চুঁচুড়ায় আইনজীবীদের গান্ধীগিরী - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Tuesday, 13 June 2017

চুঁচুড়া কোর্ট সড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিবাদে চুঁচুড়ায় আইনজীবীদের গান্ধীগিরী



হুগলির সদর চুঁচুড়া থেকে কোর্ট অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিবাদে বেশ কিছু দিন ধরেই আন্দোলন চলছিলই। আইনজীবীদের এই আন্দোলনকে সমর্থন করে তাদের পাশে দাড়িয়েছেন লক্লার্ক, ভেন্ডারটাইপিস্টরা এই আন্দোলনকে ঘিরে প্রতিদিনই আইনিজীবীরা কোর্টে আসলেও কাজে তারা যোগ না দিয়ে আদালতের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করছেন।


                     
সোমবার সকালে চুঁচুড়া জেলা কোর্টকে অন্যত্র সড়িয়ে নিয়ে যাবার প্রতিবাদে জেলা জর্জ সহ মোট ১৮জন বিচারককে কোর্টে ঢুকতেই দিলনা চুঁচুড়া সদর কোর্টের আইনজীবীরা। চুঁচুড়া সদর কোর্টে আইনজীবীদের এহেন গান্ধী গিরির এই ঘটনায় কোর্ট চত্বরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

হুগলির সদর চুঁচুড়া থেকে কোর্ট সরিয়ে নিয়ে যাবার প্রতিবাদে ২২ মে থেকে চুঁচুড়া কোর্টের আইনজীবীরা মোট তিন দফায় কর্ম বিরতির ডাক দিয়েছেন এদিন সকাল দশটা নাগাদ জেলা জর্জ সহ মোট আঠারো জন বিচারক বিচার ব্যবস্থায় জড়িত সকল কর্মচারীরা আদালতে ঢুকতে গেলে আন্দোলনকারীরা করজোড়ে তাদের পথ আটকে গান্ধীগিরী শুরু করেন। অবস্থা প্রতিকূল বুঝে কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা ফিরে যান। এই ঘটনায় এদিন থেকে কোর্টের বিচার ব্যাবস্থা প্রায় বন্ধ হয়ে গেল বলে কোর্ট সূত্রে খবর।




এদিন আইনজীবীরা চুঁচুড়া কোর্ট সংলগ্ন এলাকায় প্রতিবাদ মিছিল বাড় করেন। সেই মিছিলে মন্ত্রী তপন দাশগুপ্তের কনভয় ঢুকে পড়ার ঘটনায় ব্যাপক মন্ত্রীর গাড়ি ঘিড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখান বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় হকচকিয়ে যান মন্ত্রী তপন দাশগুপ্ত। অবশেষে পুলিশি হস্তক্ষেপে মন্ত্রীর কনভয়কে সেখান থেকে বার করে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর আইনজীবীরা জেলা শাসকের দফতরের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চুঁচুড়া জর্জ কোর্টের এক আইনজীবী বলেন, চুঁচুড়ার জেলা জর্জ কোর্টকে হেরিটেজ বিল্ডিং এর তকমা দেওয়া হয়েছে সেই কারনে জেলা জর্জ কোর্টের পাশেই কোর্টের নতুন ভবন তৈরির কথা ঘোষনা করা হয়েছিল। আমরা চাই চুঁচুড়া কোর্ট বিল্ডিং এর পাশের একটি জায়গায় কোর্টের নতুন বিল্ডিং তৈরি হোক। নতুন কোর্ট তৈরির জন্যে আইন মন্ত্রী ১৪ কোটি টাকা অনুমোদন করেছেন। ১কোটি টাকা এসে গিয়েছিল। নতুন কোর্ট নির্মানের জন্য মাটি পরীক্ষা, মাপ ঝোপের কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ কোনও এক অঞ্জাত কারনে সেই কাজ বন্ধো হয়ে যায়। আসলে জেলার সদর কোর্টকে অন্যত্র সড়িয়ে নিয়ে যাবার প্রবল একটা চক্রান্ত চলছে।



এই প্রসঙ্গে অতিরিক্ত জেলা শাসক প্রদীপ আচার্য বলেন, ওখানে খুব শিঘ্রই কাজ শুরু হবে এই বিষয়ে প্রশাসনিক দিক থেকে আলোচনা হয়েছে। কোর্ট নির্মানের জন্যে যে আর্থিক বছরে টাকাটা এসেছিল সেটা ছিল ওই আর্থিক বছরের শেষ সময়। ওই সময়ে পুড়ো টাকাটা খরচ করা যায়নি। শুধুমাত্র মাটি পরীক্ষার জন্যে কিছু টাকা খরচ করা গিয়েছে। এই মুহুর্তে প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়া গিয়েছে। তাই খুব শিঘ্রই কাজটা শুরু হবে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad