হুগলির জেলার সদর
শহর চুঁচুড়া ক্রমশই মুকুটহীন হয়ে পড়ছে। ব্রিটিশ শাসনকাল থেকেই গঙ্গা তীরবর্তী এই
চুঁচুড়া শহরে ব্রিটিশরা নোঙর ফেলে রসদ খোঁজার জন্য আসত। চন্দননগরে ফরাসিরা যেমন এই
ভাবে যাতায়েত করতে করতে উপনিবেশ তৈরি করে ফেলেছিল। তেমনি চুঁচুড়া শহরে ডাচেরা
তাদের উপনিবেশ তৈরি করে ফেলেছিল। ব্রিটিশ শাসনকালে ব্রিটিশদের উচ্ছেদ করার জন্যে
প্রচুর মনিষি বিপ্লবীরা এই চুঁচুড়া শহরকে তাদের কর্মস্থল বানিয়ে ছিলেন। সেই সময়ে
ঋষি অরবিন্দু, বীর সাবারকার, রাজবিহারী বসু, নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু থেকে শুরু করে
একাধিক মনিষি এই চুঁচুড়া শহরে বসেই তাদের রননীতি তৈরি করেছিলেন। ব্রিটিশ শাসনের
উচ্ছেদের মূল মন্ত্র “বন্দে মা তারাম” ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যাযায় এই শহরে
বসেই লিখেছিলেন। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টয়াপাধ্যায় এই শহরেরই মেজিষ্টেটের দায়িত্বভার
সামলেছিলেন।
কিন্তু সেই
প্রাচীন শহর চুঁচুড়া ক্রমশই অপ্রাশঙ্গিক হয়ে পড়ছে। স্বাধীনতার পড় থেকেই তৎকালিন
কংগ্রেস সরকারও চুঁচুড়ার উন্নয়নের কথা ভাবেননি বলে অভিযোগ। কিন্তু,
কংগ্রেস সরকার হুগলির প্রানকেন্দ্র চুঁচুড়ার উন্নয়ন না করলেও চুঁচুড়া শহর থেকে
বিভিন্য দফতর সড়িয়ে অন্যত্র নিয়ে যাবার সাহস দেখাননি। এমনকি বামফ্রন্ট সরকারও ওই
পথে হাটেননি। কিন্তু বর্তমান তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় এসেই হুগলির প্রানকেন্দ্র চুঁচুড়া
শহরের উন্নয়ন না করেই বিভিন্য দফতর সড়িয়ে অন্যত্র সড়িয়ে নিয়ে যাবার প্রবল চেষ্টা
চক্রান্ত করছে বলে অভিযোগ।
চুঁচুড়া মহকুমার
একাধিক মানুষের অভিযোগ, স্বাধীনতার ৭৫বছর পরও হুগলি জেলার প্রানকেন্দ্র চুঁচুড়াতে
একটি বিশ্ববিদ্যালয় হয়নি। ঠিক তেমনি বিভিন্য জেলার সদর শহরে মেডিক্যাল কলেজ বা
সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল হলেও সদর শহর চুঁচুড়াতে সমস্ত পরিকাঠামো ও জায়গা থাকা
সত্বেও এখানে কোনও মেডিক্যাল কলেজ কিম্বা বিশ্ববিদ্যালয় হয়নি। উলটে, সদর শহর থেকে
ঐতিহ্যবাহী পুলিশে হেড কোয়াটার সিঙ্গুরে সড়িয়ে নিয়ে যাবার চেষ্টা চলছে। ঐতিহ্যবাহী
জেলা জর্জকোর্ট অন্যত্র সড়িয়ে নিয়ে যাবার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ। অতিতেও চুঁচুড়ার
দমকল বিভাগ অন্যত্র সড়িয়ে নিয়ে যাবার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু চুঁচুড়াবাসির প্রবল
ক্ষোভের মুখে পড়ে সেটা সম্ভব হয়নি। জেলার সদর শহর চুঁচুড়াকে অন্ধোকারে রেখে বিভিন্ন
দফতরকে তৃণমূল সরকারের এই অন্যত্র সড়িয়ে নিয়ে যাবার প্রতিবাদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন
চুঁচুড়া মহকুমার একাধিক মানুষজন। এই ইসুতে সদর মহকুমার বিভিন্ন মহল একযোগে
আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে খবর মিলেছে। বিরোধী দলগুলির দাবী, চুঁচুড়া
সদর হাসপাতালে যে পরিকাঠাম রয়েছে। সেখানে অনায়াসেই মেডিক্যাল কলেজ তৈরি করা সম্ভব।
একই সঙ্গে তাদের দাবী, চুঁচুড়ার ধান্য গভেষনা কেন্দ্রে প্রচুর জায়গা রয়েছে। সেখানে
অনায়াসেই বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করা যেতে পাড়ে। বিজেপির ওবিসি মোর্চার রাজ্য সভাপতি
স্বপন পাল বলেন, সদর শহর কাকে বলে? একই শহরে মানুষ সমস্ত রকম সুযোগ সুবিধা
পাওটাকে। বিভিন্ন দফতর জেলার বিভিন্য প্রান্তে ছড়িয়ে গেলে মানুষ ব্যাপক হয়রানির
স্বীকার হবেন। চুঁচুড়ার বিধায়ক ও সাংসদ দুজনের বাড়িই শ্রীরামপুরে। এই শহরের প্রতি
তাদের কোনও দায়িত্ব কর্তব্য ও টান নেই। তাই সদর শহর থেকে বিভিন্য দফতর সড়িয়ে নেওয়া
হলেও এই বিষয়ে তারা কোনও উচ্চবাচ্চ করবেন না। জেলার এই সদর শহরের বিভিন্ন দফতরকে
কেন্দ্র করে জেলার বেশির ভাগ মানুষের জীবন জীবিকা নির্ভর করে। সদর শহর থেকে একাধিক
দফতর সরিয়ে নিলে জেলার একটা বড় অংশের মানুষের জীবন জীবিকা নিয়ে বিস্তর সমস্যায়
পড়বেন বলে বিভিন্ন মহল থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।



No comments:
Post a Comment