বৃহস্পতিবার থেকে উত্তপ্ত গোটা দার্জিলিং এলাকা।দার্জিলিঙে থেকে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিকে সামাল দিতে একের পর এক চেষ্টা চালাচ্ছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। এমনকি পর্যটকদের দায়িত্ব নিয়ে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থাও তিনি করছেন। এছাড়াও রায়গঞ্জ থেকে আসা অসুস্থ এক বাচ্চা পর্যটককে নিজের গাড়িতে তুলে পর্যন্ত হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। তবে বিরোধীরা তাদের খণ্ডযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। বিপাকে পড়েছে হাজার হাজার পর্যটকেরা। এমতাবস্থায় নিজেকে পাহাড়ের মুখ্যমন্ত্রী বলে দাবি করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন মোর্চা সুপ্রিমো বিমল গুরুঙ্গ। পাহাড় অশান্ত হওয়ার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করে শুক্রবার গুরুঙ্গ বলেন, 'সমতলে যেমন মমতার বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ চালান, আমার রাজ চলে পাহাড়ে।' তাঁর হুঙ্কার, 'বাংলার মুখ্যমন্ত্রী আমাদের শক্তি দেখাচ্ছেন। উনি হয়তো ভুলে যাচ্ছেন আমি জিটিএ-র একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি। আমিই পাহাড়ের মুখ্যমন্ত্রী।'
এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, 'পাহাড়ে কোনও অশান্তি আমি বরদাস্ত করব না। আমি সতর্ক করে দিচ্ছি বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে। পুলিশ পাহাড়ের মানুষের উপর যে নির্মম অত্যাচার চালিয়েছে, আমরা মেনে নেব না। আমরা এনডিএ-তে রয়েছি। আমরা এ ব্যাপারে কেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলব। প্রয়োজনে কেন্দ্রের কাছে রিপোর্ট পাঠাবো। এদিন পাহাড়ে রাষ্ট্রপতি শাসনেরও দাবি তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
প্রসঙ্গত পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ শুরু মোর্চা নেতাদের, তারপরই রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে পাহাড়। ইটবৃষ্টি, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, বোমাবাজি, লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাসে জখম হন উভয় পক্ষের অনেকেই। তারই জেরে এদিন বনধ ডাকে মোর্চা নেতৃত্ব।
পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাহাড়কে স্বাভাবিক ছন্দে ফেরাতে নিজে যেমন ঘুরছেন পাহাড়ের কোণে কোণে, তেমনই সেনা-পুলিশ মোতায়েন করেছেন প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়। আর কোনওভাবেই হিংসা ছড়াতে দিতে চান না তিনি। তবু এরই মধ্যে পুলিশ প্রহরা না থাকায় মংপুতে আগুন লাগানো হয় নির্মীয়মাণ আইটিআই ভবনে।

No comments:
Post a Comment