খবর পুলিশের কাছে আগেই ছিল। সেই খবরের ভিত্তিতে হানা দিয়ে একটি ডাকাত দলকে
অস্ত্র সমেত হাতে নাতে ধরে ফেলল রিষড়া থানার পুলিশ। শনিবার রাতে শ্রীরামপুরের
এসডিপিও কামনাশীষ সেনের নেতৃত্বে রিষড়া থানার ওসি প্রবীর দত্ত ও তার পুলিশ বাহিনী
রিষড়ার পাচরকি থেকে সশস্ত্র অবস্থায় ওই দুষ্কৃতীদের গ্রেফতার করেন। এই ঘটনায় খুশির হাওয়া
হুগলি সহ তার আশেপাশের জেলাগুলোতে।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতরা হল, শুভ্র
মুখোপাধ্যায়, অনুপ কুজুর, মহন্মদ রিয়াজ, গনেশ চৌহান, সুব্রত কোলে, শৈবাল রায়, মহন্মদ
সাবির, গোপাল আইয়া, বিশ্বজিত হাজরা। এদের প্রত্যেকের বয়স ২৪থেকে ৩০এর মধ্যে। শুভ্র
ও বিশ্বজিতের বাড়ি উত্তরপাড়া থানা এলাকায়। অনুপ, মহন্মদ ও সাবিরের বাড়ি হাওড়া থানা
এলাকায়। রিয়াজ, গনেশ, সুব্রত ও শৈবালের বাড়ি শ্রীরামপুরে। ধৃতদের কাছ থেকে পুলিশ
উদ্ধার করেছে একটি চারচাকা গাড়ি। একটি গ্যাস কাটার। একটি পাইপ গান। তিন রাউন্ড
গুলি। দুটি টয় গান। চারটে চপার। এক বোতল ক্লোরফর্ম। লঙ্কা গুড়ো। মুখোশ, স্কু
ড্রাইভার সেলো টেপ সহ একাধিক জিনিষ।
এদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের
উত্তরে শ্রীরামপুরের এসডিপিও কামনাশীষ সেন বলেন, নয়জনের এই কুখ্যাত ডাকাত দলটিকে
হুগলি ও হাওড়া এবং কলকাতার পুলিশ হন্যে হয়ে খুজছিল। দুষ্কৃতীরা পেশাদার ডাকাত দল। ডাকাতি করার সময়
মানুষকে অঞ্জান করার জন্য কুরিয়্যার সার্ভিসের মাধ্যমে দুষ্কৃতীরা ক্লোরর্ফম আনিয়ে
ছিল। একইসঙ্গে আত্মরক্ষার ওই ডাকাত দলটি লঙ্কা গুড়ো সহ একাধিক জিনিষ ব্যাবহার করত
বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
পুলিশ সূত্রে খবর, নয়
জনের এই ডাকাত দলটি কলকাতা, হাওড়া হুগলি সহ আশেপাশের জেলাতে এটিএম মেশিন কেটে
ডাকাতি করত। পুলিশি জেরায় ধৃতরা স্বীকার করেছে বৈদ্যবাটির একটি এটিএম কেটে তারা
সাড়ে আট লক্ষ টাকা লুটি করেছে। ডাকাত দলটির কাছে খবর ছিল কলকাতায় একটি বাড়িতে কোটি
টাকা রয়েছে। রবিবার সেই বাড়িতে ডাকাতি করার জন্য ছক কষেছিল। কিন্তু পুলিশি ততপরতায়
সব ভেস্তে যায়। এই ডাকাত দলের বাকিদের খোঁজে পুলিশ তল্লাসী শুরু করেছে বলে জানা
গিয়েছে। ধৃতদের এদিন
শ্রীরামপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক এদের মধ্যে ৪জনের
পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেন। বাকি ৫জনের জেল হেপাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।



No comments:
Post a Comment