হুগলি, ২৯ জুলাই ঃ মেয়রের বিরুদ্ধে স্বজন পোষন ও দূর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হলেন ক্ষোদ তৃণমূলের কাউনসিলররা। সম্প্রতি ঘটনাটি ঘটেছে চন্দননগর পুরনিগমে। এই ঘটনার প্রতিবাদ করে পুরনিগমের বেশ কয়েকটি বোর্ড মিটিং বেশিরভাগ কাউনসিলরদের অনুপস্থির ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে চন্দননগর পুরনিগমে।
চন্দননগর পুরনিগম সূত্রে জানা গিয়েছে, শেষ ছয় মাস যাবত পুরনিগমের বোর্ড মিটিংএ শাষক দলের বেশির ভাগ কাউনসিলররা উপস্থিত হচ্ছেন না। এই ঘটনায় সিন্দুরে মেঘ দেখছেন শাষক দলের নেতারা। মেয়রের বিরুদ্ধে স্বজন পোষন ও দূর্নীতির অভিযোগ তুলে চন্দননগর পুরনিগমের শাষক দলের একাধিক কাউনসিলররা আড়াআড়ি ভাবে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে বলে খবর মিলেছে। পুরনিগম সূত্রে জানা গিয়েছে, চন্দননগর পুরনিগমের মেয়রের বিরুদ্ধে স্বজন পোষন ও দূর্নীতির অভিযোগ তুলে একাধিক কাউনসিলরা সাক্ষর করে ইতিমধ্যেই একটি চিঠি তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়, সুব্রত বক্সী সহ একাধিক নেতার কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন। এমনকি ওই চিঠির একটি প্রতিলিপি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের কাছেও পাঠানো হয়েছে বলে খবর মিলেছে।
সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার দুপুরে চন্দননগর পুরনিগমে শেষ বোর্ড মিটিং হয়েছে। সেখানে মিটিং পরিচালনার দায়িত্ব পুরনিগমের চেয়ারম্যানের থাকলেও তিনিও অনুপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ, বেআইনি ভাবে সেই মিটিং পরিচালনা করেছিলেন পুরনিগমের ডেপুটি মেয়র। ওই দিনের বোর্ড মিটিংএ চেয়ারম্যান সহ একাধিক বোরোর চেয়ারম্যান ও একাধিক কাউনসিলররা অনুপস্থিত ছিলেন। চন্দননগর পুরনিগমের পরিস্থিতি এমন দিকে যাচ্ছে তাতে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারন করতে চলেছে। কাউনসিলররা অবিলম্বে মেয়রের পদত্যাগ দাবী করে দুর্নীতি মুক্ত পুরনিগমের পক্ষে সাওয়াল করেছেন। চন্দননগর পুরনিগমের কাউনসিলরদের একাংশ অভিযোগ করে বলেন, পুরনিগমের টেন্ডার থেকে শুরু করে জিপ্লাস ফাইভ এর বেআইনি অনুমোদন দেওয়া। পুরোনো বাড়ি ভাঙার টেন্ডারে দূর্নীতি থেকে শুরু করে পুরনিগমের কর আদায়। সব কিছুতেই ব্যাপক দূর্নীতিতে ভরে গিয়েছে। এই প্রসঙ্গে চন্দননগরের প্রতিবাদী কাউনসিলরদের একাংশ সাফ জানিয়েছেন, দল এই দূর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা না নিলে আমরা বিকল্প কিছু ভাবতে বাধ্য হব। একধাপ এগিয়ে কোন কোনও প্রতিবাদী কাউনসিলররা বলেই রেখেছেন, প্রয়োজনে আমরা বিজেপিতে যোগ দিয়ে এই দূর্নীতির প্রতিবাদ জানাব। এই প্রসঙ্গে চন্দননগর পৌরনিগমের মেয়র রাম চক্রবর্তী বলেন, কোনও বেআইনী ভাবে পুরনিগমে মিটিং করা হয়নি। সবটাই আইন মেনে করা হয়েছে। বিধানসভাতেও সব মিটিংএ সবাই উপস্থিত থাকতে পাড়েন না। এক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছে। রাজ্যজুড়ে উন্নয়ন চলছে। তাই অপপ্রচার চালাতে কেউ কেউ স্বজন পোষন ও দূর্নীতির অভিযোগ তুলছেন। আমি থাকতে পুরনিগমে কোনও দূর্নীতি হতে দেব না।

No comments:
Post a Comment