ষ্টেশনে শুয়ে প্রসব বেদনায় কাতরাচ্ছেন ভর্গবতী। দেখেও দেখছেন না কেউই। গর্ভবতীকে নিয়ে দিশেহারা মা শান্তি চৌধুরী। সেই সময়ে এই খবর পেয়ে ওই মহিলাকে বাঁচাতে ছুটে এলেন রেল পুলিশের মহিলা কর্মীরা। চারদিকে শাড়ি দিয়ে ঢেকে ওই অন্তঃসত্তা মহিলার প্রসব করান হল। ওই অন্তঃসত্তা মহিলা জন্ম দিলেন দুটি কন্যা সন্তানের। সুস্থ অবস্থায় ওই অন্তঃসত্তা মহিলাকে অ্যাম্বুলেন্স ডেকে পৌঁছে দেওয়া হল চুঁচুড়া ইমামবাড়া সদর হাসপাতালের মেটারনিটি ওয়ার্ডের ১নম্বর বেডে। এই ঘটনায় ফের পুলিশের মানবিক মুখ দেখল শহরবাসী।
বুধবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে ব্যান্ডেল ষ্টেশনের ৫নম্বর প্লাটফর্মে। সদ্য মা হওয়া ওই মহিলার নাম পুতুল চৌধুরী। বাড়ি বলাগড় থানার কুন্তিঘাটের রামনগর গ্রামে। তার শ্বশুরবাড়ি বিহারের গরক্ষপুরে। অন্তঃসত্তা অবস্থায় এদিন দুপুর ১২টা নাগাত তিনি কাঠগুদাম হাওড়া বাগ এক্সপ্রেসে চেপে ব্যান্ডেল ষ্টেশনে নামেন। তার সফর সঙ্গী ছিলেন তার মা শান্তী দেবী। ব্যান্ডেল ষ্টেশনে নামার পরই ওই মহিলার প্রসব যন্ত্রনা শুরু হয়। ঘটনার খবর পেয়ে ব্যান্ডেল জিআরপির ওসি সুরেশ ভৌমিক তার অফিসার প্রদ্যুৎ ঘোষকে মহিলা পুলিশ কর্মীদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যেতে নির্দেশ দেন বলে খবর। ঘটনাস্থলে পৌছেই মহিলা পুলিশ কর্মীরা ওই এলাকা ফাঁকা করে দেন। একই সঙ্গে শাড়ি দিয়ে ওই এলাকা ঘিরে ফেলেন। ওই সময়ে পুতুল চৌধুরী এক সঙ্গে দুটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। এরপর পুলিশ কর্মীরা মা ও সন্তানদের উপযুক্ত চিকিৎসার জন্যে চুঁচুড়ার ইমামবাড়া সদর হাসপাতালে পৌছে দেন। এক সাথে এতগুলো জীবন বাঁচাতে পেড়ে খুশির হাওয়া ব্যান্ডেল জিআরপিতে।
পুতুল দেবীর মা শান্তী দেবী বলেন, আমাদের রিতি অনুযায়ী মেয়ে অন্তঃসত্তা হলে তাকে কয়েক মাসের জন্যে বাপের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। সেই মতই আমি ওকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলাম। পথে এই ঘটনা ঘটল। প্রথমে আমি খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশের সহযোগীতায় আমার মেয়ে এ’যাত্রায় রক্ষা পেল।

No comments:
Post a Comment