বুধবার রাতে বাদুড়িয়ায় উন্মত্ত জনতা হামলা চালায়। গুরুতর জখম হন কার্তিক ঘোষ। বৃহস্পতিবার সকালে কলকাতার আরজিকর হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর। এরপরই হাসপাতালের দখল নেয় তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনী। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূলের গুন্ডারা তাদের নেতা কর্মীদের মারধর করেছে। মৃত দেহের দখল নিয়েছে। জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের দলবল দেহ বসিরহাটে নিয়ে যেতে বাধা দিচ্ছে। তারা কলকাতাতেই সৎকার করার চাপ দিচ্ছে। শাসকদল চাইছে, যেনতেন প্রকারে এই মৃত্যুর ঘটনা ধামাচাপা দিতে। গতকালই অবশ্য নেত্রী বাদুড়িয়াকাণ্ডতে ছোট্ট ঘটনা আখ্যা দিয়েছিলেন।
৬৫ বছরের কার্তিক ঘোষ বাড়িতে ছিলেন। তখন লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায় একদল উন্মত্ত জনতা। গুরুতর জখম হন কার্তিকবাবু। তাঁকে নিয়ে আসা হয় কলকাতার আরজি কর হাসপাতালে। সকালে মৃত্যু হয় কার্তিক ঘোষের। সেই খবর ছড়াতেই হাসপাতালে জড়ো হয় তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনী। তারা বিজেপি কর্মীদের সেখান থেকে মারধর করে হঠিয়ে দেয়। আটকে দেয় দেহ। এমনকি কার্তিকবাবুর দুই ছেলেও ঘরবন্দি করা হয়। তারা যাতে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে না পারে।
বিজেপির অভিযোগ, কার্তিকবাবুর পরিবারকে আটকে রেখে দেহ বসিরহাটে নিয়ে যেতে বাধা দেওয়া হয়। বসিরহাটে হিন্দুদের উপরে অত্যাচার ধামাচাপা দিতেই দেহ নিয়ে যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। কার্তিকবাবুর ময়নাতদন্তও করা হয়নি। বাধা দেওয়া হয় জয়প্রকাশ মজুমদার ও লকেট চট্টোপাধ্যায়কে। তাঁদের হেনস্থা করা হয়।
বাদুড়িয়ায় ঠিক কী হয়েছিল, সকালে বিজেপি কর্মীদের মারধর করার পর এবার তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনীর নিশানায় রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ও দলের সাধারণ সম্পাদক কৈলাস বিজয়বর্গীয়। বাদুড়িয়ায় উন্মত্ত জনতার হাতে মৃত্যু হয়েছিল কার্তিক ঘোষের। এদিন তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ ও কৈলাস বিজয়বর্গীয়। পুলিশের সামনেই তাঁদের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো হল। বিজেপি কর্মীদের হাসপাতালের ভিতরেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।বিজেপির আরও অভিযোগ, বাদুড়িয়ায় উন্মত্ত জনতার হামলায় মৃত্যুর ঘটনা ধামাচাপা দিতেই এসব করছে তৃণমূল। তাঁর দেহ আটক করে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তেও বাধা দেওয়া হয়। দিলীপ ঘোষের কথায়, “পুলিশের সামনেই আমাদের গাড়িতে মারা হচ্ছে। কর্মীদের ধাক্কা দেওয়া হচ্ছে। দুষ্কৃতীরা পশ্চিমবঙ্গকে দখল করে রেখেছে। আমাদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি।” কৈলাস বিজয়বর্গীয়র মন্তব্য, দেখতেই পাচ্ছেন তৃণমূলের গুন্ডারা কী করছে?
(আরও পড়ুনঃরাহুলের মন্তব্যে বিপাকে পড়ল বিজেপি!)
No comments:
Post a Comment