‘মহিলা সন্ত্রাসবাদীরা সেনা জওয়ানদের মেরে তাদের লিঙ্গচ্ছেদ করে
নিয়ে যাচ্ছে। যা আমাদের কড়া বার্তা দেয়। এই ঘটনা দেশের লজ্জা। ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অমর্যাদাকর এই মন্তব্য করার
অভিযোগে উত্তর প্রদেশের প্রাক্তণ মন্ত্রী ও সমাজবাদী পার্টি বা সপা নেতা
মুহাম্মদ আজম খানের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে।
শনিবার হজরতগঞ্জ ও রামপুরের সিভিল লাইনস থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের
হয়। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২৪-এ, ১৩১ ও ৫০৫ ধারায় মামলা দায়ের
করা হয়েছে।অন্যদিকে,
বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বজরং দল আজম খানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখানোর
পাশাপাশি রাজেশ অয়োস্থি নামে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের এক নেতা আজম খানের জিভ
কেটে আনতে পারলে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কারের কথা ঘোষণা করেছেন।
চানপুরের SHO অজয় কুমার জানিয়েছেন, আজম খানের বিরুদ্ধে আইপিসির ১২৪এ ধারায় দেশদ্রোহ, ১৩১ ধারায় সম্প্রীতি ভঙ্গ ও সেনার মনোবল ভাঙতে পারে এমন মন্তব্য করার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, ‘সেনাবাহিনীতে বিদ্রোহ ঘটাতে ওই মন্তব্য করেছেন আজম খান।’ সঙ্গে তাঁর দাবি, ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে সেনার মনোবল ভাঙার চেষ্টা করেছেন সমাজবাদী পার্টির ওই নেতা।’
যদিও প্রথমে আজম খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিতে চায়নি বিজনৌর পুলিশ। থানার সামনে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ বিক্ষোভ দেখালে শেষপর্যন্ত রাজি হয় তারা।
এদিকে, বিজেপি’র সিনিয়র নেতা ও এমপি সুব্রামনিয়াম স্বামী বলেছেন, আজম খান যা বলেছেন তা যদি কোনো মুসলিম অধ্যুষিত দেশে বলতেন তাহলে তার শিরশ্ছেদ করা হতো।
স্বামী
বলেন, ‘আজম খান যে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনা এখানে ভোগ করছেন তা কোনো
মুসলিম দেশে করতে পারবেন না।যদি তিনি সৌদি আরবের নাগরিক হতেন এবং
সেখানকার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করতেন তাহলে তাকে পরদিনই
শিরশ্ছেদ করা হতো। এ ধরণের লোকেরা গণতন্ত্রের ভুল ফায়দা তুলছেন।’
বিজেপি মুখপাত্র সম্বিত পাত্র আজম খানের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন।
বিজেপি’র অন্য মুখপাত্র জি ভি এল নরসিমার অভিযোগ, আজম খান বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং সন্ত্রাসীদের মতো কথা বলছেন।বিজেপিশাসিত
হরিয়ানার মন্ত্রী অনিল ভিজ সপা নেতা আজম খানের সমালোচনা করে বলেন, আজম
খানকে অবশ্য মনে রাখতে হবে সীমান্তে সেনাবাহিনীর প্রহরার জন্যই আপনি বেঁচে
আছেন এবং তাদেরকেই আপনি অপমানিত করছেন। সপা নেতা আজম খান সম্প্রতি পরোক্ষভাবে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তোলায় ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
তিনি
বলেন, একদিকে সীমান্তে লড়াই চলছে, অন্যদিকে নারীরা সেনা জওয়ানদের হত্যা
করছেন। নিশ্চয়ই কিছু ঘটেছে, এই ঘটনা কিন্তু আমাদের সেটাই ভাবতে বাধ্য
করছে।’
আজম
খান বলেন, ‘সশস্ত্র নারীরা এসে ভারতীয় সেনার যৌনাঙ্গ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এর
অর্থ হল জওয়ানদের শরীরের ওই অঙ্গটি নিয়ে তাদের অসুবিধা রয়েছে। এর মাধ্যমে
কড়া বার্তাই দিতে চেয়েছে তারা। এই ঘটনা পর্দা সরিয়ে ভারতের আসল রূপ সকলের
সামনে তুলে ধরেছে। গোটা দেশের এজন্য লজ্জিত হওয়া উচিত।’
তীব্র
সমালোচনার মুখে পড়ে আজম খান তার সাফাইতে বলেন, গণমাধ্যমে তার মন্তব্যকে
বিকৃত করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমার জন্য সেনাবাহিনীর মনোবল কীভাবে নষ্ট
হবে? আমি কেউ নই। প্রধানমন্ত্রী যখন পাকিস্তান সফরে গিয়েছিলেন তখনই
সেনাবাহিনীর মনোবল নষ্ট হয়ে গিয়েছিল বলেও আজম খান মন্তব্য করেন।

No comments:
Post a Comment