নীল তিমিরের হাত থেকে বাঁচল এক পড়ুয়া - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, 24 August 2017

নীল তিমিরের হাত থেকে বাঁচল এক পড়ুয়া


নীল তিমিরের হাত থেকে প্রাণে বাঁচল পশ্চিম মেদিনীপুরের এক পড়ুয়া। ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা থানার ক্ষিরিয়া গ্রামের৷ রৌণক সিংহ গড়বেতা উচ্চ বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান নিয়ে একাদশ শ্রেণিতে পড়ে৷ স্বভাবতই পড়াশুনোই খুব মেধাবী রৌণক৷ বাবা স্বপন কুমার সিংহ ও পারুল সিংহের চার মেয়ে ও এক ছেলে৷ স্বপনবাবু পেশায় গড়বেতা আদালতে মোহোরী৷ বেশীরভাগ সময় তাকে কাজ নিয়েই থাকতে হয়৷ বাড়ির একমাত্র পুত্র সন্তান বলে বরাবরই রৌণক খুব আদর পেত৷ গত কয়েকদিন ধরে রৌণকের আচরনে একটু অস্বাভাবিকতা লক্ষ করেন বাড়ির লোকেরা৷ তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয় সে কেন চুপচাপ৷ কিন্তু উত্তর দিত না রৌণক কিছুই৷ রৌণক জানিয়েছে গত শুক্রবার তার মোবাইলে একটি লিঙ্ক ম্যাসেজ আসে৷ এবং তাতে ক্লিক করাতেই  ব্লু হোয়েল ইনস্টল হয়ে যায়৷ তারপর লগইন করতেই নানান তথ্য নেওয়া হয় তার কাছ থেকে৷ প্রথমবার ফোন আসে গত শুক্রবার রাত ৮টায়৷ জানতে চাওয়া হয় রৌণকের মনের ব্যাপার সম্পর্কে৷ কোন স্কুলে পড়ে, কি করে সবই জানা ছিল তাদের৷ শনিবার সকাল সাড়ে সাতটায় ফের ফোন করে রৌণককে বলা হয় যে রৌণকের শত্রু হল তার পিতা-মাতা৷ আপন হল একমাত্র নীল তিমির কর্তৃপক্ষই৷ কিছু প্রশ্নও করে তারা এবং তার সমাধানও করতে বলা হয় রৌণককে৷ রবিবার ছিল গেম এর প্রথম ধাপ৷ রবিবার রাত ১২টা ৪০মিনিটে রৌণককে হাত কেটে লিখতে বলা হয় F57 এবং তার ছবি তাদের পাঠাতেও বলা হয়৷ নির্দেশ মতন রৌণক তাই করে৷ সোমবার ছিল দ্বিতীয়ধাপ৷ ভোররাত ৪টা ২০মিনিটে রৌণককে একটি হরর মুভি পাঠায় তারা৷ ৫মিনিট ২৬সেকেন্ডের মুভি দেখতে বলা হয়৷ রৌণক ২ ধাপে তাহা দেখে৷ মঙ্গলবার ছিল তৃতীয় ধাপ৷ সেদিন রৌণককে সারাদিন চুপ থাকতে বলে হয় এবং তিমির ডাক রেকর্ড করে পাঠাতে বলা হয়৷ খেলার প্রথম ধাপেই রৌণক তার এক বান্ধবী কাশ্মীরা নাশরিমকে জানায় এই খেলার কথা৷ নীল তিমিরের পক্ষ থেকে রৌণককে এই খেলায় আরো সদস্য জড়াতে বলা হয়৷ বুধবার সকালে রৌণকের বাড়িতে তারই বন্ধুদের বাবারা আসেন এবং বাড়ির লোককে নীল তিমিরের খেলার কথা বলেন৷ তারা সতর্ক করেন পারুলদেবীকে যে রৌণকের কাছ থেকে মোবাইল কাড়িয়ে নিতে৷ উল্লেখ্য শুক্রবার থেকে স্কুল ও টিউশন যাওয়াও নিষেধ ছিল রৌণকের৷ পরে রৌণক বাড়ির লোকের কাছ থেকে নীল তিমিরের বিষয়টি লুকোতে তার মোবাইল ফরম্যাট করে দেয়৷ বাড়ির লোকেরা আতঙ্কিত তাদের একমাত্র ছেলের জীবন নিয়ে৷ দিদি শ্রেয়া সিংহ বলেন যে ভিডিও কল এ তারা রৌণকের ছবি দেখেছে এবং রৌণককে মেরে ফেলারও হুমকী দিয়েছিল৷ তাই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তারা সকলে৷ রৌণক বুঝতে পারে যে সে খারাপ পথে গেছিল৷ মোবাইলে বিভিন্ন গেম খেলা তার অভ্যেস৷ এছাড়াও গেমস্ এর মিশন কম্প্লিট করাও তার টার্গেট থাকে৷ ব্লু হোয়েল এর মিশন অসমাপ্ত থাকায় কোথাও একটা মানসিক টান এখনও রয়েগেছে রৌণকের মধ্যে৷

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad