বিজেপি ও আরএসএস কাশ্মীরের স্বশাসিত কাঠামোকে শেষ করতে চাচ্ছে: ফারুক আবদুল্লাহ - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Tuesday, 8 August 2017

বিজেপি ও আরএসএস কাশ্মীরের স্বশাসিত কাঠামোকে শেষ করতে চাচ্ছে: ফারুক আবদুল্লাহ


 


জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তণ মুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনাল কনফারেন্সের প্রেসিডেন্ট ডা. ফারুক আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘বিজেপি ও আরএসএস কাশ্মীরের স্বশাসিত কাঠামোকে শেষ করতে চাচ্ছে। এটাই আরএসএসের পরিকল্পনা।’ শ্রীনগরে সোমবার ফারুক আবদুল্লাহ বিরোধীদের এক বৈঠক শেষে ওই মন্তব্য করেন।
ফারুক বলেন, ‘কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা বলেছিলেন, ৩৫-এ ধারা তুলে দেয়া হলে তিনি পদত্যাগ করবেন। আমি আশা করব তিনি তার পুরোনো অবস্থানে অনড় থাকবেন।
অন্যদিকে, জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তণ মুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আবদুল্লাহ কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন,  ৩৫-এ ধারা নিয়ে যদি বৃহত্তর বিতর্ক হয়, তাহলে জম্মু-কাশ্মীরের ভারতভুক্তি নিয়েও এবার বিতর্ক উঠবে। কেন্দ্রীয় সরকার তেমন বিতর্কের জন্য তৈরি আছে তো?  




গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ওমর বলেন, জম্মু-কাশ্মীরের ভারতভুক্তি এবং রাজ্যে ৩৫-এ ধারা কার্যকর থাকা একই মুদ্রার দুটি পিঠের মতো।
ওমর আবদুল্লাহ বলেন, জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অর্থ হল ভারতের সঙ্গে জম্মু-কাশ্মীরের সংযুক্তিকরণকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয়া।  

কাশ্মিরের স্বাধীনতাকামী নেতৃবৃন্দ

তিনি বলেন, জম্মু-কাশ্মীরের তৎকালীন মহারাজা হরি সিং যে চুক্তির মাধ্যমে জম্মু-কাশ্মীরকে ভারতের সঙ্গে সংযুক্ত করেন সেই চুক্তিতেই জম্মু-কাশ্মীরের জন্য বিশেষ মর্যাদার কথা ছিল। ৩৭০ ধারার মতো ৩৫-এ ধারাও সেজন্য জম্মু-কাশ্মীরের জন্য অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।
২০১৪ সালে একটি বেসরকারি সংস্থা জম্মু-কাশ্মীর থেকে ৩৫-এ ধারা তুলে দেয়ার আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন জমা দেয়। জম্মু-কাশ্মীর সরকার পাল্টা হলফনামা জমা দিয়ে ওই আবেদন খারিজ করার দাবি জানালেও কেন্দ্রীয় সরকার কোনো পক্ষ নেয়নি। জম্মু-কাশ্মীর সরকার বার বার অনুরোধ করা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় সরকার ৩৫-এ ধারা বহাল রাখার কোনো সাফাই দেয়নি। বরং গত মাসে ভারতের অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেণুগোপাল বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক হওয়া উচিত বলে সুপ্রিম কোর্টে বলেন। এরপর থেকে ওই বিষয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
গত ২৮ জুলাই নয়াদিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, কারা সংবিধানের ৩৫-এ ধারা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে? আমার দল এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো যাবতীয় ঝুঁকি সত্ত্বেও জম্মু-কাশ্মীরে ভারতের জাতীয় পতাকা বহন করে। আমার কোনো সন্দেহ নেই, সংবিধানের ৩৫-এ ধারা বাতিল করলে জাতীয় পতাকা ধরার কেউ থাকবে না।

মেহবুবা মুফতি

পিডিপির জোট সঙ্গী ও জম্মু-কাশ্মীরে বিজেপির প্রধান মুখপাত্র সুনীল শেঠি অবশ্য বলেছেন, সংবিধানের ৩৫-এ ধারা নিয়ে মেহবুবা যে মন্তব্য করেছেন, সেটা ঠিক নয়। তিনি রাজনৈতিকভাবে ভুল মন্তব্য করেছেন। এই ধারার ফলে উপত্যকায় বৈষম্য তৈরি হয়েছে।  
৩৫-এ ধারা বলে রাজ্য সরকার ঠিক করে, কারা সেখানকার স্থায়ী নাগরিক। তারা বাড়তি সুবিধে পান। ভিন রাজ্যের নাগরিকদের এ রাজ্যে জমি কিনে বসবাসের অধিকার নেই। ১৯৫৬ সালে জম্মু-কাশ্মিরের যে সংবিধান গৃহীত হয়েছিল, সেই সংবিধানে জম্মু-কাশ্মীরের স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে বিবেচিত হতে হলে গেলে কী কী শর্ত তার উল্লেখ রয়েছে। ৩৫-এ ধারা অনুসারে জম্মু-কাশ্মীরের জন্য ওই বিশেষ ব্যবস্থা স্বীকৃতি পেয়েছে।
ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি ৩৭০ ধারা এবং ৩৫-এ ধারা বিলোপের পক্ষে
জম্মু-কাশ্মীরের বিজেপি মুখপাত্র বীরেন্দ্র গুপ্ত বলেন, সংবিধানের ৩৫-এ এবং ৩৭০ ধারা কোনো পবিত্র গাভী নয় যে তাতে হাত দেয়া যাবে না। এই দুটি ধারার চেয়ে সন্ত্রাসবাদ ও মৌলবাদের চ্যালেঞ্জ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে, গতকাল কাশ্মীরের যৌথ প্রতিরোধ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে ৩৫-এ ধারা বাতিলের প্রস্তাবের বিরোধিতা করতে আগামী ১২ আগস্ট কাশ্মীর বনধের ডাক দেয়া হয়েছে।
হুররিয়াত প্রধান সাইয়্যেদ আলী শাহ গিলানী, মীরওয়াইজ ওমর ফারুক এবং জেকেএলএফ প্রধান মুহাম্মদ ইয়াসীন মালিকের পক্ষ থেকে ওই বনধের ডাক দেয়া হয়েছে।
যৌথ প্রতিরোধ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে দেয়া এক কঠোর বিবৃতিতে ওই ঘটনাকে কাশ্মিরে চলমান হত্যা, কাশ্মীরি তরুণদের গণহত্যা, নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, গোটা কাশ্মীর বিশেষ করে দক্ষিণ কাশ্মীরে ইডি/এনআইএ (এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্ট্রেট/ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি) সন্ত্রাস থেকে ভারতীয় জনগণ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ অন্যদিকে ঘোরাতে রাজ্যের শত বছরের পুরোনো আইন পরিবর্তনের চেষ্টা বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad