সুপ্রিম কোর্ট আজ গোপনীয়তাকে মৌলিক অধিকার বলে রায় দিয়েছে। আদালতের ওই রায় কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য বড় ধাক্কা বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। আজ (বুধবার) প্রধান বিচারপতি জে এস খেহরের নেতৃত্বাধীন ৯ সদস্যের বেঞ্চ সর্বসম্মতভাবে ওই রায় ঘোষণা করেন।
কেন্দ্রীয়
সরকারের পক্ষ থেকে গতকাল পর্যন্তও বলা হচ্ছিল, ডিজিটাল যুগে গোপনীয়তা কারো
মৌলিক অধিকার হতে পারে না। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারের ওই
দাবিকে নাকচ করে দিয়েছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল কে
কে বেণুগোপাল সুপ্রিম কোর্টে তার সাফাইতে বলেছিলেন, ‘তথ্যের গোপনীয়তা’
গোপনীয়তার অধিকার নয় এবং তা কখনই মৌলিক অধিকারও হতে পারে না।’
আদালতে কেন্দ্রীয়
সরকারের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা তার সাফাইতে বলেন,
‘এখন ডিজিটালের সময়, এতে গোপনীয়তা বলে কিছু নেই।’
তিনি বলেন, সাধারণ
মানুষের তথ্য সুরক্ষার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত
বিচারপতি বি এন শ্রীকৃষ্ণের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে। ওই
কমিটিতে ‘ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অফ ইন্ডিয়া’র মুখ্য কর্মকর্তাকেও
রাখা হয়েছে।
আদালতের বাইরেও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা সাফাই দিয়েছিলেন, বর্তমান সময়ে সবকিছু ডিজিটাল সেজন্য এর মধ্যে গোপনীয়তা বলে কিছু নেই।
আজ আদালতের রায়কে
কংগ্রেসসহ বিরোধীদলীয় নেতারা স্বাগত জানিয়েছেন। সাবেক কেন্দ্রীয়
অর্থমন্ত্রী ও কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা পি চিদম্বরম বলেন, ‘গোপনীয়তা রক্ষা
মৌলিক অধিকার। ১৯৪৭ সালে যে স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম, তা আরো সমৃদ্ধ হল।
গোপনীয়তা রক্ষাই ব্যক্তি স্বাধীনতার ভিত্তি প্রস্তর। সংবিধানের ২১ নং
অনুচ্ছেদ আরো গুরুত্ব পেল।’
কংগ্রেসের মুখপাত্র
রণদীপ সূর্যেওয়ালা বলেন, সুপ্রিম কোর্ট আজ ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে। সংবিধানের
ফাঁকফোকর তুলে ধরে মানুষের ব্যক্তি স্বাধীনতা গুঁড়িয়ে দিতে চেয়েছিল মোদি
সরকার। সুপ্রিম কোর্ট সেই চেষ্টা ভেস্তে দিয়েছে। স্বাধীনতার জয় হয়েছে।’
সাবেক কেন্দ্রীয়
মন্ত্রী মনীশ তিওয়ারি বলেন, ‘আশাকরি এবার অন্তঃত মোদি সরকার আমার রান্নাঘর,
শোয়ার ঘর এবং আলমারির কাছে ঘুরঘুর করবে না। আড়ি পাতবে না ব্যক্তিগত
কথোপকথনে।’
সিপিআই(এম)-এর মহাসচিব
সীতারাম ইয়েচুরি বলেছেন, ‘মানুষের মৌলিক অধিকার খর্বের সবরকম অশুভ
পরিকল্পনা করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। আইনজীবী, সমাজকর্মীসহ যারা তার বিরুদ্ধে
লড়াই চালিয়েছেন, তাদের সকলকে অভিনন্দন।’
কেন্দ্রীয় সরকারের
পক্ষ থেকে ‘আধার’ কার্ড চালু হওয়ার পর নাগরিকদের গোপন তথ্য ফাঁস হয়ে হচ্ছে
বলে গত কয়েক মাসে আদালতে একাধিক আবেদন জমা পড়ে। আধার কার্ডের বহু তথ্য ফাঁস
হয়ে গেছে বলে অভিযোগ ওঠে। এরফলে নাগরিকদের ব্যক্তিগত জীবনে গোপনীয়তা বলে
কিছু অবশিষ্ট থাকছে না বলে অভিযোগ।
আদালতে আবেদনকারীরা
দাবি করেন, ‘আধার’ প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ ও
আদানপ্রদান গোপনীয়তা রক্ষার ‘মৌলিক’ অধিকারের লঙ্ঘন।
আজ সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের ফলে ‘আধার’ সংক্রান্ত আইনের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্নচিহ্ন উঠে গেল বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

No comments:
Post a Comment