রাজ্যসভায় নেতৃত্ব দেওয়া থেকে শরদ যাদবকে সরালেন নীতীশ কুমার। এতদিন সংযুক্ত জনতা দলের হয়ে সংসদের উচ্চকক্ষে নেতৃত্ব দিতেন তিনি। তাঁর জায়গায় নীতীশ বিশ্বস্ত রামচন্দ্র প্রসাদ সিংকে আনা হয়েছে। উপ রাষ্ট্রপতি বেঙ্কাইয়া নাইডুকে ইতিমধ্যেই লিখিত দিয়েছেন জেডিইউ সাংসদরা। তাতে নিজেদের সিদ্ধান্তের কথা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। তবে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়নি তাঁকে।
বিহারে সংযুক্ত জনতা দলের সভাপতি বশিষ্ঠ নারায়ণ সিং। তিনিই খবর নিশ্চিত করেছেন। শনিবার দলের হয়ে বিবৃতি দিয়েছেন, ‘আরসিপি সিংকে রাজ্যসভায় দলের নেতা নির্বাচন করেছি আমরা। গতকাল উপরাষ্ট্রপতি বেঙ্কাইয়া নাইডুর সঙ্গে দেখা হয়। লিখিত জমা দিয়ে তাঁেকও নিজেদের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছি।’ বর্ষীয়ান এই রাজনীতিকের বিরুদ্ধে দলবিরোধী কাজের অভিযোগ তুলেছেন তিনি। বলেছেন, ‘নেতা হওয়া সত্ত্বেও কেউ যদি দল বিরোধী কাজ করেন, তা মেনে নেওয়া অসম্ভব। কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন ছিল। তাই হয়েছে।’
তবে বর্ষীয়ান এই রাজনীতিককে দল থেকে ছেঁটে ফেলা হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন বশিষ্ঠ নারায়ণ সিং। জানিয়েছেন, ‘ওঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়নি। জায়গা বদল করা হয়েছে। যা খুব দরকার ছিল।’ রাজ্যসভায় সংযুক্ত জনতা দলের ১০ সাংসদ রয়েছে। তবে দলবিরোধী কাজের অভিযোগে গতকাল রাতেই আলি আনোয়ারকে সাসপেন্ড করেছে তারা। কারণ রাজধানীতে সোনিয়া গান্ধীর নেতৃত্বে বিরোধীদের বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন তিনি।
সংযুক্ত জনতা দলের নেতৃত্ব নিয়ে বেশ কিছু বছর ধরেই নীতীশ কুমারের সঙ্গে শরদ যাদবের মন কষাকষি চলছিল। এ বছর জুলাই মাসে তা চরমে ওঠে। দুর্নীতির অজুহাত দেখিয়ে আচমকাই রাষ্ট্রীয় জনতা দল ও কংগ্রেসের ‘মহাজোট’ থেকে বেরিয়ে যান নীতীশ কুমার। বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিহারে রাতারাতি নয়া সরকার গড়েন। শুরু থেকেই তাঁর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন শরদ যাদব। নীতীশ বিহারবাসীকে ঠকিয়েছেন বলে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন। এমনকী লালুপ্রসাদ যাদবের ‘বিজেপি হটাও দেশ বাঁচাও’ আন্দোলনে যাবেন বলেও জানান। তাতেই নাকি ধৈর্য্যের বাঁধ ভাঙে বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর। পুরনো ‘শত্রু’কে জব্দ করতে উদ্যত হন।
শুক্রবার রাজধানীতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন নীতীশ। সেখানে তাঁকে এনডিএ শিবিরে যোগ দিতে আহ্বান জানানো হয়। বৈঠক সেরে বেরিয়েই শরদ যাদববের প্রিত নিজের মনোভাব স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন তিনি। বর্ষীয়ান নেতার উদ্দেশে শ্লেষ মিশিয়ে বলেন, ‘যে চুলোয় ইচ্ছে যান দেখি!’ তারপরই দলের তরফে এই ঘোষণা। তবে জেডিইউয়ের অধিকাংশ সদস্য তাঁর সঙ্গে আছেন বলে এখনও দাবি করছেন শরদ যাদব। নীতীশ অনুগামীদের তিনি ‘সরকারি জেডিইউ’ বলে উল্লেখ করেছেন।
No comments:
Post a Comment