হরিয়ানার ডেরা সচ্চায় যারা হিংসা চালাচ্ছেন তাঁদের কোনও ভাবেই রেয়াত করা হবে না। রবিবার মন কি বাতে এমনই কড়া বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, ‘যাঁরা আইন হাতে নিয়ে হিংসা চালাচ্ছেন, সে যত ক্ষমতাশালীই হোন না কেন তাঁকে রেয়াত করা হবে না। ভারত মহাত্মা গান্ধী ও গৌতম বুদ্ধের ভূমি, সেখানে কোনও রকম হিংসা বরদাস্ত করা হবে না। কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে তাঁদের।’
স্বঘোষিত ধর্মগুরু গুরুমিত রাম রহিমকে দোষী সাব্যস্ত করার পরেই হরিয়ানা ও পাঞ্জাবে হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। রাম রহিমের সমর্থকরা দুই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় তাণ্ডব চালায় বলে অভিযোগ। রেলস্টেশন, পেট্রোল পাম্পে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এখনও পর্যন্ত হিংসায় মৃত্যু হয়েছে ৩৬ জনের আহত হয়েছেন প্রায় ২৫০ জন। পরিস্থিতি সামাল দিতে র্যাফ নামানো হয়েছে। পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, কোনও রকম হিংসা রাজ্যে বরদাস্ত করা হবে না। যাঁরা হিংসার আশ্রয় নিচ্ছেন তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোমবার রোহতকের সুনিয়ারা জেলের সাজা ঘোষণা গুরমিত রামরহিমে সিংয়ের। ডেরা সাচা সংগঠনের প্রধান তিনি। তবে অপরাধ জগতে দীর্ঘদিনের ওঠবোস তাঁর। মাথায় বন্দুক ঠেকিয়েই নাকি ডেরা সাচার নেতৃত্ব আদায় করে নিয়েছিলেন। সিরসায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী মানুষ এমনটাই দাবি করেন। রাজস্থানের শ্রী গঙ্গানগর জেলায় জন্ম রামরহিমের। তবে তখনও ডেরা প্রধান হয়ে ওঠেননি। সকলের কাছে গুরমিত সিং নামে পরিচিত ছিলেন। বাবা মঘন সিং বাড়িতে ভাড়া বসিয়ে রোজগার করতেন। মা নসিব কৌর সাধারণ গৃহবধূ ছিলেন। মঘন সিংই প্রথম ডেরা সাচা সওদায় নাম লেখান। সেটি একটি সমাজকল্যাণমূলক ধর্মীয় সংগঠন ছিল। ১৯৪৮ সালে যার পত্তন করেন বাবা বালুচিস্তানি বেপরওয়া মস্তানাজি। তাঁর পর সংগঠনের মাথায় বসেন শাহ সতনাম। তিনি খতরি শিখ ছিলেন। আর মঘন সিং ছিলেন জাঠ শিখ। শাহ সতনামের একনিষ্ঠ ভক্ত ও সহযোগী হয়ে ওঠেন তিনি। বাবার হাত ধরেই ডেরা সাচায় প্রবেশ ঘটে গুরমিত সিংয়ের। অল্প বয়সে ধর্মে বিলকুল মতি ছিল না তাঁর। কিন্তু বাবার জন্য যেতে হতো। সেখানে গুজরান্ত সিং নামের এক বন্ধু জোটে। কাকার খুনের প্রতিশোধ নিতে গিয়ে হাজতবাস করতে হয় তাকে। কিন্তু অল্পদিনের মধ্যেই ছাড়া পেয়ে যায়। জেল থেকে বেরিয়ে বিচ্ছিন্নতাকামী খালিস্তানি জঙ্গি সংগঠনে নাম লেখায়। অল্পদিনের মধ্যেই সংগঠনের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠে সে। গুরমিত সিং তখনও ডেরা সদস্য। ট্র্যাক্টর চালিয়ে, বাবার সঙ্গে সভা করে অল্পবিস্তর রোজগার করছেন। সেই সময় ডেরা সাচা থেকে অবসর নেওয়ার কথা ঘোষণা করেন শাহ সতনাম। তিন প্রতিযোগীর মধ্যে থেকে একজনকে উত্তরাধীকারী বেছে নেওয়ার কথা ছিল। তাতে গুরমিত সিংয়ের কোনও উল্লেখ ছিল না। কিন্তু কাউকে কিছু না জানিয়ে আচমকাই ২৩ বছর বয়সী শিষ্যপুত্রকে উত্তরাধিকারী ঘোষণা করেন তিনি। নাম রাখেন হুজুর মহারাজ গুরমিত রামরহিম। তাঁর এমন সিদ্ধান্তে অনেকেই অবাক হয়েছিলেন। তবে সিরসার মানুষের দাবি, খালিস্তানি জঙ্গি ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু গুজরান্ত সিংকে দিয়ে শাহ সতনামের মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে নেতৃত্ব আদায় করে নেন রামরহিম। যদিও খাতায় কলমে আজ পর্যন্ত তার প্রমাণ মেলেনি। তবে রামরহিমের উত্থানের জন্য গুজরান্তকেই কৃতিত্ব দেওয়ার পক্ষপাতী তাঁরা। রামরহিম ডেরার দায়িত্ব হাতে পাওয়ার কিছুদিন পরই মোহালিতে নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে মৃত্যু হয় গুজরান্ত সিংয়ের।

No comments:
Post a Comment