মধ্যযুগীয় বর্বরতা মালদার গাজোলে।আবার সালিশীর মাধ্যমে বিধান দিয়ে সাত মাসের অন্তসত্ত্বা এক আদিবাসী গৃহবধূর উপর নির্যাতন। অবৈধ সম্পর্কের সন্দেহে আধিবাসী গৃহবধূর মাথার চুল কেটে দিলো সমাজের মাতব্বররা।শুধু তাই নয় তাঁর শ্লীলতাহানিও করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এছাড়া চুলকাটা অবস্থায় জুতোর মালা পরিয়ে গোটা গ্রাম ঘোরানো হয়েছে। সমাজের মাতব্বররা এই গৃহবধূকে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা জরিমানাও করেছেন। না দিতে পারলে গ্রাম ছাড়ার হুমকীও দিয়েছেন এই আধিবাসী গৃহবধূকে। অবশেষে সুবিচারের আশায় এবং সমাজের এহেন মাতব্বরদের শাস্তির দাবীতে গাজোল থানার পুলিশের দারস্থ হয়েছেন এই অন্তঃসত্ত্বা আধিবাসী মহিলা। ঘটনার অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে অভিযুক্তরা এখনও অধরা।
গাজোল থানার পাহাড়ভিটা গ্রামের ঘটনা এটি। আদিবাসী গৃহবধূর অভিযোগ গাজোল থেকে বাজার করে বাসে পাহাড়ভিটা গ্রামে ফিরছিলেন তিনি। বাসে গ্রামেরই পরিচিত এক যুবকের পাশের সিটে বসেন তিনি। তা দেখে ফেলেন গ্রামেরই কয়েকজন। এরপর তারা সন্দেহ করে এই যুবকের সাথে তাঁর অবৈধ সম্পর্কের। আর তা নিয়ে সালিশিও হয়। এরপর এলাকার এই সাত আধিবাসী যুবকরা হলেন খিটকান্দু কোড়া, জোতিন কোড়া,অঞ্জন কোড়া, সঞ্জয় কোড়া, লালন কোড়া, বুক্কা কোড়া ও করল কোড়া রাতের অন্ধকারে চড়াও হয় তাদের বাড়িতে। অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে তুলৈ নিয়ে তাঁর মাথার চুল কেটে দেয় এবং তাঁর শ্লীলতাহানি করে বলে অভিযোগ। এরপর গতকাল গাজোল থানায় বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ দায়ের করে। এরপরই পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করে। যদিও পুলিশ এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারে নি। বিষয়টি তদন্ত চলছে বলে এড়িয়ে গেছেন জেলার পুলিশ কর্তারা।বিষয়টি থানায় অভিযোগ হওয়ায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান অন্তঃসত্ত্বা আধিবাসী মহিলার সাথে অন্যায় করা হয়েছে। গৃহবধূর মাথার চুল কেটে জুতো পড়িয়ে গোটা গ্রাম ঘোরানো ঠিক হয় নি সমাজের মাতব্বরদের।

No comments:
Post a Comment