চাঞ্চল্যকর : নন্দীগ্রাম মাওবাদী সাহায্যে আন্দোলন করেছিল তৃণমূল দাবি মাও নেতার - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, 7 September 2017

চাঞ্চল্যকর : নন্দীগ্রাম মাওবাদী সাহায্যে আন্দোলন করেছিল তৃণমূল দাবি মাও নেতার


জাহাঙ্গীর বাদশা: তিনি মাওবাদী নেতা। নন্দীগ্রাম জমি আন্দোলনে সিপিএমের সশস্ত্র বাহিনীকে সম্মুখ সমরে রুখে দেওয়ার ক্ষেত্রে যার ভূমিকা অনস্বীকার্য সেই মাওবাদী নেতা মধুসূদন মন্ডল ওরফে নারায়ণ ওরফে সেলিম অকপটে জানিয়ে দিলেন, "সেদিন লড়েছিলাম শুভেন্দুর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে"।

শুভেন্দু অর্থাৎ বর্তমানে রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী তথা নন্দীগ্রামের বিধায়ক এবং জমি আন্দোলনের হোতা শুভেন্দু অধিকারী। মাও নেতা মধুসূদনের সাফ মন্তব্য, নন্দীগ্রাম আন্দোলনের জন্য তাঁদের গোটা পরিবার শুভেন্দুবাবুর সঙ্গে থেকেই আন্দোলনে সামিল হয়েছিলেন। এই আন্দোলনের জন্যই বাম সরকার তাঁকে মাওবাদী তকমা দিয়েছিল। কিন্তু সেই আন্দোলন না হলে রাজ্যে আজ পরিবর্তন হত না। আর এখনও তিনি সেই মাওবাদী তকমা বয়ে বেড়াচ্ছেন। এত আন্দোলনে রাজ্যে যে কি পরিবর্তন হল তা সবাই দেখছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

পুলিশ সূত্রে খবর, অসুস্থ মা'কে দেখার জন্য আলিপুর সেন্ট্রাল জেল থেকে কয়েক ঘন্টার জন্য প্যারোলে মুক্ত হয়েছিলেন মাওবাদী নেতা মধুসূদন মন্ডল। বুধবার কড়া পুলিশি প্রহরায় প্রিজন ভ্যানে চড়ে তিনি হাজির হন হলদিয়ার দুর্গাচকের 'জি' ব্লকের নিজের বাড়িতে। যেখানে রয়েছেন তাঁর বৃদ্ধা মা, ভাই ও আত্মীয়রা। সকলের চোখে ঝরে পড়ছিল জলের ধারা। মাও নেতাকে দেখতে এদিন উপচে পড়েছিল আত্মীয়দের ভীড়। পরিবারের সঙ্গে তিনি বেশ খোশ মেজাজে কাটানোর পাশাপাশি গান করেন। পরে পুলিশি প্রহরায় তিনি পুনরায় জেলে ফিরে যান।

প্রসঙ্গতঃ ২০০৭ সালে নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলনে মাওবাদীদের প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল বলে দাবী জানিয়ে এসেছে তৎকালীন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সরকার। কিন্তু শাসক দল তৃণমূল জমি আন্দোলনের সঙ্গে মাওবাদীদের কোনও সম্পর্ক নেই বলেই জানিয়েছে। এবার মাও নেতা মধুসূদন মন্ডলের স্বীকারোক্তি কিছুটা হলেও তৃণমূলকে বিড়ম্বনায় ফেলবে সন্দেহ নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নন্দীগ্রাম জমি আন্দোলনের প্রথম সারির এক নেতা জানিয়েছেন, ২০০৭ সালের ৩ জানুয়ারী যেদিন ভুতার মোড়ে পুলিশের গুলিচালনার ঘটনা ঘটে সেদিন থেকেই নন্দীগ্রাম জমি আন্দোলনে প্রত্যক্ষ ভাবে যুক্ত হয়েছিলেন এই লড়াকু নেতা মধুসূদনবাবু। ২০০৭ সালের ১০ নভেম্বর নন্দীগ্রামে সিপিএমের সূর্যোদয় ঘটানোর সময় পর্যন্ত মধুসূদনবাবু সোনাচূড়াতেই ছিলেন। দিনের পর দিন সিপিএমের সশস্ত্র হামলাকে রুখে দিয়েছিলেন এই জঙ্গী নেতা। তাঁর অবদান জমি আন্দোলনকারীরা মনে রাখবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad