ধৃত জঙ্গি শামিয়ান রহমান রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের আল কায়দায় নিয়োগ করার দায়িত্বে নিযুক্ত ছিল। ভারত এবং মায়ানমার সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য রোহিঙ্গাদের নিয়োগ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছিল। তার আগেই অবশ্য গত পরশু দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল পূর্ব দিল্লির বিকাশমার্গ এলাকা থেকে আল কায়দার এই মূল নিয়োগকারী
কে গ্রেপ্তার করে।
জানা গেছে, শামিয়ান রহমান ব্রিটিশ নাগরিক। যদিও তার পারিবারিক শিকড় বাংলাদেশে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, সে দিল্লি, মিজোরাম ও মণিপুরে রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের আল কায়দায় নিয়োগ করছিল।
শামিয়ান একসময় কায়দা অল নুসরা ফ্রন্টের হয়ে আলেপ্পো এবং সিরিয়ায় যুদ্ধ করেছে। পরে তাকে বাংলাদেশে সংগঠনের নিয়োগকারী হয়ে পাঠানো হয়। সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে আর্থিক যোগান দেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশে সে গ্রেপ্তার হয়েছিল। ২০১৭ সালের এপ্রিলে অবশ্য তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে নুসরা জঙ্গি মহম্মদ জোলানি তার সঙ্গে যোগযোগ করে। তাকে ভারতে গিয়ে রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের নিয়োগ করার নির্দেশ দেয়। ‘প্রোটেকটিভ টেক্সট’ নামে একটি অ্যাপের মাধ্যমে কায়দা এবং নুসরা জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত শামিয়ান।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে শামিয়ান জানিয়েছে, সে কাশ্মীর, উত্তর-পূর্ব, দিল্লি, বিহার এবং ঝাড়খণ্ডের হাজারিবাগ থেকে ইতিমধ্যেই ১২জন রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুকে জালে তুলে ফেলেছিল।
DC স্পেশাল শেল প্রমোদ কুশওয়া বলেন, “সে দিল্লি এবং উত্তরপূর্বের রাজ্যগুলিতে বেস তৈরি করছিল। এবং ভারত ও মায়ানমার সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য নবনিযুক্তদের তৈরি করছিল। তাকে ভারতের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে থাকা আল কায়দা ক্যাডাররা সাহায্য করছিল। ওইসব ক্যাডারকে শনাক্ত করার কাজ চলছে।”
শামিয়ানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ একটি ভোটার কার্ড উদ্ধার করেছে। যাতে বিহারের কিষাণগঞ্জনিবাসী শোমন হক নামে জনৈকের নাম ছিল। পাশাপাশি তার কাছ থেকে বিদেশি মুদ্রা, ল্যাপটপ, নাইন এমএম পিস্তল এবং ম্যাগাজিনও উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হয় ভারতে ও বাংলাদেশের সিমকার্ড।

No comments:
Post a Comment