উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় ডেঙ্গুতে মৃত্যুর মিছিল প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য স্বাস্থ্যঅধিকর্তা থেকে শুরু করে জেলাশাসক-সহ অনান্য আধিকারিকদের আসা-যাওয়া শুরু হয়েছে।
শুক্রবার হাবড়ার বাসিন্দা রমলা গোলদারের (২৫) মৃত্যু হয়েছে কলকাতার আর জি কর হাসপাতালে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রমলা দেবীকে বৃহস্পতিবার রাতে হাবড়া হাসপাতাল থেকে কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। এদিন সকালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বাগুইআটির এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে। শুক্রবার হাবড়া হাসপাতালে পরিদর্শন করেন রাজ্য স্বাস্থ্যঅধিকর্তা বিশ্বরঞ্জন শতপথি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রাঘবেশ মজুমদার। হাসপাতাল পরিদর্শনের পর স্বাস্থ্য অধিকর্তা জানিয়েছেন, আগামী সোমবার থেকে প্রতিদিন অতিরিক্ত ডাক্তার এবং নার্স হাবড়া হাসপাতালে থাকবেন। বর্তমানে প্রতিদিন ২০ জনের রক্তের নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও সোমবার থেকে ৭০ জনের রক্তের নমুনা পরীক্ষা করা হবে। তার বক্তব্য, এ পর্যন্ত এই জোলায় ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ১০ জন।
কিন্তু রাজ্য স্বাস্থ্যঅধিকর্তা যে পরিসংখ্যানই দিক না কেন, উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। প্রশাসনের বিশেষ কোনও উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। হাসপাতালগুলিতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা হাসপাতালের বেডের সংখ্যার থেকেও বেশি বলে জানা গেছে। শুক্রবার পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ২২ জন।
বৃহস্পতিবার জেলাশাসক, জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক, ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক-সহ অন্যান্য আধিকারিকরা দেগঙ্গায় যান। প্রথমে বি এম ও এইচ অফিসে প্রশাসনিক বৈঠক শেষে দেগঙ্গার টাকি রোডের পাশে গ্রাম পরিদর্শন করে গ্রামের মানুষের সঙ্গে তাঁরা কথা বলেন। গ্রামের মানুষের অভিযোগের ভিত্তিতে জেলাশাসক জানিয়েছেন সব মৃত্যুই ডেঙ্গির কারণে নয়। ডেঙ্গু নিয়ে অপপ্রচার চলছে। তবে হাসপাতালগুলিতে স্বাস্থ্য পরিষেবা যাতে পর্যাপ্ত থাকে সে বিষয়ে তিনি নজর রাখবেন।
শুক্রবার হাবড়ায় ডেঙ্গুতে রমলা গোলদার ছাড়াও দেগঙ্গায় মৃত্যু হয়েছে বিলকিস বেগম নামে ৩০ বছরের এক মহিলার। মৃত্যু হয়েছে বাগুইআটির এক মহিলার। আমডাঙার সাধনপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বেড়াবেড়ি গ্রামে প্রতীক ধারা (২৮), রীনা দেশি (৩০)-সহ আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে ডেঙ্গুতে। বিগত ১৫ দিনের মধ্যে দেগঙ্গায় ১০জন, হাবড়ায় ৬জন, আমডাঙায় ৩জন ও বসিরহাটে ২ এবং বাগুইআটিতে ১জন মহিলাকে নিয়ে উত্তর ২৪ পরগনায় ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ২২জনে। এছাড়া দেগঙ্গা,হাসনাবাদ,বাদুড়িয়া,আমডাঙা, গাইঘাটা ও হাবড়ার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। এছাড়া বহু ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা বাড়িতে চলছে।
সুত্র : গণশক্তি।

No comments:
Post a Comment