গভীর নিম্নচাপের জেরে উত্তাল হল দিঘার সমূদ্র। যার জেরে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই রামনগর থানার শংকরপুরের জলধা, চাঁদপু এলাকায় বাঁধ উপচে গ্রামে জল ঢুকতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাতেই গ্রামবাসীরা বাঁধ মেরামতের চেষ্টা করেছেন। অন্যদিকে শুক্রবার সকালে রামনগরের বিধায়ক অখিল গিরি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছেন। চূড়ান্ত আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন গ্রামবাসীরা।
স্থানীয় সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরেই ভাঙনে বিপর্যস্ত কাঁথি মহকুমার উপকূল বাঁধ। ১৩ কিমির মতো বাঁধের কাজ সেচ দপ্তর করতে পারলেও অর্থাভাবে দীর্ঘ সমূদ্রবাঁধ অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। এবার বিপদ বাড়িয়ে দিয়েছে নিম্নচাপের জেরে লাগাতার বৃষ্টি। ভারী বৃষ্টি আর ঝড়ো হাওয়ায় উত্তাল হয়ে উঠেছে সমূদ্রের জল। জলের ধাক্কায় চাঁদপুর, জলধা এলাকায় বাঁধের অস্তিত্ব চূড়ান্ত বিপন্ন।
বৃহস্পতিবার রাতে সমুদ্রের জল বিপদ সীমার ওপর দিয়ে বইতে শুরু করায় ঘুম ছুটেছে স্থানীয়দের। খবর পেয়েই স্থানীয় পঞ্চায়েত ও ব্লক প্রশাসনের কর্তারা পৌঁছেছেন চাঁদপুরের বিপর্যস্ত এলাকায়। জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ মেরামত করতে বলা হয়েছে সেচ দপ্তরকে। তৈরি রাখা হয়েছে দুর্যোগ আশ্রয় কেন্দ্র ও বিপুল ত্রাণ। সব মিলিয়ে আসন্ন বিপদের প্রহর গুনছেন উপকূলের মানুষ।
এই মুহূর্তে জলের ঢেউ দুর্ধর্ষ ভাবে আছড়ে পড়ছে দিঘার সমূদ্র তটে। যার জেরে পর্যটকদের সমূদ্রে নামতে নিষেধ করা হয়েছে। অন্যদিকে মৎস্যজীবিদেরও এই মুহূর্তে সমূদ্রে নামা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। জেলা শাসক রশ্মি কমল জানিয়েছেন, এদিন বিপজ্জনক আবহাওয়ার জন্য জেলার সমস্ত ভুটভুটি ফেরি সার্ভিস বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও কুকড়াহাটি-ডায়মন্ডহারবার বা গেওখালি থেকে নুরপুর, গাদিয়াড়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ লঞ্চ পরিষেবা চালানো হচ্ছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে।



No comments:
Post a Comment