ধর্ম রক্ষা করতে সঙ্ঘের মঞ্চ থেকে অস্ত্রধারণের বার্তা দেওয়া হল - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Sunday, 1 October 2017

ধর্ম রক্ষা করতে সঙ্ঘের মঞ্চ থেকে অস্ত্রধারণের বার্তা দেওয়া হল






খড়দহ, ৩০ সেপ্টেম্বর :

 রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের মঞ্চ থেকে সরাসরি শক্তি উপাসনার পূজারী হবার আহ্বান জানালেন দক্ষিণ বঙ্গের সহপ্রান্ত প্রচারক শ্যামাচরণ রায়। তার আবেদনে সঙ্ঘের বিজয়াদশমী উৎযাপন প্রকারান্তরে অস্ত্রধারণের শপথ-মঞ্চ হয়ে দাঁড়ায়। এদিন সঙ্ঘের কর্ণমাধবপুর শাখায় ছিল শস্ত্র-পূজনের উদ্যোগ। প্রায় শ'খানেক স্থানীয় স্বয়ংসেবকের উপস্থিতিতে শ্যামাচরণ বাবু কাশ্মীরি-পন্ডিতদের বাস্তুচ্যুতি, রোহিঙ্গা মুসলমানদের উগ্রপন্থা সহ নানান সাম্প্রতিক প্রসঙ্গ উত্থাপন করে বলেন কেন হিন্দুদের আজ সমবেতভাবে অস্ত্রচালনা শিখতে হবে। কেন অমৃতের সন্তানদের দেশ ও জাতিকে রক্ষার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে। সঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাদিবস ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভশক্তির জাগরণের জন্যই সঙ্ঘ তার রাষ্ট্রচিন্তাকে প্রসারিত করেছে। অলক্ষ্যে এর উপর আশির্বাদ আছে স্বামী বিবেকানন্দ, ভগিনী নিবেদিতা আর স্বামী প্রণবানন্দের। তারা যা চেয়েছিলেন সঙ্ঘ তারই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করেছে।

বিশেষ অতিথির ভাষণে বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কল্যাণ চক্রবর্তী বলেন বেদের প্রার্থনা মন্ত্রেই আছে শক্তির উপাসনা। সেখানে তেজস্বী করতে, বলবান করতে, বীর্যবান করতে,ওজস্বী করতে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করা হয়েছে। স্বামীজি বলেছেন পৃথিবী একটি বৃহৎ জিমনেশিয়াম, এখানে আমরা শক্তিমান হতে আসি। তাই অস্ত্রপূজাকে ড. চক্রবর্তী অস্ত্র, পেশীশক্তি ও মগজাস্ত্র শান দেবার দিন হিসাবে উল্লেখ করেন। বিজয়াদশমী মানে অশুভ শক্তির বিপ্রতীপে শুভশক্তির জয়মাল্য পড়ার দিন। তিনি শ্রোতৃমণ্ডলীকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ভুলে গেলে চলবে না, এই লড়াই একেবারে থেমে গেছে। যতদিন না তা থামছে অস্ত্রে শান চলবেই। অস্ত্র কেবল বহন করলেই চলবে না, শুভঙ্করী কাজে তা ব্যবহার করতে হবে। শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই যুদ্ধ চাই। কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের শিক্ষা হল 'ক্ষেত্রে ক্ষেত্র ধর্ম কুরু'। স্বামীজিকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেন কাপুরুষতাই পাপ আর সাহসিকতাই পুণ্য। আর যা পুণ্য তাই হল ধর্ম। আত্মশক্তিতে জেগে ওঠাই হল অস্ত্রপূজার তাৎপর্য।
সভাপতির ভাষণে সমাজসেবী দীপক কুমার কুন্ডু বলেন, দুর্গা-ভাসান নিয়ে মানুষের মনে যে ক্ষোভ জমে উঠেছিল কোর্টের রায়ে তা আনন্দ-উৎসবে পর্যবসিত হয়েছে। সরকার সংখ্যা-গরিষ্ঠ মানুষকে এইভাবে বেশীদিন দমিয়ে রাখতে পারবে না। এই সরকার অশুভ-শক্তির দ্যোতক, তাই তার পরাজয় অবশ্যম্ভাবী। ফুল-চন্দনে অস্ত্র-পূজায় অংশ নেন অতিথিবৃন্দ। পরিবেশিত হয় সঙ্ঘ-সংগীত ও সৌকর্য। পরিশেষে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গকে মিষ্টমুখ করানো হয়।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad