সরাসরি সাংবাদিকদের যা জানালেন মুকুল রায়। আমরা তাঁর বয়ানেই তুলে দিলাম সেই কথা। মুকুল বললেন, 'গত ২৫ সেপ্টেম্বর সাংবাদিকদের বলেছিলাম, আমি দল ও রাজ্যসভার পদ থেকে ইস্তফা দেব। সেই কথা রেখেই আমি আজ সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলাম। দলের সমস্ত পদ থেকেও ইস্তফা দিলাম। সাড়ে তিনটের সময় উপরাষ্ট্রপতির ঘরে গিয়ে ইস্তফা জমা করেছি। গভীর যন্ত্রণা কাজ করেছে আমার মধ্যে। তৃণমূলের রাজনৈতিক দলের রেজিস্ট্রেশন আমার হাত ধরে হয়েছিল, ১৯৯৭ সালের ১৭ ডিসেম্বর। আমি নির্বাচন কমিশনে পাঠানো তৃণমূলের অনুমতি পত্রেও আমার সই ছিল। ২৬ ডিসেম্বর তৃণমূল কংগ্রেসকে দলের মর্যাদা দেওয়া হয়, আমার নামে সেই চিঠি আসে। ২৪ ডিসেম্বর আমি নির্বাচন কমিশনকে জানাই মমতা কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যুক্ত হয়েছিলেন। এসবই ইতিহাস। সুব্রত বক্সী তখন একজন সরকারি কর্মী ছিলেন। তাই তাঁর হাত ধরে দলের রেজিস্ট্রেশন পাওয়া সম্ভব ছিল না। প্রথম নির্বাচন, ১৯৯৮ সালে আমরা বিজেপির সঙ্গে জোট করেছিলাম। ১৮টি আসন বিজেপিকে দিয়েছিলাম। সেই বারে কেন্দ্রীয় সরকারকে আমরা সমর্থন দিয়েছিলাম। পরের বারেও তৃণমূল সরকারকে আমরা সমর্থন দিয়েছিলাম। তখন আদবানি ভালো ছিলেন, আর এখন মোদি খারাপ মানুষ হয়ে গিয়েছেন। এরপরে আমরা ইউপিএ সরকারের সঙ্গে জোট করি। ২০০৩ সালে মমতা কয়লা মন্ত্রী হন। ২০০৯ সালে আমরা ইউপিএ ২ এ যোদ দি। তখনও ফের মমতা রেলমন্ত্রী হন। ২০১২ সালে ২০ সেপ্টেম্বর, কংগ্রেসের সঙ্গ ছাড়ে তৃণমূল। এরপর ২০১৪ সাল পর্যন্ত সংসদে বাইরে ভিতরে তৃমমূল ছিল বৃহত্তম সরকার। আমরা একটি দল তৈরি করেছিলাম কংগ্রেসের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে, কিন্তু এখন দল মনে করে কংগ্রেস ছাড়া সম্ভব নয়। তাহলে তো এখন দু'দল এক হয়ে গেলেই হয়। আমি এরএসএস সমর্থকদের সঙ্গে কাজ করেছি। আমার ও আরএসএসের সঙ্গে যোগ আছে। আমি নতুন দল বা অন্য বিষয় নিয়ে কালীপুজোর পর কথা বলব। প্রথম দিন থেকেই আমি দল তৈরি করেছি, মমতাকে সামনে রেখে। আমরা তাঁর সহযোদ্ধা, তাঁর চাকর নই।' বুধবার রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর একথা জানালেন মুকুল। এর আগে, পদত্যাগপত্র জমা দিলেন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান তথা উপরাষ্ট্রপতি বেঙ্কাইয়া নাইডুর কাছে।
সুত্র; আজকাল

No comments:
Post a Comment