জাতীয় সাধারণ সম্পাদক পদ পাওয়া নিয়েই টানাপোড়েন চলছে বিজেপি–র সঙ্গে মুকুলের - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Friday, 13 October 2017

জাতীয় সাধারণ সম্পাদক পদ পাওয়া নিয়েই টানাপোড়েন চলছে বিজেপি–র সঙ্গে মুকুলের


 




পড়ুন ,  ব্রেকিং : জাতীয়তাবাদী তৃণমূল কংগ্রেস ভাঙতে নির্বাচন কমিশনে মুকুল ?

 


নতুন কোনও দল গড়বেন না তিনি, জানিয়ে দিলেন মুকুল রায়। সেই সঙ্গে সরাসরি না বললেও বুঝিয়ে দিয়েছেন তাঁর পরবর্তী ঠিকানা হবে বিজেপি। জাতীয় সাধারণ সম্পাদক পদ পাওয়া নিয়েই টানাপোড়েন চলছে বিজেপি–র সঙ্গে। দীপাবলি পর্যন্ত ঘর গোছানোর পালা। উদ্দেশ্য, তৃণমূলে ভাঙন ধরানো। সেই লক্ষ্যে বেশ কয়েকজন নেতা–‌মন্ত্রী তাঁর সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ রাখছেন বলে ঘনিষ্ঠমহলে দাবি করেছেন মুকুল। সিপিএমের নিচুতলার কর্মী–সমর্থকদেরও ‌নিজের দিকে টানতে চাইছেন তিনি। এর মধ্যে শুক্রবার বিকেলে নির্বাচন কমিশনে যাবেন মুকুল। এদিকে এদিন কলকাতায় প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি সোমেন মিত্র প্রদেশ দপ্তরে তাঁর নিজের ঘরে বসে সাংবাদিকদের বলেন, মুকুলের গতি হবে তৃণমূলেই। সুদীপ্ত সেনকে নিয়ে চেনা–‌অচেনা বিতর্ক হচ্ছে। আমি তো মনে করি, সকলেই ওঁকে চিনতেন। কে গোপনে চিনতেন সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। মুকুল তো নিজাম প্যালেসে সুদীপ্ত সেনের সঙ্গে বহুবার বৈঠক করেছেন। ২০১৫–‌১৬ সালে ওঁর যখন অবস্থা খারাপ হয়েছিল তখন আমার কাছে এসে বলেছিলেন, অরুণ জেটলি না থাকলে তিনি জেলে থাকতেন। অরুণ জেটলিই মুকুলকে বাঁচিয়েছেন। এখন এ সব কথা বলে কোনও লাভ নেই। আমার তো মনে হচ্ছে গোটা ঘটনাটাই বোঝাপড়ার মধ্যে চলছে। এদিন কুনাল ঘোষ মুকুলকে কটাক্ষ করে বলেন, রাহুল গান্ধীর কাছে তিনি গিয়েছিলেন কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার জন্য। মমতা ব্যানার্জির পাশে দাঁড়িয়ে বিজেপি ভারত ছাড়ো এই স্লোগানও মুকুল রায় দিয়েছিলেন। কংগ্রেস যদি মুকুলকে জায়গা দিত তাহলে তিনি বিজেপি–‌র বিরুদ্ধে বলতেন।
অন্যদিকে, মুকুল কী করবেন, তা নিয়ে তাঁর অনুগামীদের চোখে ঘুম নেই। গন্তব্য বিজেপি হবে, নাকি নতুন দল গড়বেন?‌ নাকি আগেভাগে তৈরি করে রাখা ‘‌জাতীয়তাবাদী তৃণমূল কংগ্রেস’–‌এর হাল ধরবেন এবার? আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূল ছাড়ার পর গত ২৪ ঘণ্টায় এইসব প্রশ্নের ঠেলা সামলাতে হচ্ছে মুকুল রায়কে। ঘনিষ্ঠরা বলছেন, উত্তর দিনাজপুর থেকে বর্ধমান— প্রায় সব জেলা থেকেই তাঁর অনুগামীরা ঘনঘন ফোন করছেন। সবাইকে তিনি বলছেন, ‘দীপাবলি পর্যন্ত অপেক্ষা করো।’‌‌
তৃণমূলের সাসপেন্ডেড সাংসদ কুণাল ঘোষ মুকুলের বিরুদ্ধে বোমা ফাটিয়েছেন। সেই প্রসঙ্গে মুকুল বলছেন, ‘‌আমার এবং সোমেন মিত্রর সঙ্গে একজন চার্জশিটপ্রাপ্ত আসামিকে এক করে দেখবেন না। আড়াই বছর জেল খেটে বেরোনো আসামির কথার কোনও মূল্য নেই।’‌ আরও বলেন, ‘‌সারদা, নারদে সিবিআই তদন্ত চলছে আদালতের নির্দেশে। তদন্তের প্রয়োজনে যখনই আমাকে ডাকা হবে আমি যাব।’ ‌
শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টেয় মুকুলকে সময় দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গে ২টি বিধানসভা ও ১টি লোকসভা আসনে উপ‌নির্বাচন আসন্ন। কিছুদিন পরেই দিনক্ষণ ঘোষণা করবে কমিশন। মুকুলের দাবি, সেই নির্বাচন যাতে অবাধ ও স্বচ্ছ হয়, সেই আর্জি নিয়ে তিনি কমিশনের কাছে যাবেন। বলেছেন, ‘‌যেদিন থেকে রাজনীতিতে এসেছি নির্বাচনে কমিশনে যাওয়া আমার রুটিন। কমিশনের বেয়ারা থেকে ডেপুটি কমিশনার, সচিব থেকে কেরানি সকলের সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক আছে। কারণ, কমিশন যদি সদর্থক ভূমিকা পালন না করে তবে বাংলায় স্বচ্ছ নির্বাচন হতে পারে না। অতীতে এর প্রমাণ পেয়েছি।‌ ১৯৯৮ সাল থেকে অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে কমিশনকে বলব, উপনির্বাচন হোক বা সাধারণ নির্বাচন, বাংলার মানুষ যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে সেটা নিশ্চিত করুন।’‌
অন্যদিকে, বিজেপি–তে যাওয়া একপ্রকার নিশ্চিত হলেও এখনও তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা খোলসা করতে চাইছেন না মুকুল। দিল্লিতে রটেছে, বিজেপি তাঁকে বাংলায় নতুন দল করতে বলেছে। যদিও তা সরাসরি অস্বীকার করছেন মুকুল। তাঁর কথায়, ‘‌বিজেপি আমাকে কোনও নতুন দল করতে বলেনি। গতকাল রাতেও বিজেপি শীর্ষনেতৃত্বের সঙ্গে কথা হয়েছে। আমি নিজের রাস্তা খুলে রেখেছি। বিজেপি বলে দেবে আমি কী করব, এমনটা নয়।’‌‌‌‌‌

source:  aajkaal

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad