বিগত বছর গুলির মত এবারও খড়দহ সংস্কৃতি অঙ্গন যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক বরিষ্ঠ নাগরিক দিবস পালন করল রহড়ার স্বামী পুণ্যানন্দ মুক্ত মঞ্চে। এই অনুষ্ঠানে ৪৪ জন বরিষ্ঠ মানুষকে সম্বর্ধনা দেওয়া হল তাদের ছবি সম্বলিত ডাকটিকিট প্রকাশের মাধ্যমে। এদিন সকাল সাড়ে ন'টায় মুক্তমঞ্চে জমায়েত হবার পর প্রবীণদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। সাড়ে দশটায় তাদের টোটোতে চড়িয়ে শোভাযাত্রা সহকারে রহড়া পরিক্রমা করানো হয়। তা শেষ হয় শ্যামসুন্দর মন্দিরের ঘাটে। এরপর চলে নৌকায় গঙ্গাবক্ষে ভ্রমণ। অতঃপর তাদের পরিবেশিত হয় খড়দহের শ্যামসুন্দরজীর ভোগ।পুর-অতিথিশালায় তাদের জন্য বালিস, বিছানা দিয়ে সাময়িক বিশ্রামের বন্দোবস্ত ছিল। তাদের জন্য বিকেলে বসেছিল সৃজনশীল সাহিত্য-বাসর, তারা নিজেদের কথা অকপটে বলার সুযোগ পেয়েছেন কবিতা, গল্পে, প্রবন্ধে। সন্ধ্যায় টোটোতে চাপিয়ে তাদের আনা হয়েছিল স্বামী পুণ্যানন্দ মুক্ত মঞ্চে। সেখানেই হয়েছিল মূল অনুষ্ঠান।
তাদের সম্বর্ধিত করা হয় ফুল-মিষ্টি-উত্তরীয়-ডাকটিকিট দিয়ে। উপস্থিত ছিলেন রহড়া-খড়দহের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ববর্গ।পরিবেশিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এই সান্ধ্য অনুষ্ঠানে ও সকালে শোভাযাত্রা সূচনাপর্বে উপস্থিত ছিলেন রহড়া-খড়দহের বহু মানুষ। প্রবীণের প্রজ্ঞা আর নবীনের কর্মোদ্যমকে মেলাতে সক্ষম হয়েছে খড়দহ সংস্কৃতি অঙ্গনের স্বেচ্ছাসেবকেরা গত চার বছর ধরে। প্রবীণদের আত্মীয়-বন্ধুরাও এসেছিলেন এই মিলনানন্দে।
প্রায় ১ মাস অাগে থেকে খড়দহ পুরসভার অন্তর্গত ওয়ার্ডগুলি থেকে প্রায় দুজন করে মোট ৫০ জন প্রবীণ মানুষের নাম, পরিচিতি, ছবি অাধার কার্ড/ ভোটার কার্ড-এর জেরক্স সংগ্রহ করা হয়। কোলকাতার জিপিও-তে গিয়ে ডকুমেন্ট, ছবি সহ বিস্তারিত বিবরণ জমা দেওয়া হয়, তাদের প্রত্যেকের নামে বিশ্ব নাগরিক দিবসের দিন তাদের সচিত্র ডাকটিকিট প্রকাশের জন্য। ডাকটিকিট প্রকাশের মাধ্যমে প্রবীণ সম্বর্ধনা এই অনুষ্ঠানের এক বিশেষ সৌকর্য। অনুষ্ঠানের এক কার্যকর্তা অধ্যাপক ড. কল্যাণ চক্রবর্তী জানালেন, দেশের ক্রমবর্ধমান প্রবীণদের দেশের কাজে লাগাতেই হবে। তাদের শারীরিক সক্ষমতা ও পারদর্শিতা যাচাই করেই খড়দহ সংস্কৃতি অঙ্গন আগামীদিনে অনেক কাজ করতে চায়। সংস্থার সম্পাদক পীযূষ দেব, কোষাধ্যক্ষ অভিজিৎ সেনগুপ্ত ও অন্যান্য কার্যকর্তারা এই কাজে তাদের পূর্ণ সময় দিচ্ছেন।



No comments:
Post a Comment