পায়েল দেব,ব্রেকিং বাংলা: পঞ্চায়েত ভোটে হাওড়া, নদীয়া, মুর্শিদাবাদ,বাঁকুড়া,বিষ্ণুপুর ও বীরভূমে শাসক তৃণমূলকে কঠিন লড়াইয়ের মুখে ফেলতে চলেছে বিজেপি। এই ছয় জেলায় গত সাত মাসে কার্যত চষে সভা করছে বিজেপি। সংখ্যাটা শতাধিক।
বিজেপির হাতে দেব, চিরঞ্জিতদের মত তারকা নেই। তেমনি ভাবে অনুব্রত মন্ডলদের মত নেতা বিজেপিতে নেই। সদ্য আসা মুকুলকে নিয়ে বিজেপিতে নানা সমীকরণ এখনও চললেও বসে নেই বিজেপির সংগঠকরা।সংঘের কার্যকর্তাদের উপস্থিতিতে বিজেপির সবেধন নীলমণি তারকা মুখ আই লাভ ইউ বয় জয় বন্দ্যোপাধ্যায় দক্ষিণ বঙ্গের সাত জেলা গত ছয় মাস ধরে লাগাতার সভা করে বেড়াচ্ছেন। ভিডিও এবং স্টিল ছবির প্রামনিক ভড়ি ছাড়াও পুলিশ প্রশাসন সুত্রের দাবি, জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার ভিড় দেখে মনে হয়েছে আইলাভইউ বয়কে দেখেতে অনেকেই ভিড় করতে পারে। শুরুর দিকে বিজেপিও এমনটি ভেবেছিল। তখন জয়কে দিয়ে পুরানো সভাস্হলের পাশে সভা করার সিদ্ধান্ত নেয় সংগঠকরা। দেখা যায় ভিড় বেড়েছে। এই সাত জেলার সভাপতিদের একাংশের দাবি, বিজেপির নেতা নেত্রীদের মধ্যে জয়ের চাহিদা কর্মী মহলে বেশি। আর জয় সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা যেভাবে করেন তা পছন্দ করেন অনেকেই। অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হয়ে ওঠার চেষ্টা সম্পর্কে জয় বলেন, সিনেমার সংলাপ ব্যবহারের কৌশল আমি রাজনীতি ব্যবহার করছি। ভিড় হচ্ছে বিভিন্ন দল থেকে শেষ পঞ্চাশটা সভায় যোগ দিয়েছে। আমাদের কর্মীদের বাম তৃণমূলের মত এক ছাতার তলায় সব বিবেধ ভূলে একত্রিত হয়ে জন সংযোগ করলেই জিতব। বর্ষা, পুজো, শীত এবং বাবার শারীরিক অসুস্থতার মধ্যে দিয়ে সভা করেছি। প্রাপ্তি হল, মানুষকে বিজেপি মুখি করা। বিজেপির দাবি, সাত জেলা থেকে কুড়ি হাজারের মত মানুষ বিজেপিতে যোগ দিয়েছে বাম, কংগ্রেস ও তৃণমূল ছেড়ে। বিজেপির সাত জেলা সভাপতিদের আরও দাবি, বিজেপির বর্তমান সাংগঠনিক ভিত যা তাতে করে এই ঝোঁক বিরোধী নয় বাংলা রাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ। জয় বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, গত ছমাসে আমার চোখে প্রাপ্তি হল সংখ্যালঘু এলাকায় আমি একের পর এক সভা করতে পেরেছি। দলে দলে যোগ দিয়েছে বিজেপিতে। রাজ্য রাজনীতিতে চোরা সুইং চলছে যা বুঝতে পারছিনা আমরা কেউই। আমরা একটু চেষ্টা এই সুইং ধরে রাখতে পারলেই তৃণমূলের সাথে টক্করে নামতে পারবো।
প্রসঙ্গত গত এক সপ্তাহে জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা থেকে বিষ্ণুপুর, বাঁকুড়া, নদীয়ার কালিগঞ্জে তৃণমূলের ২৫০, বড়ঞ্চা ও রানাঘাটে ৬০০, মুর্শিদাবাদে কংগ্রেসের উপ প্রধান হাসান হাবিবের নেতৃত্বে ৯০০ জন বিজেপিতে যোগ দিল। জয়ের দাবি, গত সাত দিনে পাঁচটি সভা থেকে মোট তিন হাজার বাম, কংগ্রেস ও তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী বিজেপিতে যোগ দিয়েছে। দক্ষিণ বঙ্গের এই জেলায় গত পাঁচ মাস ধরে বিজেপির লাভার বয় জয় বন্দ্যোপাধ্যায় লাগাতার সভা করে যাচ্ছেন। প্রতিটি সভা থেকে বিরোধী দল থেকে বিজেপিতে দিচ্ছেন বহু সক্রিয় ভোট মেশিনারী। ফলে পঞ্চায়েত নির্বাচন শাসক তৃণমূলের কাছে কার্যত চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে। সঙ্গে আছে মুকুল রায়ের ফাইল বোমা। উত্তর দেবে ভোটের বাক্স।
No comments:
Post a Comment