কলকাতা ডেক্স, ২৮
নভেম্বর : ভদ্রেশ্বরের
পুরপ্রধান খুনের ঘটনায় পুলিশে একটি অংশই কি দুষ্কৃতীদের ভদ্রেশ্বর থেকে পালাতে সাহাজ্য
করেছেন? যদি করে থাকেন তবে সেটা কাদের ইশারায় করেছেন? অন্তত এমনটাই মনে করছেন
পুলিশের পদস্ত কর্তারা। পুলিশের পদস্ত
কর্তাদের একাংশের ধারনা, চেয়ারম্যান খুনের ঘটনার রাতে খবর পেয়ে কিছুক্ষনের মধ্যে
ঘটনাস্থলে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনার পীষূষ পান্ডে সহ কমিশনারেটের
একাধিক কর্তারা ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে পৌছে গিয়েছিলেন। পুলিশ কমিশনার নিজে চন্দননগর
হাসপাতালে তার বাহিনী নিয়ে হাজির ছিলেন। ছিলেন, তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা মন্ত্রী
তপন দাশগুপ্ত সহ জেলার একাধিক তৃণমূল নেতারা। সেখানে বসে কমিশনার ও মন্ত্রী
সাংবাদিকদের বিবৃতি দিয়ে বলেন, এই খুনের নেপথ্যে রয়েছে রাজু চৌধুরী ও রতন চৌধুরী।
তারাই মনোজ উপাধ্যায়কে গুলি করে খুন করেছে। যেখানে মন্ত্রী সাংবাদিকদের সামনে
প্রকাশ্যে বলছেন এই খুন রাজু ও রতনরা করেছে। সেখানে ওই দিন রাতেই পুলিশ অযথা সময়
নষ্ট না করে কেন মুহুর্তের মধ্যেই শহরের বিভিন্য পয়েন্টে নাকা চেকিং বসিয়ে দিলনা?
নজর ঘোড়াতে কেন ঘটনার কয়েক দিন পর বিভিন্য গঙ্গার ঘাট সহ একাধিক জায়গায় নজরদারী বাড়ানো
উদ্যোগ নিল। দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যাবার আগে কেন এই
ধরনের ব্যাবস্থা গুলো নেওয়া হলনা? প্রশ্ন উঠছে এই জায়গা থেকেই। পূর্বসূরির এক
গোলেই কি উত্তরসূরির পুলিশ কমিশনার অজয় কুমার চেয়ারম্যান খুনের ঘটনাটি নিয়ে
অন্ধকারে হাতরে বেড়িয়েছেন? পুলিশের ব্যার্থতা ঢাকতেই কি এই গোটা ঘটনার তদন্তভার
সিআইডিকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে? প্রশ্ন উঠছে।
ভদ্রেশ্বরের
চেয়ারম্যান খুনের ঘটনায় পুলিশের ভুমিকা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন উঠছে। হুগলি পুলিশের একাংশের অভিযোগ, জেলা পুলিশ হোক
কিম্বা কমিশনারেটের পুলিশই হোক। প্রতি রাতে একজন করে ডিএসপি পদমর্জাদার অফিসারকে
নাইট ডিউটি করতে হয়। এলাকায় টহল দিতে হয়। পাশাপাশি প্রতি রাতে প্রত্যেকটি থানা
এলাকায় একটি করে পুলিশের গাড়ি রাতে ওই এলাকায় টহল দেন। প্রশ্ন উঠেছে, সেই রাতে
ভদ্রেশ্বর থানার রাতের টহলদারি ভ্যান টহলের কাজ করেছিল কি না? পাশাপাশি ভদ্রেশ্বরের
চেয়ারম্যান খুনের দিন রাতে কোন ডিএসপি তথা কোন এসিপি পদর্মজাদার অফিসার ডিউটি
করছিলেন? আদও চেয়ারম্যান খুনের রাতে কোনও এসিপি পদর্মজাদার অফিসার টহলের ডিউটি
করছিলেন কি না? অথবা সেই এসিপি পদর্মজাদার অফিসার টহলের ডিউটির নামে ঘড়ে
ঘুমচ্ছিলেন কি না? এই বিষয়টা নিয়েও হুগলির পুলিশ মহলে বিস্তর প্রশ্ন উঠতে শুরু
করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন রাতে ভদ্রেশ্বর থানায় টহলরত পুলিশ
কর্মীরা ভদ্রেশ্বর স্টেশনের দিকে ডিউটি করছিলেন। সেই গাড়িতে একজন এএসআইয়ের
নেতৃত্বে কয়েকজন পুলিশ কর্মী ডিউটি করছিলেন। চেয়ারম্যান খুনের ঘটনার খবর পেয়ে সেই
টহলরত ভ্যানটি ঘটনাস্থলে আসে বলে খবর। কিন্তু, ওই রাতে ডিএসপি তথা কমিশনারেটের
এসিপি পদমর্জাদার ওই পুলিশ অফিসারটি ওই রাতে কোথায় ডিউটি করছিলেন? এই প্রশ্নের
উত্তরও কমিশনারেটের কয়েকজন পুলিশ কর্তাও দিতে পাড়েননি।


No comments:
Post a Comment