কলকাতা ডেক্স, ২৪ নভেম্বর : ভদ্রেশ্বর
পুরসভার চেয়ারম্যান খুনের ঘটনার পর ৩০ ঘন্টার বেশি সময় কেটে
গেলেও মূল দুষ্কৃতীদের টিকিই ছুতে পাড়লনা চন্দননগর
পুলিশ কমিশনারেটের পদস্থ কর্তারা। ভদ্রেশ্বর
পুরসভার চেয়ারম্যান মনোজ উপাধ্যায়ের খুনের আসল কারন নিয়ে ধন্দে চন্দননগর পুলিশ
কমিশনারেটের পদস্ত কর্তারা।
বখরা নিয়ে অশান্তির
জেরে এই খুন?
না দলীয় অর্ন্তকলহের জেরে এই খুন?
চেয়ারম্যান খুনের প্রাথমিক কারন মেলাতে গিয়ে পুলিশ আধিকারিকরা যথেষ্ট বেগ পাচ্ছেন বলে খবর। ভদ্রেশ্বরের চেয়ারম্যান খুনের পেছনে কি কি কারন থাকতে পারে? ব্রেকিং বাংলার অন্তর তদন্তে উঠে এল বেশ কিছু তথ্য।
প্রথমত, ২০১৪সালে মনোজ উপাধ্যায় ভদ্রেশ্বর পুরসভার চেয়ারম্যান
হওয়ার পর থেকেই ওই এলাকায় একাধিক
দুষ্কৃতী মূলক কাজকর্মে রাশ টেনেছিল। এই ঘটনায় ওই এলাকার
দুষ্কৃতীদের রোজগারে ভাটা পড়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল। যার
জেরে ওই এলাকায় দুষ্কৃতীদের তোলাবাজি, মদের ঠেক চালানো সহ একাধিক অসামাজিক কাজকর্ম করতে ব্যাপক সমস্যা হচ্ছিল। তার জেরেই কি পথের কাঁটা সরিয়ে দিতেই ভদ্রেশ্বর পুরসভার চেয়ারম্যানকে খুন করা হয়ছে?এই প্রশ্ন ওই এলাকার সাধারন মানুষের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে।
দ্বিতীয়ত, ভদ্রেশ্বরের চেয়ারম্যান
মার্ডারের পেছনে চেয়ারম্যানের সঙ্গে “দূষ্কৃতী যোগ” এর কারন একে বারেই
উড়িয়ে দিচ্ছেন না পুলিশ কর্তাদের একাংশ। পুলিশের একটি সূত্র
মারফত জানা গিয়েছে, ভদ্রেশ্বরের
বাবুঘাটের কন্ট্রাক্ট ও প্রমোটিং সংক্রান্ত কিছু ঘটনা চেয়ারম্যান খুনের
অন্যতম কারন হয়ে থাকতে পাড়ে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি ভদ্রেশ্বর
পুরসভার চেয়ারম্যান সহ আশেপাশের একটি পুরসভার এক চেয়ারম্যান, ভদ্রেশ্বরের এক ক্রিমিনাল তথা এক ওয়াগান বেকার ও চাঁপদানীর এক কাউনসিলর। ব্যবসায়ী কারনে এই চারজন চারজনের মধ্যে প্রবল অশান্তি ও মনমালিন্য হয় বলে খবর মিলেছে। এই গোটা
ঘটনাটি পুলিশ মহলের পদস্থ কর্তারা জানতেন বলে পুলিশ সূত্রে খবর মিলেছে।
এই ঘটনাটি জেনেও পুলিশ সেই
ধরনের কোনও সাবধানতা অবলম্বন করেননি বলে অভিযোগ। চেয়ারম্যান খুনের ঘটনায় প্রথম দিন
থেকেই তৃণমূলের এক মন্ত্রী ও স্থানীয় কিছু
তৃণমূল নেতা সেই ধরনের ঘটনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। প্রথম থেকেই তৃণমূলের কিছু নেতা
মন্ত্রীরা এই খুনের ঘটনায় পুলিশের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
চেয়ারম্যানের বিপদ আসন্ন এটা বুঝতে পেড়ে খুনের ঘটনার আগে
স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব চেয়ারম্যানকে দেহরক্ষী নেবার জন্যে একাধিক বার অনুরোধ করেছিলেন। বিপদ না বুঝেই ভদ্রেশ্বরের
চেয়ারম্যান মনোজ উপাদ্ধ্যায় সেটা
প্রত্যাখ্যান করে বলেছিলেন, “আমি অবিবাহিত। আমার কোনও শত্রু নেই”।
চেয়ারম্যান খুনের পর থেকেই তৃণমূল নেতারা পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে সাংবাদিকদের বিবৃতি দিয়েছেন, চেয়ারম্যানের বিপদ বুঝে
দেহরক্ষী নেবার প্রসঙ্গ সহ একাধিক কথাবার্তার সঙ্গে পুলিশের একাংশের অনুমানের ঘটনা
মেলালেই চেয়ারম্যান খুনের একটা ইঙ্গিত বোঝা যাচ্ছে বলে পুলিশ একটি অংশ
মনে করছেন।







No comments:
Post a Comment