পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় ডেঙ্গুকে 'প্রাকৃতিক বিপর্যয়' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা যখন বাড়ছে তখন তিনি পরিস্থিতি মোকাবেলায় সাধারণ মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
শনিবার কলকাতা গড়িয়াহাট চত্বরে মশা প্রতিরোধে ব্লিচিং পাউডার ছড়িয়ে দেন মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়। এছাড়া একডালিয়া এভারগ্রিন ক্লাবের পুজো মণ্ডপের বাঁশ পোঁতার জন্য তৈরি হওয়া গর্ত ভরাটের কাজ করেন।
সুব্রত বাবু বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে সচেতনতা এবং মশার কামড় থেকে মানুষকে রক্ষা করার কাজ করা হচ্ছে। আগামীকাল থেকে বালিগঞ্জের বিভিন্ন ওয়ার্ডে তার সহকর্মীদের নিয়ে একই কাজ করবেন বলে তিনি জানান।
এদিকে, কলকাতা গার্ডেনরিচ এলাকায় ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা পাহাড়পুর রোড অবরোধ করে কোলকাতা পৌরসভার আবর্জনা ফেলার গাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান। তাদের দাবি, ওই এলাকায় পৌরসভার পক্ষ থেকে ঠিকমত পরিষ্কার পরিছন্ন করা হয় না। ওই এলাকায় বর্তমানে ৭০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত বলে বাসিন্দাদের দাবি। ইতোমধ্যেই দু’জন মারাও গেছেন।যদিও কলকাতা পৌরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন এলাকায় মশা মারার তেল স্প্রে, ব্লিচিং পাউডার ছাড়ানোসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
এদিকে, আজ দেগঙ্গায় চাকলা রায়পুরে ডেঙ্গু অথবা অজানা জ্বরে মারা যাওয়া এক নারীর বাড়িতে সমবেদনা জানাতে গেলে দেগঙ্গার বিধায়ক রহিমা মণ্ডলকে ঘিরে ধরে মানুষজন বিক্ষোভ দেখান। তারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে পর্যাপ্ত সরকারি সুবিধা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ। কিন্তু ওই অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বিধায়ক রহিমা মণ্ডল বলেন, ‘সমস্ত এলাকায় স্বাস্থ্য শিবির চলছে। বিডিও, এসডিও, জেলা প্রশাসক থেকে শুরু করে রাজ্যের খাদ্য মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকও দেগঙ্গা এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছেন। আগের চেয়ে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আছে।’
প্রসঙ্গত, গত ২৮ অক্টোবর রাজ্য সচিবালয় নবান্নে সংবাদ সম্মেলনে রাজ্যের মুখ্যসচিব মলয় দে পশ্চিমবঙ্গে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা ৩৮ বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু গত ৩০ অক্টোবর নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা দাবিতে ওই দিন পর্যন্ত রাজ্যে ডেঙ্গু মৃত্যুর সংখ্যা ১৩ জন বলে জানান। এছাড়া বেসরকারি হাসপাতাল সূত্রে অন্য যে ২৭টি মৃত্যুর খবর রয়েছে, সেগুলো ডেঙ্গুতে মৃত্যু কি না, তা নিশ্চিত হয়ে তবেই বলা যাবে বলেও মমতা বলেন।এদিকে ডেঙ্গু নিয়ে কোলকাতা হাইকোর্টে ৪টি জনস্বার্থ মামলা হয়েছে। গতকাল (শুক্রবার) কোলকাতা হাইকোর্ট এই ইস্যুতে রাজ্য সরকারের কাছে রিপোর্ট তলব করেছে। ১০ নভেম্বর ওই রিপোর্ট পেশ করতে হবে। ডেঙ্গু নিয়ে যে সব মামলা দায়ের হয়েছে, তার শুনানিও ওই দিন হবে।
অন্যদিকে, গতকালই রাজ্যের ডেঙ্গুসহ অন্যান্য জ্বর নিয়ে ঠিক কী পরিস্থিতি, তা জানতে রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন গভর্নর কেশরীনাথ ত্রিপাঠী।
কলকাতা হাইকোর্টে করা আবেদনে রাজ্য সরকার ডেঙ্গুকে ‘মহামারী’ ঘোষণা করুক এবং ডেঙ্গু কেন মহামারীর আকার নিয়েছে, তা কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলকে দিয়ে অনুসন্ধান করে দেখার নির্দেশ দেয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
No comments:
Post a Comment