কমিশনারেটের পুলিশ কর্তাদের নজরদারীর অভাবেই কি ভদ্রেশ্বরের চেয়ারম্যানকে খুন হতে হয়েছে? - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Saturday, 25 November 2017

কমিশনারেটের পুলিশ কর্তাদের নজরদারীর অভাবেই কি ভদ্রেশ্বরের চেয়ারম্যানকে খুন হতে হয়েছে?



কলকাতা ডেক্স, ২৫ নভেম্বর : ভদ্রেশ্বরের চেয়ারম্যান মনোজ উপাদ্ধ্যায় খুনের ঘটনায় হুগলি জেলার গ্রামীণ পুলিশ ও চন্দননগর কমিশনারেটের পুলিশ আধিকারিকরা ব্যাপক চাপে পড়ে গিয়েছেন। এই ঘটনায় শাসক দল তৃণমূলের বিভিন্য স্তরের নেতা ও বিভিন্য পুরসভার চেয়ারম্যানদের পুলিশি নিরাপত্তা নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর মিলেছেএই মর্মে গ্রামীণ পুলিশের তরফে শাসক দলের নেতা ও পুরপ্রধানদের নিয়ে মগড়া থানা এলাকায় একটি গোপন বৈঠক হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বৃহস্পতিবার দিনের আলোয় ওই বৈঠকে শাসক দলের নেতা সহ বিভিন্য চেয়ারম্যানদের নিরাপত্তা রক্ষীদের আরও বেশি করে সক্রিয় হতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে খবর
ভদ্রেশ্বর পুরসভার পুরপ্রধান মনোজ উপাধ্যায়ের খুনের ঘটনা চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের পুলিশ কর্তাদের ব্যার্থতার ফলঅন্তত এমটাই মনে করছেন তৃণমূল নেতা ও একাংশের পুলিশ কর্মীরা। পুলিশের একটি অংশের অনুমান, চেয়ারম্যান খুনের ঘটনায় চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের পুলিশের একাংশের মদত ও পুলিশের উচ্চ পদস্ত কর্তাদের ব্যার্থতাই এর জন্যে দায়ী।

পুলিশ কর্তাদের একাংশের ধারনা, নব গঠিত চন্দননগর কমিশনারেট এলাকায় কিছু অপ্রাপ্ত মনস্ক পুলিশ কর্তারা কাজে যোগ দেওয়ায় বিভিন্য থানার পুলিশ অফিসারদের হাতের পুতুল হয়ে গিয়েছেন বলে খবরকয়েকটি থানার পুলিশ অফিসারা তাদের সুপিরিয়রদের এক প্রকার পট্টি পড়িয়ে রেখেছিলেন বলে অভিযোগ। যার জেরেই কমিশনারেট এলাকার বেশ কিছু পুলিশ অফিসারদের বেপয়া হয়ে ওঠার ঘটনা দুষ্কৃতীদের অনেকটা উৎসাহিত করেছিল বলে অভিযোগ।
দ্বিতীয়ত, দুষ্কৃতীদের প্রতি কমিশনারেটের পুলিশ আধিকারিকদের নজরদারীর যথেষ্ট অভাব ছিল বলে অভিযোগ পুলিশের একাংশ মনে করছেন অর্থাৎ কোন দুষ্কৃতী জামিন পেল কিম্বা কোন কোন দুষ্কৃতী জেল থেকে ছাড়া পেয়ে গেল। এই সংক্রান্ত কোনও নজরদারী কমিশনারেটের পুলিশ অফিসাররা রাখতেন না বলে পুলিশের একাংশ মনে করছেন। পাশাপাশি কোন কারনে বেশিরভাগ কুক্ষ্যাত দুষ্কৃতী জেল থেকে ছাড়া পেয়ে গিয়েছিল এই বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন একাংশের পুলিশ আধিকারিকরা। পুলিশের একাংশের অভিযোগ, তাৎক্ষণিক মুনাফার লোভে দুষ্কৃতীদের সঙ্গে কমিশনারেটের কিছু পুলিশ অফিসারদের বিস্তর দস্তি বেড়ে গিয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে এই ঘটনায় ইদানিং কালে কমিশনারেটের কিছু পুলিশ অফিসারের ঠাট বাট বেড়ে গিয়েছিল পুলিশের একাংশ মনে করছেন। পুলিশ সূত্রে খবর, চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটে রাজ্য পুলিশের কয়েকজন দক্ষ পুলিশ আধিকারিকদের যোগদানের বিষয়টিতেও পুলিশের আইপিএস লবি ব্যাপক বিরোধীতা করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে সেই কারনে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটে দক্ষ ও অভিঞ্জ পুলিশ কর্মীর অভাবে একের পর এক খুন রাহাজানির মত ঘটনায় চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের পতন শুরু হয়ে গিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শেষ ১মাসের মধ্যে ভদ্রেশ্বরের প্রায় সমস্ত দুষ্কৃতী জেল থেকে ছাড়া পেয়ে গিয়েছে। ফলে ভদ্রেশ্বর দুষ্কৃতীদের মুক্তাঞ্চলে পরিনত হয়েছিল। জেল থেকে সমস্ত দুষ্কৃতীরা ছাড়া পেয়ে গিয়েছে, কমিশনারেটের পদস্ত কর্তাদের নজরে এই বিষয়টা ছিল কিনা সেটা নিয়েও বিস্তর প্রশ্ন উঠেছে। ভদ্রেশ্বরের কুক্ষ্যাত দুষ্কৃতী সান্টীয়া ও চ্যাঙ্গারুয়া আগে থেকেই বিভিন্য কারনে চেয়ারম্যান মনোজ উপাদ্ধ্যায়কে টার্গেট করেছিল। পুলিশের ভয়ে চ্যাঙ্গারুয়া পলাতক থাকলেও সান্টিয়াকে পুলিশ গ্রেফতার করে জেলে ভরে দিয়েছিল বলে খবর মিলেছেকিন্তু সম্প্রতি সান্টিয়া ও তার দলবল জেল থেকে ছাড়া পেয়ে গিয়েছিল। সেই খবর কি কমিশনারেটের পুলিশ কর্তারা জানতেন? প্রশ্ন উঠেছে সেই বিষয়টি নিয়েও।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad