ভগিনী নিবেদিতার জন্মসার্ধশতবর্ষ উৎযাপিত হল কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে। আজ মোহনপুর ক্যাম্পাসে সয়েল অ্যান্ড ওয়াটার কনজারভেশন ডিপার্টমেন্টে ছিল নিবেদিতার স্মরণ-মনন দিবস। সহকারী অধ্যাপক শ্রী রঘুনাথ মন্ডলের আহ্বানে কৃষিবিদ ও ছাত্র-গবেষক মননে নিবেদিতার মানস-বোধনে সামিল হলেন অধ্যাপক কল্যাণ চক্রবর্তী। এক ভাব-গম্ভীর অনুষ্ঠানে সূচক বক্তব্যে তিনি বলেন, বিবেকানন্দরূপ মহীরুহ তৈরি হয়েছে শ্রীরামকৃষ্ণরূপ মনন ও অধ্যাত্মসত্তার মহাবৃক্ষের পরশাখী (Scion stick) নরেন নামক এলাগাছে (Root-stock) জোড়কলম বেঁধে। তেমনই বিবেকানন্দরূপ মহাবৃক্ষের পরশাখী মার্গারেট এলিজাবেথ নোবলের এলাগাছে জুড়ে তৈরি হয়েছেন ভগিনী নিবেদিতা। কলমের অপত্য-গাছে মাতৃগুণ যেরূপ সংবাহিত হয়, বিবেকানন্দের ব্যক্তিত্ব নিবেদিতারূপ কলমের মহাবৃক্ষমানবীতে প্রকট হয়েছিল। রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দ সাম্রাজ্যের চারাতৈরির এটাই চাবিকাঠি। তিনি বলেন, উদ্যান ভাবনায় নিবেদিতা হলেন স্বামীজীর কলমের চারা। আর এভাবেই পরশাখীর প্রভাবে এলাগাছের চরিত্র বদল ঘটে, ব্যক্তিত্বের বিবর্তন হয়। নোবেলের মনস্তত্ত্ব ভেঙেচুরে, অভিব্যক্তি ঘটে তৈরি হন নিবেদিতা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক সন্ময় পাত্র এবং অধ্যাপক নিতাই চরণ দাস। তাঁরা নিবেদিতার জীবনের নানান দিক তুলে ধরে তাঁকে বাংলার নবজাগরণের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মণীষায় আখ্যায়িত করেন। অধ্যাপক বিকাশ পাত্রের সঙ্গীত মূর্ছনা ও রঘুনাথ মন্ডলের প্রবুদ্ধ সঞ্চালনা নিবেদিতা স্মরণের সৌকর্য বাড়িয়ে তুলেছিল। শিক্ষক-ছাত্র-গবেষকবৃন্দের বিমল-উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে সর্বাঙ্গ-সুন্দর করে তোলে।পরিশেষে সমবেতকণ্ঠে বন্দেমাতরম সঙ্গীত পরিবেশিত হয়।


No comments:
Post a Comment