বাবরী মসজিদ ও রাম মন্দির ইস্যুতে হিন্দুত্ববাদী
সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্ময়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবত সম্প্রতি যে
মন্তব্য করেছেন তা 'আদালত অবমাননার শামিল' বলে অভিহিত করলেন মুসলিম নেতারা।
শুক্রবার কর্ণাটকের উডুপ্পিতে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ আয়োজিত ধর্ম সংসদ সভায় মোহন ভাগবত বলেন, ‘অযোধ্যায় রাম জন্মভূমিতে কেবলমাত্র রাম মন্দিরই হবে, অন্য কোনো কাঠামো নয়।’
তিনি বলেন, ‘অযোধ্যায় রাম মন্দির কেবল আমাদের দাবি মেনে নয়, আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাসকে অটুট রাখতে গড়ে উঠবে।’ এরপর থেকে মুসলিমদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত'অযোধ্যায় রামের কোনো অস্তিত্ব ছিল না'
শনিবার পশ্চিমবঙ্গের জনশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার মন্ত্রী মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরি এক অনলাইন সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘এসব
পুরোনো কথা। ওখানে রামের কোনো অস্তিত্ব ছিল না। জোর করে তাকে ওখানে বসানো
হয়েছে। সেই সূত্রে যাই হবে তা বলপূর্বক হবে। আদালতে তো তারা কোনো প্রমাণ
দিতে পারেনি। বিশ্বাসটাই রেখেছে। পুঁথি-পত্র, কাগজ, দলিল-দস্তাবেজ ইত্যাদি
কিছুই পেশ করতে পারেনি। সেই সূত্রে জোরকরে যা হয় সেটা হবে, তাছাড়া আর কিছু
নয়।’
মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরি বলেন, ‘আমার মনে হয় না ওরা ওখানে কিছু করবে। আসলে গুজরাটে নির্বাচন থাকায় এরকম বলছে। ওরা সরাসরি কোনো সিদ্ধান্তে যাবে না। এইভাবে ‘হিন্দু তাস’ খেলে যাবে। এটাই হল মূল কথা।’
ঐতিহাসিক বাবরী মসজিদ ভাঙার দৃশ্য'মোহন ভাগবত আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছেন'
এ নিয়ে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’বোর্ডের মুখপাত্র মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ রহমানী বলেন, ‘আদালতের ওপরে ল’
বোর্ডের বিশ্বাস রয়েছে, সেখান থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে তা পালন করা হবে।
কিন্তু মোহন ভাগবত এ ধরণের বিবৃতি দিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছেন।’
বাবরী মসজিদ-রাম মন্দির বিতর্কে সুপ্রিম কোর্টে মামলা বিচারাধানী থাকায় মুসলিম পার্সোনাল ল’বোর্ডের মতে এটি আদালত অবমাননার ঘটনা, সেজন্য সরকারকে এ ধরণের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়া উচিত। ল’বোর্ডের মুখপাত্র বলেন, মোহন ভাগবত একতরফাভাবে বিতর্কিত স্থানেই মন্দির নির্মাণ করা হবে বলে যা বলেছেন তা আমরা কখনো মেনে নেবো না।
বাবরী মসজিদ অ্যাকশন কমিটির আহ্বায়ক ও বিশিষ্ট সিনিয়র আইনজীবী জাফরইয়াব জিলানী বলেন, ‘সংবিধানে সুপ্রিম কোর্ট হল সর্বোচ্চ আদালত। তাদের আদেশ গোটা দেশে কার্যকর করা হয়। তারা বিতর্কিত স্থানে বর্তমানে ‘স্থিতাবস্থা বজায় রাখা’র কথা বলেছে। ওই অবস্থা কতদিন চলবে তার নিশ্চয়তা নেই। কিন্তু ভাগবত বিবৃতি দিয়ে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন।’
জিলানী ওই ঘটনাকে ‘গণতন্ত্রের জন্য বিপদ’ বলে অভিহিত করে গুজরাটে নির্বাচনে ফায়দা লাভের জন্য মোহন ভাগবত ওই বিবৃতি দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন।
শিয়া পার্সোনাল ল’ বোর্ডের মুখপাত্র মাওলানা ইয়সুব আব্বাস বলেন, ‘আরএসএস প্রধান সুপ্রিম কোর্টের চেয়ে বড় নন। অযোধ্যা ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দেবে তা ভাগবতকেও মানতে হবে।’ এটি গুজরাট বিধানসভার মুখে আসল ইস্যু থেকে ভোটারদের নজরকে অন্যদিকে ঘোরানোর কৌশল বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অল
ইন্ডিয়া মজলিশ-ই ইত্তেহাদুল মুসলেমিন প্রধান ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন
ওয়াইসি এমপি ভাগবতের মন্তব্যকে নিন্দনীয় অভিহিত করে বলেন, আরএসএস ও বিজেপি এ
ধরণের বিবৃতি দিয়ে গুজরাট বিধানসভা নির্বাচনে সুবিধা নিতে চাচ্ছে। আরএসএস
আগুন নিয়ে খেলছে এবং সুপ্রিম কোর্টকে বিষয়টি আমলে নেয়া উচিত বলেও
ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এমপি মন্তব্য করেন।
বাবরী
মসজিদ-রাম মন্দির বিতর্কে সুপ্রিম কোর্টে আগামী ৫ ডিসেম্বর থেকে শুনানি
হবে। কিন্তু তার আগে আরএসএস প্রধানের মন্তব্যকে ঘিরে মুসলিমদের মধ্যে তীব্র
প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
No comments:
Post a Comment