পায়েল দেব, ব্রেকিংবাংলা: বিজেপির নিচু তলা থেকে উঁচু তলা অর্থাৎ মন্ডল থেকে রাজ্য সর্বত্রই দোলাচল অবস্থা। বিজেপির একাংশের দাবি, মুকুল রায় দলে আসায় বিজেপিতে দুটো ভাগ তৈরি হয়েছে। একদিকে বির্তকিতরা অন্যদিকে স্বচ্ছরা। তৃণমূল মোক্ষম সময় এটাকে ক্যাশ করে নির্বাচনে যাবে। তখন, রাজ্য বিজেপির নিয়ন্ত্রকের অনেককেই চাকরি ক্ষোয়াতে হবে।
বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রকে বিজেপি সাংগঠনিক বলে বসিরহাট জেলা। বাদুড়িয়া কান্ডের পর বসিরহাট হল বিজেপির জন্য রাজ্যে সব থেকে উর্বর সেখানেই বিজেপির রাজ্য সভাপতির সামনেই মারামারি করল বিজেপির কর্মীরা।
আর রাজ্যে মুকুল রায় লকেট চট্টোপাধ্যায় , জয় প্রকাশ মজুমদার , রিতেশ তিওয়ারী, রাহুল সিনহা, রুপা গাঙ্গুলী সহ কয়েকজন মিলে বিজেপির রাজ্য অফিসিয়াল গ্রুপের পাল্টা শক্তি তৈরি করছে বলে দাবি করেছে বিজেপির এক নেতা। ওই রাজ্য নেতার দাবি, সম্প্রতি শমীক ও মুকুলের জনসভা ছিল। লকেট, রীতেশ, জয় প্রকাশদের মুকুল নিজে থেকে সভায় হাজির হতে বলেন। এই নেতারা যে যাবেন তা সভার কয়েক ঘন্টা আগে জানতে পারেন ওই জেলা কমিটি।
প্রসঙ্গতঃ, চাঁদপাড়ার সভায় দাঁড়িয়ে লকেট চট্টোপাধ্যায়কে জাতীয় স্তরের নেত্রীর সমতুল্য বলে প্রশংসা করেন মুকুল রায়। রিতেশ তিওয়ারীর মত সংগঠনে ভূমিকা না থাকা নেতা মঞ্চ আলো করে বসে আছেন। অথচ, বিজেপির যুব, কিষাণ বা মহিলা মোর্চার জেলা নেতৃত্ব মঞ্চে অনুপস্থিত শুধু নয় সভাস্হলেই খুঁজে পাওয়া যায়নি।
উত্তর চব্বিশ পরগনায় মুকুলের গেরুয়া মঞ্চে প্রথম সভা অথচ বিজেপির বারাসত জেলার সক্রিয় কর্মীরা নেই। ডাল মে কুছ কালা হে।
রাজনীতিক শূন্য বাংলায় লকেট চট্টোপাধ্যায়রা পদ পান, নেতৃত্ব দেন। তবে রাজনীতি বোঝেন দক্ষদের মত তাও জাতীয় স্তরের সমতুল্য এটা মানতে নারাজ অনেকেই । বিশ্বের সবথেকে বড়ো গনতান্ত্রিক দেশের জাতীয় গনতন্ত্রের একটা জাতীয় দলের জাতীয় স্তরের রাজনীতিক হওয়া কি এতটাই সহজ ? মুকুল রায়ের লকেটকে নিয়ে মন্তব্য করার পর উপস্থিত নেতা কর্মীদের মধ্যে থেকে এই প্রশ্ন উঠেছে ।এমনকি মুকুলের মন্তব্য বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হতেই সমালোচনার ঝড় ওঠে।অনেকেই মন্তব্যে লিখিছেন, তৃণমূলের শিউলির ভূমিকায় লকেটকে দেখতে অপেক্ষায় আছি।
বিজেপির ওই রাজ্য নেতার আরও দাবি, মুকুল রায় বড় নেতা। দক্ষ সংগঠক। সবটাই ঠিক আছে।তবে বিজেপি দলে গেরুয়া ঘরানার শৃঙ্খলা তৃণমূলের নীল সাদা নয়।গত পৌরসভা নির্বাচনে টিকিট নিয়ে বিজেপি পার্টি অফিসের সামনের মারামারির পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে ইতিমধ্যেই ভাবনা চিন্তা শুরু করেছে দল।ওই নেতা নিজের পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বলেন, মুকুল রায়কে অনেকেই মাপছেন।দূর থেকে দেখা হচ্ছে মুকুলের রাজনৈতিক গতিবিধি। মুকুল তাই সবার সাথে মিশতে লকেটকে নিয়ে ওই মন্তব্য করেছেন।তবে এটাও ঠিক বিজেপি দলে, তথ্য এবং ইস্যু ভিত্তিক যুক্তি দিয়ে দিলে বলার মত মেধা সম্পন্ন নেতা বাংলায় নেই। পরপর কিছু কথা বলেন সবাই। এ কারনেই ভোটাররাও অপেক্ষা করছেন। আমরা তৈরি হলেই ভোটাররা আমাদের ক্ষমতায় আনবেন।বাংলায় আমরা ভোটারদের থেকে পিছিয়ে।ভোটাররা তৈরি হলেও আমরা তৈরি হতে পারিনি এখনও।বড়ো দলে লকেট মুকুল তাই বিচ্ছিন্ন ঘটনা।এটাও ঠিক সাধারণ মানুষ আমাদের ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে মেপে দেখছেন।এই জায়গাতেও বিজেপি পিছিয়ে। গুজরাট ভোটের ফল প্রকাশের পর শুরু হবে বাংলা দখলের শো।পরিকল্পনা করা শেষ।

No comments:
Post a Comment