হ্যাপি নিউ ইয়ার ২০১৮, গুড বাই ২০১৭।২০১৭ রাজনীতি, হিংসা, শোবিজ এবং সামাজিক ক্ষেত্রে বিয়োগ বেশি। নেটিজেনদের দাবি উল্লেখ যোগ্য প্রাপ্তি বলতে বিরাট কোহলী আর অনুষ্কার চার হাতে বিরুস্কা হয়ে ওঠা।রাজনীতিতে গুজরাট ভোটে শাসক বিরোধী টি২০ লড়াই।রাহুল গান্ধীর তারুণ্যের রক্তে নেতৃত্ব পাবে কংগ্রেস। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ভাঙন পর্ব শুরু। বাকিটা বিয়োগ আর বিয়োগ।দেশের বিভিন্ন রাস্তায় পিষে মরছে মানুষ।পথ দুর্ঘটনায় মারা যান বিখ্যাত গায়ক কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্য এবং মডেল সোনিকা চৌহান।২০১৬ সাল চিহ্নিত হয়ে ছিল নোট বাতিল , সন্ত্রাসী হামলা, কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে ‘সার্জিক্যাল স্টাইক', সরকার ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত, ছাত্র বিক্ষোভ ইত্যাদি৷ ২০১৭ সাল শেষ হল 'সার্জিক্যাল স্ট্রাইক ২' দিয়ে। বছরজুড়ে আলোচিত এমন কিছু ঘটনা পায়েল দেবের সাথে চলুন ফিরে দেখি ব্রেকিংবাংলার আয়োজনে।
দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নোটবন্দীর পরে এইবছর জিএসটির ঘোষণা।যদিও তার ফলে কার্যত হোটেল,সিনেমা,রেস্তোরাগুলোর চার্জ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে।সবধরনের ট্যাক্স বন্ধ করে জিএসটি শুধুমাত্র চালু করলে একপক্ষের অসুবিধাই হয়েছে।আর এর কারণে বাংলার বিরোধীরা কালা দিবস পালন করেছে এছাড়াও নানা আন্দোলন ও ধর্নায় বসে ছিলেন তাঁরা।এর দোহাই দিয়ে বড় বড় ব্যবসায়ীরা আন্দোলনেও বসে ছিল।অনেকে ব্যবসাতে বিপুল পরিমাণে ক্ষতি হয়েছিল বলেও জানা গিয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে ভাঙ্গনঃ বিজেপিতে তৃণমূলের মুকুল
বাংলার শাসক তৃণমূল দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেছেন তৃণমূল স্রষ্টা মুকুল রায়।তিনি এই বছর ৪ই নভেম্বর বিজেপিতে সসম্মানে দিল্লীর গেরুয়া শিবিরে গিয়ে অমিত শাহের নেতৃত্বে বিজেপিতে যোগ দেন।ফলে বাংলার বিশাল ভাঙ্গন দেখা যায় রাজনৈতিক মহলে।মুকুলের হাত ধরে বিজেপিতে আসছে কয়েক হাজার হাজার তৃণমূল ও সিপিএম কর্মী,নেতা-নেত্রী সমর্থকরা।সদ্যত্যাগী মুকুলের একের পর এক তথ্য প্রমাণসহ পেশ করে রীতিমত তৃণমূলের ভিত আলগা করে দিচ্ছেন মুকুলবাবু।
চার নভেম্বর বিকালে বিজেপিতে ফুটল তৃণমূলের মুকুল৷ কয়েক মাসের জল্পনা সত্যি করে তৃণমূলের নাম্বার টু মুকুল রায় বিজেপিতে যোগ দিয়ে তৃণমূলের অস্বস্তি নিঃসন্দেহে কয়েকগুন বাড়াল ৷
পুরনো দলের গোষ্ঠীদ্বন্দের খবর তিনি খুব ভাল করে জানেন, তৃণমূলে এখনো ঘাঁটি গেড়ে থাকা নিজের অনুগামীদের এবার দল বিরোধী কাজে আরও উস্কে দেবেন এমন আশঙ্কা করছেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব৷ বিজেপিতে আসার পরে মুকুলের হাত ধরে গেরুয়া শিবিরে যোগ দিয়েছেন উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের পৌরসভা এবং পঞ্চায়েত লেবেলের তৃণমূলের নেতা ৷
তৃণমূলের খুঁটিনাটি সব তথ্য মুকুল জানেন,সেই সব আনটোল্ড স্টোরি ইতিমধ্যে বিজেপির এবং প্রকাশ্যে ফাঁস করেছেন মুকুল৷ মুকুলের হাতে থাকা তৃণমূলে ফাইল ফাঁস তৃণমূলকে ব্যাপক বিপদে ফেলতে পারেন বলে মনে করেন বিজেপি নেতৃত্ব৷ মুকুল তৃণমূলের সংগঠনের পাশাপাশি দলের অর্থের উৎসের সব খবর জানতেন, অর্থ সংক্রান্ত বিষয়ে পুরনো অস্ত্রে শানিয়ে নিয়ে তিনি বিপদে ফেলতে শুরু করেছেন৷ এমনকি বিজেপিতে তৃণমূলের মুকুল ফোটায় রাজ্য বিজেপিতে নাম লেখানোর হিড়িক পড়েছে ৷ সেই সঙ্গে বিজেপির সভায় নজিরবিহীন ভাবে বাড়ছে ভীড়৷ অভিজ্ঞ মহলের অভিমত মুকুল রায়কে দিয়ে বিজেপি তৃণমূলের ঘর ভাঙবেন আর দিলীপ ঘোষ সহ সংঘ থেকে আসা বিজেপি নেতৃত্ব সংগঠন তৈরি করবেন৷অর্থাত, মুকুল রায় বিজেপি দলে ভীড় বাড়াবেন আর সংগঠন শক্তিশালী করবেন দিলীপ ঘোষরা৷ বিভিন্ন সময় কানাঘুষো শোনা যায়, তৃণমূলের অনেক সাংসদ ও বিধায়করা আগামীদিনে বিজেপি সরকারের মন্ত্রী হলে অবাক হওয়ার কিছু নেই৷
২০১৭ সালে বিয়োগ হয়েছেন যারা
১)ওম পুরী (৬৭ বছর বয়সে ৬ জানুয়ারী ২০১৭ সালে হৃদরোগজনিত কারণে মারা যান)
২)সোনিকা চৌহান(মাত্র ৩১ বছর বয়সে ২৯ এপ্রিল পথদুর্ঘটনায় মারা যান)
৩)বিনোদ খান্না(৭১ বছর বয়সে ২৭ এপ্রিল ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান)
৪)রীমা লাগু(মাত্র ৫৯ বছর বয়সে ১৮ মে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান)
৫)ইন্দ্র কুমার(মাত্র ৪৫ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন)
৬)রীতা কয়রাল(মাত্র ৬১ বছর ময়সে লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান)
৭)গৌরী লঙ্কেশ(মাত্র ৬৩ বছর বয়সে ৫ই সেপ্টেম্বর গুলি করে হত্যা করা হয়)
১১)শশি কাপূর(৪ ডিসেম্বর বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান)
১২)পার্থ মুখোপাধ্যায়(৭৬ বছর বয়সে ২৬ ডিসেম্বর বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান)
১৩)কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্য(বিখ্যাত গায়ক মাত্র ৪৭ বছর বয়সে ৭ মার্চ পথ দুর্ঘটনায় মারা যান)
বসিরহাট দাঙ্গা
ইসলামিক নবী মুহাম্মদ ও কাবা শরিফ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের পর উত্তেজনা সৃষ্টি হয় ২ শে জুলাই ২০১৭ তারিখে একাদশ শ্রেণীর সৌভিক সরকার নামে ১৭ বছর বয়েসী ছাত্রের দ্বারা। ছবিগুলোকে আপত্তিকর বলে মনে করা হয় এবং তা উত্তর চব্বিশ পরগনার বসিরহাট মহকুমার বাদুড়িয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। যদিও এটি দাবি করা হয় যে এই সহিংসতা দুটি সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর স্থানীয় আগ্রাসনের একটি ফলাফল, কিন্তু কিছু সংবাদ উৎস ও স্থানীয় গণমাধ্যমের মতে, বাদুরিয়া, বাসিরহাট এবং এর আশপাশের গ্রামবাসীরা দাবি করে দাঙ্গাকারী বহিরাগত।এই অঞ্চলে আলাদাভাবে হিন্দু এলাকা, মুসলিম এলাকা বলে কিছু নেই৷ বরং এক পাড়াতে, পাশাপাশি বাড়িতে, হিন্দু-মুসলমান সবাই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানেই থাকেন৷ কিন্তু হঠাৎই এখানে একদল মুসলিম ধর্মীয় স্লোগান দিতে দিতে এসে উপস্থিত হয় এবং অভিযুক্ত ছেলেটির বাড়িতে ইট মারে, ভাঙচুর করে এবং শেষে আগুন ধরিয়ে দেয়৷
স্কুল ছাত্র কর্তৃক ২রা জুলাই তৈরি করা পোস্টের পর, আনুমানিক ৫ হাজার লোকের একটি দল বাদুড়িয়া থানার কাছে বিক্ষোভ করে, দাবি করে যে অপরাধিকে ভিড়ের কাছে আনতে।এই ঘটনায় অভিযুক্তের বাড়ির উপর অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।৩ জুলাই ২০১৭ সন্ধ্যায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। এলাকার মুসলিম ধর্মীয় নেতারা দাঙ্গাকারীদের শান্ত করার চেষ্টা করে এবং তাদেরকে পিছু হটার আহ্বান করেন।
৩রা জুলাই রাতে বাদুড়িয়া থানার ওসিকে আক্রমণ করে বেশ কয়েকটি পুলিশ যানবাহনসহ আগুন লাগিয়ে দেয় মুসলিম জনতা।একটি সহিংস গোষ্ঠী বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করে এবং অন্যান্য সম্প্রদায়ের সদস্যদের উপর হামলা চালায় এবং অনেক দোকান ধ্বংস করে।মুসলিম জনগন বাদুড়িয়া, স্বরূপনগর ও টাকিতে হিন্দুদের সাথে বসবাসকারী দোকান এবং ঘর ভাংচুর বসিরহাটে দুটি সম্প্রদায়ের মধ্যে হিংসাত্মক সংঘর্ষ চলে । কেন্দ্রীয় সরকার ৪ কম্পানি সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী (বিএসএফ) সংস্থার দায়িত্বে নিয়োজিত, যাদের মোট অঞ্চলের সহিংসতা পরীক্ষা করার জন্য ৪০০ জন সদস্য রয়েছে। ১৪৪ ধারা জারি করা হলেও ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত করা হয়। ৬ জুলাই জঙ্গি হামলায়, হিন্দু জনতা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পাশাপাশি একটি দরগাহ ও ভাংচুর করে দোকান ও ঘরবাড়িতে হামলা করে।
সহিংসতায় ২০ পুলিশসহ প্রায় ২৫ জন আহত হয়, এবং পঁয়ত্রিশটি পুলিশের গাড়ি ভাংচুর ও আগুন দেওয়া হয় জানা যায়। স্থানীয় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় এবং দলীয় অফিসও দাঙ্গাকারীদের দ্বারা অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল বাড়িতে ফিরে আসার চেষ্টা করার সময় দাঙ্গা সংঘর্ষে একজন ৬৫ বছর বয়সী ব্যক্তি মারা যান তাঁর ছেলেকে আরেকজন গ্রামবাসী ফজলুল ইসলামকে বাঁচিয়েছেন, যাদেরকে তিনি তাঁর বাবার সাথে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতারা দাঙ্গাটি শান্ত করার চেষ্টা করে যা ব্যর্থ প্রচেষ্টা বলে প্রমাণিত হয়। পরে ধর্মীয় সম্প্রীতির চিহ্ন হিসাবে স্থানীয় মুসলমান সম্প্রদায়কে এই দাঙ্গায় নিপীড়িত হিন্দু প্রতিবেশীদের সাহায্য করার জন্য অর্থ বরাদ্দ করতে দেখা যায় এবং উভয় সম্প্রদায় এই অঞ্চলে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে যোগ দেয়।একটি সর্বভারতীয় টিভি চ্যানেলের কাছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং রাজ্যপালের টেলিফোন কথোপকথনের যে রেকর্ড আছে, তাতে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে কেন্দ্র সরকার চাইছে না এই গণ্ডগোল আর ছড়িয়ে পড়ুক৷ ফলে সুর নরম করেছেন রাজ্যপাল এবং কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনীর সাহায্য নিয়ে রাজ্য প্রশাসন দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনছে৷
দার্জিলিং এ ভোটের পর জুলাইয়ে মুখ্যমন্ত্রী পাহাড় সফরকালে অশান্ত হয়ে ওঠে।ছড়িয়ে পড়ে ক্ষোভের আগুন।নয় জুন প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গের পাহাড়ি জেলা দার্জিলিংয়ে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকের পরপরই অশান্ত হয়ে ওঠে দার্জিলিং। নতুন করে দাবি ওঠে পৃথক গোর্খাল্যান্ড রাজ্য গড়ার। যদিও আগেরদিন সকাল-সন্ধ্যা অর্ধদিবস বন্ধ পালন করেছে জনমুক্তি মোর্চা। জনমুক্তি মোর্চার আন্দোলনের সূত্রপাত হয় মুখ্যমন্ত্রী মমতার একটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে। মুখ্যমন্ত্রী ঘটনার ক’দিন আগে ঘোষণা করেন, রাজ্যের সব বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণী পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীদের বাংলা ভাষা পড়তে হবে। দার্জিলিংয়ের মূল ভাষা নেপালি হওয়ায় শুরুতে এ ইস্যুতে মোর্চা নেতা বিমল গুরুংয়ের সঙ্গে রাজ্য সরকারের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। যদিও পরে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে সব বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা ভাষা পড়তে হবে, তবে দার্জিলিংয়ে বাংলা ভাষা ঐচ্ছিক হিসেবে পড়তে হবে। ওই সময় আন্দোলনের এক পর্যায়ে দার্জিলিংয়ের গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সমর্থকরা পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। এতে আহত হয় ৫০ পুলিশসহ মোর্চার সমর্থক। আন্দোলনকারীরা পুলিশের গাড়ি এবং সরকারি ও বেসরকারি যাত্রীবাহী বাসসহ ১৫টি যানবাহন পুড়িয়ে দেয়। দার্জিলিং থেকে ফেরার সব রাস্তা অবরোধ করে রাখে মোর্চা। ফলে অবরুদ্ধ হয়ে যায় দার্জিলিং। বন্ধ হয়ে যায় দোকানপাট, যানবাহন চলাচল। আটকে পড়ে অন্তত ১০ হাজার পর্যটক। রাজ্য সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সেনাবাহিনীর সাহায্য চেয়েছে।ওই সময় মমতা ব্যানার্জী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য দার্জিলিংয়ে দুদিন অবস্থান করেন। জনমুক্তি মোর্চার নেতা বিমল গুরুংয়ের নেতৃত্বে চলে আন্দোলন। মমতাকে কালো পতাকা দেখায় আন্দোলনকারীরা। স্লোগান দেয় পাহাড় ছাড়ার। এদিকে পরিস্থিতি মোকাবেলায় শহরজুড়ে চলে সেনা টহল। আটকেপড়া দেশি-বিদেশি পর্যটকদের উদ্ধার করে বিশেষ বাস ও যানবাহনে করে শিলিগুড়িতে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয় রাজ্য সরকার।এই হিংসায় আগুন দেওয়া হয় হেরিটেজ ট্রেন টয় ট্রেনের স্টেশন।সেই থেকেই পুরো বন্ধ ঐতিহ্যবাহী টয় ট্রেন।
কার্শিয়াংয়ে আরপিএফ এর ডিরেক্টর বোর্ডের অফিসে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। পুড়ে ছাই হয়ে যায় বহু গুরুত্বপূর্ণ নথি। সুখিয়াপখরি থানা এলাকার ছাবিশা চেক পোস্টে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। মিরিকের পুরনো লাইব্রেরিতেও আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। পুড়ে ছাই হয় বহু পুরনো বই এবং নথি। রেলিংয়ে পুলবাজারে সেরিকালচার অফিসেও আগুন লাগানো হয় । পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে সুখিয়া ব্লকের মানিভঞ্জনের বাতাসি রেস্ট হাউসও। ভাঙচুর করা হয় একাধিক পুলিশের গাড়ি ও অ্যাম্বুল্যান্স ।
জুলাই মাস পাথর, ঢিল, লোহার টুকরো, পেট্রোল বোমায় দফায় দয় অশান্ত হয়ে ওঠে পাহাড়। পুলিশ পাল্টা কাঁদানে গ্যাসের শেল , স্মোক বোম্ব ফাটায় । পরিস্হিতি দেখলে মনে হয় সীমান্ত যুদ্ধে চলছে। একাধিক দফায় আড়াই মাসের অশান্ত দার্জিলিং এ চার বিক্ষোভকারী সহ এক পুলিশ অফিসার অমিতাভ মালিকের মৃত্যু হয় ।
ফিফা
২০১৭ ফিফা অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ হচ্ছে ফিফা অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপের ১৭তম আসর। এটি একটি আন্তর্জাতিক পুরুষদের দ্বিবার্ষিক ফুটবল প্রতিযোগিতা। ১৭
টি জাতীয় দল এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছে। ফিফা কর্তৃক সংগঠিত, টুর্নামেন্ট ৬ অক্টোবর এবং ২৮ অক্টোবর ২০১৭ সালের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। ৫ ই ডিসেম্বর ২০১৩ সালে ভারত এই
ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজনের অধিকার পায়। এই টুর্নামেন্টটি প্রথমবারের মতো ভারত তথা দক্ষিণ এশিয়ার একটি ফিফা টুর্নামেন্ট এবং প্রথম এশীয় দ্বিতীয় আয়োজক অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপের ২০১৩ এর পর।
পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় সল্টলেক স্টেডিয়ামে চূড়ান্ত পর্বের খেলার সঙ্গে ভারতের ৬ টি স্টেডিয়ামে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ২১ টি দেশের সঙ্গে টুর্নামেন্টে অংশ নেবে অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপের আয়োজক ভারত। টুর্নামেন্টের প্রথম পর্বে, দলগুলি চারটি গ্রুপে রৌপ্য-রবিন গ্রুপে প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে, প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুটি টিমের সাথে এবং শীর্ষ তৃতীয় ও দলগুলোও এগিয়ে যাবে। এই ১৬ দল নক আউট পর্বে এগিয়ে যাবে, যেখানে তিনটি রাউন্ড খেলার পড় চূড়ান্ত পর্বের খেলায় অংশগ্রহণ করবে।
ফিফা অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন নাইজেরিয়ার খেলোয়াড়দের এই টুর্নামেন্টের জন্য যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার পর তাদের শিরোপা রক্ষা করার সুযোগ থাকবে না। যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হলে, ২০০৯ সালে সুইজারল্যান্ড থেকে নাইজেরিয়া প্রথম পদত্যাগী শিরোপা লাভ করে এবং পরবর্তী সংস্করণের জন্য যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হয়। যে কোনও বয়সে তাদের প্রথম বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী ভারত প্রথম অংশ নেবে।৬ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে অনূর্ধ্ব ১৭ ফুটবল বিশ্বকাপের যুদ্ধ। এই প্রথমবার ভারতে ফিফার বিশ্বকাপের আসর বসেছে। চিন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর পরে এশিয়ার পঞ্চম দেশ হিসাবে এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করছে ভারত। আয়োজক দেশ হিসাবে ভারত এমনিতেই কোয়ালিফাই করেছে। বাকী ২৩টি দলকে খেলে যোগ্যতা অর্জন করতে হয়েছে। এই প্রথমবার ফিফার যেকোনও বয়সের বিশ্বকাপে ভারত অংশ নিতে চলেছে। বলা যায়, ফিফা বিশ্বকাপের দুনিয়ায় ভারত অভিষেক ম্যাচ খেলতে চলেছে। একনজরে দেখে নেওয়া যাক ভারতীয় ফুটবলের প্রেক্ষাপট বদলে দিতে চলা এই টুর্নামেন্ট নিয়ে খুঁটিনাটি তথ্য।এছাড়া, অনূর্ধ্ব-১৭ হলেও এই আন্তর্জাতিক দলগুলোর থেকেই পরবর্তীতে এক একটি দেশের জাতীয় ফুটবল দলের সদস্য বাছাই করা হবে৷ তাদের সঙ্গে খেলার এই সুযোগ ভবিষ্যৎ ভারতীয় দলের খেলোয়াড়দের ধার ও ভার যাচাই করার ক্ষেত্রেও সহায়ক হবে৷ পাশাপাশি ফুটবল দর্শকরা পাবেন আগামী দিনের বিশ্ব ফুটবল তারকাদেরদক্ষতা চাক্ষুস করার সুযোগ৷ তাঁরা আগাম জেনে যাবেন, ভবিষ্যতের নজর থাকবে কাদের দিকে৷ এই রবিবারই যেমন কলকাতার সল্ট লেক স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-১৭ দল দারুণ খেলে হারাল চিলির দলটিকে৷ ভাল খেলে, নিজে দুটি গোল করে ইংল্যান্ডকে জেতালেন জ্যাডেন স্যাঞ্চো৷ আর কদিন পরেই এই স্যাঞ্চো খেলবেন জার্মানির বোরুসিয়া ডর্টমুন্ড ক্লাবের হয়ে এবং তাঁর খেলা দেখে রবিবার কলকাতা একবাক্যে মেনেছে, পরের ফুটবল বিশ্বকাপে সারা দুনিয়ার নজর থাকবে এই স্যাঞ্চোর ওপর৷ এটাও ভারতীয় ফুটবল দর্শকদের এক বিরাট প্রাপ্তি৷
কলকাতা ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল
২৩ তম কলকাতা চলচিত্র উৎসব। প্রত্যেক বছরের মতো এই বছরেও প্রদর্শিত হবে বাংলা ছবি। কিন্তু এই বছর বাংলা ছবির সংখ্যাটা একটু বেশি। এই প্রথম বার দেখানো হবে তিনটি বাংলা ছবি। আর এই তিনটি বাংলা ছবি দেখানোর জন্য নতুন একটি বিভাগ খোলা হয়েছে যার নাম “ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার অফ বেঙ্গলি সিনেমা”। এই বিভাগে যে তিনটি ছবি প্রদর্শিত হবে সেগুলি হল “বিলের ডাইরি”, “বারান্দা” ও “স্মাগ”।
পরিচালক বিশ্বরূপ বিশ্বাসের “বিলের ডাইরি” ছবিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন বিশ্বনাথ বসু ও তাঁর সঙ্গে আছেন সমদর্শী দত্ত। বিশ্বনাথের অভিনীত চরিত্র কানু মহারাজ। এই প্রথম কোনও সিনেমার শুটিং করা হয়েছে নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের স্কুলের খেলারমাঠ, রান্নাঘর, প্রার্থনা সভাঘর ও ক্লাসঘরের ভিতর। ছবির সংগীত পরিচালনা করেছেন রাজা নারায়ণ দেব ও ছবিতে গান গেয়েছেন ঊষা উত্থুপ, রূপঙ্কর বাগচী, রাজ নারায়ণ দেব সহ আরও অনেকে। সিনেমাটি এরই মধ্যে দেশ বিদেশের আন্তর্জাতিক সিনেমা উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে।
এরপর রয়েছে মতি নন্দীর উপন্যাস অবলম্বনে পরিচালক রেশমি মিত্র পরিচালিত বারান্দা। ছবিতে অভিনয় করছেন ব্রাত্য বসু, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, সাহেব ভট্টাচার্য ও মানালি দে। ছবির পরিচালক জানালেন ছবিতে ঋতুপর্ণা ও ব্রাত্য স্বামী ও স্ত্রী হিসাবে নিজেদের বাড়িতে থাকেন। সেখানে ভাড়াটিয়া হয়ে আসেন সাহেব ও মানালি। সারা ছবিতে বাড়ির বারান্দায় ঋতুপর্ণা ও সাহেবের পরকীয়া প্রেম চলতে থাকে। ছবিতে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত সাহেব ভট্টাচার্যের সঙ্গে একটি জটিল সম্পর্কের মধ্যে আবদ্ধ হয়ে যান। ব্রাত্য বসু অভিনয় করেছেন ঋতুপর্ণার স্বামীর চরিত্রে। ছবিতে তিনি মানসিক বিকারগ্রস্ত। মানালি অভিনয় করেছেন সাহেবের দৃষ্টিহীন স্ত্রীর চরিত্রে। ছবিটি একটি জটিল পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্যে এগিয়ে চলে। আর তৃতীয় ছবিটি নতুন পরিচালক অনিন্দ্য পুলক ব্যানার্জির স্মাগ। এই ছবিতে অভিনয় করেছেন দেবলীনা দত্ত, রণিত, জয়ী দেবরায়, হিমিকা পাত্র। সাউন্ড ডিজ়াইনিং এবং সংগীত পরিচালনা করেছেন চিরন্তণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবিটি ৬ বন্ধুর গল্প নিয়ে এগিয়ে যায়। যারা এক জায়গায় ঘুরতে গিয়ে একই সঙ্গে নিজেদের স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলে। কেউ কাওকে আর চিনতে পারে না। তারপর কি হয়? তা জানতে হলে দেখতে হবে স্মাগ।
বিবাহ বন্ধন
২০১৭ সালে গাঁটছড়াতে আবদ্ধ হন বিরুষ্কা।দেশের ক্যাপ্টেন ক্রিকেটার বিরাট কোহলির সঙ্গে জনপ্রিয় বলিউড অভিনেত্রী অনুষ্কা শর্মা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হল ইতালির এক নামকরা রেস্তোরায়।স্বপ্নে দেখা রাজকন্যার মতন বিরাট-অনুষ্কাকে সাজিয়ে বিয়ে হয় দুজনের।সোমবার তাদের বিয়ের রিসেপ্শন পার্টি হয় মুম্বাইয়ে।আর সেখানে এককথায় চাঁদের হাট।বলিউড,ক্রিকেটার থেকে বিরাটের ফ্যানেরও নিমন্ত্রণ ছিল সেই পার্টি তে।
২০১৭ সালে জনপ্রিয় বলিউড অভিনেত্রী
করিনা কাপূরের ছেলে তৈমুর আলি খানের জন্ম হয়।বলিউড অভিনেত্রী ঈষা দেওয়ালের কন্যা সন্তানের জন্ম।বিখ্যাত বলিউড অভিনেত্রী
রানি মুখোপাধ্যায়ের মেয়ে আদিরার জন্মগ্রহণ।জীতেন্দ্র
ছেলে তুষার কাপুরের ছেলেকে দত্তক নেওয়া ও সানি লিওনের মেয়ে দত্তক নেওয়া।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ২১ শে জুলাই র্যালি
তৃণমূলের
২১শে জুলাই-এর সমাবেশ ছিল ধর্মতলায়। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগে সভায়
বক্তব্য রাখেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সুদীপ
বন্দ্যোপাধ্যায়, পার্থ
চট্টোপাধ্যায়, সুব্রত
মুখোপাধ্যায়, বিনয় বর্মন, ববি হাকিম, শুভেন্দু অধিকারী
এবং শান্তা ছেত্রী। সংগীত পরিবেশন করেন নচিকেতা।বক্তব্য রাখলেন
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল নেত্রীর আক্রমণের মূল লক্ষ্য বিজেপি এবং নরেন্দ্র
মোদীর সরকার।ধর্মতলার সভামঞ্চ থেকে তৃণমূলে যোগ দিলেন অভিনেত্রী ইন্দাণী হালদার।দুপুর সওয়া ১টা
নাগাদ মঞ্চে আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগে আমরা
লড়েছি সিপিএম-এর হার্মাদদের সঙ্গে, আর এখন লড়ছি
বিজেপির উন্মাদদের সঙ্গে বললেন অভিষেক।এর পর মঞ্চে
বক্তব্য রাখতে আসেন যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।এর
পর সভায় বক্তব্য রাখতে আসেন রাজ্যের মন্ত্রী বিনয় কৃষ্ণ বর্মণ। বক্তব্য রাখেন
সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।আমাদের সামনে অনেক লড়াই বললেন সুব্রত।এর পর মঞ্চে বক্তব্য রাখতে আসেন তৃণমূলের সহ-সভাপতি সুব্রত
মুখোপাধ্যায়।তৃণমূলের আন্দোলন মানুষের জন্য বললেন পার্থ।মঞ্চে বক্তব্য
রাখতে উঠলেন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়।মঞ্চে রয়েছেন সুব্রত বক্সী, পার্থ চট্টোপাধ্যায়, অভিষেক
বন্দেযাপাধ্যায়, সুদীপ
বন্দ্যোপাধ্যায়, সুব্রত
মুখোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম।
ভূবনেশ্বরে
সিবিআইয়ের জেলে দাদার কীর্তির তাপস পাল
পশ্চিমবঙ্গের
বহু আলোচিত রোজভ্যালি চিটফান্ড দূর্নীতিতে গত বছর ত্রিশে ডিসেম্বর চার ঘণ্টা টানা
জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে গ্রেফতার করা হয়৷ তৃণমূলের সাংসদ তাপস পালের বিরুদ্ধে
অভিযোগ, রোজ ভ্যালির ব্যবসা সম্প্রসারণে সাহায্য করেছেন তিনি৷
নদিয়া জেলায় টাকা সংগ্রহেও ভূমিকা ছিল তাঁর৷ সাধারণ মানুষের টাকা তোলায়
সহযোগিতার কাজে প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়েছিলেন তিনি৷ তাপস পালের কাছে বশ কিছু নথি
চাওয়া হয়েছিল৷ সেই নথিও দেননি তাপস বলে অভিযোগ৷ এমনকি জেরায় সিবিআইয়ের কাছে
সদুত্তর দিতে পারেননি তাপস৷ এরপর তাকে গ্রেফতার করা হয়৷ বর্তমানে ভুবনেশ্বর জেলে
আছেন দাদার কীর্তির এই নায়ক তথা তৃণমূলের সাংসদ৷ রোজভ্যালীর কর্ণধার গৌতম কুণ্ডকে
সাহায্য করার অভিযোগ উঠেছিল তাপস পালের বিরুদ্ধে৷ গৌতম কুণ্ডর সঙ্গে তার আর্থিক
লেনদেনের প্রমান পেয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই৷
জানা
গিয়েছে, রোজভ্যালি সংস্থার সঙ্গে তাপস পালের চেক ও নগদে আর্থিক
লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। চিট ফান্ডের টাকা সিনেমায় লগ্নি করতে সাহায্য করা হয়েছে৷
তার বদলে সেই সময় রোজভ্যালির ফিল্ম ডিভিশন সংস্থার ডিরেক্টর করা হয় তাপস পালকে৷
রোজ
ভ্যালির চেয়ারম্যান গৌতম কুণ্ডু এবং আরও তিনজনের বিরুদ্ধে ১৭ হাজার কোটি টাকার
বেশি বিনিয়োগের অভিযোগ আনা হয়েছে।রোজভ্যালী গ্রুপটি উড়িষ্যা ও পশ্চিমবঙ্গসহ
চারটি রাজ্যে বিনিয়োগকারীদের টাকা আত্মসাত করে। ৭ জানুয়ারি,
২০১৭ তারিখে আদালতে দাখিলকৃত চার্জশিটে,
১৭০০০
কোটি
টাকার বিনিয়োগকারীদের প্রতারণার চিট ফান্ডে সিবিআই অভিযুক্ত করেছে,
যার
মধ্যে থেকে মাত্র অর্ধেকই ওড়িশা থেকে ৪৫০ কোটি টাকা।
দেশে রাষ্ট্রপতি পদে যোগ দিলেন দলিত রামনাথ কোবিন্দ
২০ জুলাই বিকাল সাড়ে ৪টা নাগাদ প্রকাশিত ভোটের ফলে বিরোধী
জোটের মীরা কুমারকে বিপুল ভোটে হারিয়ে জয়ী হন তিনি।
নির্বাচনের আগে থেকেই রাষ্ট্রপতি হওয়ার দৌড়ে মীরা কুমারের চেয়ে
এগিয়ে ছিলেন এনডিএ প্রার্থী কোবিন্দ। ফলে তার জয় একরকম নিশ্চিতই ছিল। শুধু দুজনের
মধ্যে ভোটের ব্যবধানটা কত হয় সেদিকেই সবার নজর ছিল।
বিকাল ৫ টায় ভোটের আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণার আগেই দুইজনের মধ্যে ভোটের ব্যবধান
ষ্পষ্ট হয়ে ওঠে। দেখা যায় বিশাল ব্যবধানেই জয়ী হয়েছেন কোবিন্দ। তিনি পেয়েছেন ৬৫
দশমিক ৬৫ শতাংশ ভোট। আর মীরা কুমার পেয়েছেন ৩৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ ভোট।
ফলে ভারতের বর্তমান বাঙালি প্রেসিডেন্ট প্রণব মু্খার্জির পর রাইসিনা হিলের
পরবর্তী বাসিন্দা এখনহতে যাচ্ছেন কোবিন্দই।
মেয়াদ শেষে ২৫ জুলাই প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়বেন কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়
দায়িত্ব পাওয়া প্রণব মুখার্জি।
নতুন রাষ্ট্রপতি কোবিন্দকে ইতোমধ্যেই তাকে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
পার্লামেন্ট ভবনের পাশাপাশি ২৯টি রাজ্যের বিধানসভা এবং দুটি ইউনিয়ন টেরিটোরিসহ
মোট ৩২টি কেন্দ্রে সোমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট গ্রহণ করা হয়।
এবারের এই নির্বাচনে ৯৯ শতাংশ ভোট পড়েছে; যা এই নির্বাচনের ইতিহাসে সর্বোচ্চ
বলে এক নির্বাচনী কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
নির্বাচনী প্রচারের সময় কৃষকের সন্তান ৭১ বছর বয়সী কোবিন্দর সাদাসিদে
জীবনযাপনকে তুলে ধরেছিলেনন বিজেপি নেতারা। হাই কোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের পরিচিত
আইনজীবি রাম নাথ বিহারের গভর্নর ছাড়াও দুই দফা রাজ্যসভার সদস্য ছিলেন।
দলিত পরিবারের সন্তান রামনাথকে প্রেসিডেন্ট পদের প্রার্থী করে ভারতের
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক
বিশ্লেষকরা।
তার এই পদক্ষেপ বিরোধীদের বিভক্ত এবং মিত্রদের ঐক্যবদ্ধ করার পাশাপাশি ভারতের
পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিজেপির সমর্থন বাড়াতে ভূমিকা রাখবে বলেও মনে করা
হচ্ছে।
কে এই কোবিন্দ?
১৯৪৫ এর পহেলা অক্টোবর উত্তরপ্রদেশের কানপুরের দেহাত জেলার একটি ছোট্ট গ্রামে
জন্মগ্রহণ করেন রামনাথ কোবিন্দ। তিনি দলিত সম্প্রদায়ের মানুষ।
মূলত কৃষক পরিবারের ছেলে কোবিন্দ কমার্স নিয়ে স্নাতক পড়েন। এরপর
কানপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে পড়াশুনা শেষ করে দিল্লি হাই কোর্টে
কেন্দ্রীয় সরকারের উকিল পদে কাজ করেন ১৯৭৭ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত।
১৯৮০ থেকে ৯৩ সাল পর্যন্ত তিনি সুপ্রিম কোর্টের স্টান্ডিং কাউন্সিলে ছিলেন।
তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেশাইয়ের ব্যক্তিগত সহকারীও ছিলেন কোবিন্দ।
প্রথম থেকেই তিনি দলিত সম্প্রদায়ের জন্য লড়ে এসেছেন। ভারতীয়
জনতা পার্টির হাত ধরে তিনি রাজনীতিতে আসেন ১৯৯১ সালে। ১৯৯৮ সাল থেকে ২০০২ সাল
পর্যন্ত তিনি বিজেপি’র দলিত মোর্চার প্রেসিডেন্ট ছিলেন।
১৯৯৪ সালে উত্তর প্রদেশে রাজ্য সভার সদস্যও হন কোবিন্দ। ২০১৫
সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি তাকে বিহারের গভর্নর নিযুক্ত করেন।
এ বছর ভারতের চতুর্দশ রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি বিহারের গভর্নর
পদে ইস্তফা দেন। আর তারপর এ নির্বাচনে জয়ী হলেন তিনি।
কোবিন্দ এমন একটি সময়ে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন যখন তার দলের বিরুদ্ধে
দলিত সম্প্রদায়কে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে।
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য উদ্বিগ্ন
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
মায়ানমার সেনাবাহিনীর অত্যাচারে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের
বিষয়ে উদ্বেগে আছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পনেরোই
সেপ্টেম্বর শুক্রবার টুইটারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
১৮ সেপ্টেম্বর সোমবার রাজ্যের প্রশাসনিক দফতর ‘নবান্ন’ এ আয়োজিত সংবাদ
সম্মেলনে প্রথমে অবশ্য রোহিঙ্গা ইস্যুতে কথা বলতে চাননি মমতা। পরে বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে
আমি কিছু বলবো না। সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলছে। এটা নিয়ে এখন আমার কথা বলা উচিত নয়।
‘কেন্দ্রীয় সরকার
আমাকে বলেছে, যেসব রোহিঙ্গারা
পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করেছে, তাদের পাঠিয়ে
দেওয়ার জন্য। আমি মনে করি, সব সাধারণ মানুষ জঙ্গি নয়। কেউ কেউ জঙ্গি হতে পারে। জঙ্গিদের জঙ্গি হিসেবে
দেখা হোক। জঙ্গিদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের একটা পার্থক্য আছে। প্রত্যেক সম্প্রদায়ে
কিছু খারাপ মানুষ থাকে, আবার ভালো মানুষও
থাকে।
মমতা মনে করেন, সম্প্রদায় হল
সম্প্রদায়। সাম্প্রদায়িক বিশ্বাসী ব্যক্তি আর জঙ্গিদের মধ্যে পার্থক্য আছে। জঙ্গি
থাকলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক সরকার। কিন্তু, সাধারণ মানুষ যেন
সমস্যায় না পড়ে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, আমরা মানুষ, আমাদের কাছে মানবিকতার বিষয়টাও আছে। সেটাও ভেবে দেখতে হবে।
এর আগে, কেন্দ্রীয়
সরকারের তরফ থেকে রোহিঙ্গাদের ভারত থেকে বিতাড়িত করার নির্দেশ দেওয়া হলেও এর
বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় মমতার সরকার। ‘নব্বান্ন’র শীর্ষ পর্যায়
থেকে বলা হয়, কেন্দ্র রোহিঙ্গা
তাড়াতে বললেও মমতা জানিয়ে দেন, কোনো রোহিঙ্গাকে জোর করে বের করে দেওয়া হবে না। রোহিঙ্গাদের কেউ পশ্চিমবঙ্গে
থাকতে চাইলে তাকে মানবিকতার খাতির দেখানো হবে।
এর আগে পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যে থাকা রোহিঙ্গাদের বিতাড়িত করবে না বলে
সিদ্ধান্তের কথা জানালেও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ওইদিনই প্রথম রোহিঙ্গা প্রশ্নে মত
জানান। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি সাধারণ সব রোহিঙ্গাই সন্ত্রাসী নয়। সম্প্রতি জাতিসংঘ রাজনৈতিক
মতপার্থক্য সরিয়ে রেখে বিপন্ন রোহিঙ্গা শরর্ণাথীদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে
দিতে আবেদন জানানোর পাশাপাশি তাদের জন্য চলতি মানবিক সহায়তা কর্মসূচি সমর্থনের ডাক
দিয়েছে।’
পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রোহিঙ্গা
নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল করছে কলকাতায়। মোদী সরকারের
রোহিঙ্গাদের বিতাড়নের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সবাই সরব হয়েছেন। মমতার মন্ত্রিসভার
সদস্য জামায়েত উলেমা হিন্দের প্রধান সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী অবশ্য ইতিমধ্যেই সরব
হয়েছেন। তিনি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ত্রাণ সংগ্রহও শুরু করার কথা জানিয়েছিলেন।
পরে, সাতই ডিসেম্বর
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ
সিংহের সীমান্ত নিয়ে সরকারি স্তরের বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যু ।
নবান্ন সূত্রের খবর, রোহিঙ্গা ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী নিজের পুরনো অবস্থানেই অনড় থেকে ওদিন তিনি
কার্যত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মতান্তরে জড়িয়ে পড়েন। যদিও এই
ইস্যু নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলেন নি দুজনের কেউই। যার জেরে রোহিঙ্গা ইস্যুতে
রাজনাথ কড়া ভাষায় তাঁকে পাশে বসিয়েই সংবাদমাধ্যমকে জানিয়ে দেন, 'সীমান্তবর্তী
এলাকাগুলোতে বেআইনিভাবে অনুপ্রবেশ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এক্ষেত্রে কঠোর
অবস্থানই নিচ্ছে কেন্দ্র।' কেন্দ্রীয় সরকারের হিসেব অনুযায়ী, ভারতে কমপক্ষে ৪০ হাজার রোহিঙ্গা বাস করছেন। ভারতে আশ্রয় নেওয়া এই সব
রোহিঙ্গাকে মায়নমারে ফেরত পাঠানোর জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে গত
৮ আগস্ট প্রতিটি রাজ্যে আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছিল। যার তীব্র বিরোধিতা
করে মমতা সেসময় বলেছিলেন, 'রোহিঙ্গাদের সাহায্যের জন্য জাতিসংঘের আবেদনকে আমরা সমর্থন করছি। আমাদের
বিশ্বাস, সব সাধারণ মানুষ
সন্ত্রাসবাদী নয়। আমরা সত্যিই উদ্বিগ্ন।
প্রসঙ্গত, মায়ানমার
সীমান্তের তিনটি চেকপোস্টে ২০১৭ সালের ৯ অক্টোবর অস্ত্রধারীদের হামলায় সে দেশের নয়জন পুলিশ নিহত হয়। ওই ঘটনার
পর থেকে সে দেশের সেনাবাহিনী কর্তৃক রোহিঙ্গাদের উপর ব্যাপক দমন-পীড়নের খবর
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রচার হচ্ছে। বিশ্ব মিডিয়া রাখাইন রাজ্যে প্রবেশ করতে না
পারায় সেখানে ঠিক কী হচ্ছে তা বলা মুশকিল। মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য
অনুযায়ী, রাখাইন রাজ্যের
মুসলিম অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে রোহিঙ্গা জঙ্গিদের একটি সংগঠনের বিরুদ্ধে সে দেশের
সেনাবাহিনী ‘শুদ্ধি অভিযান’ চালায়।
সেনাবাহিনীর দাবি, উগ্রপন্থী
রোহিঙ্গাদের সঙ্গে প্রবাসী ইসলামপন্থীদেরও যোগসাজশ রয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির রিপোর্ট অনুযায়ী চেকপোস্টে অস্ত্রধারীদের হামলায় ঘটনার
পর থেকে কথিত হামলাকারীদের খুঁজে বের করার অভিযানে অন্তত ৬৯ জনকে হত্যা করা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের মতে, এই হিংসায় বাস্তুচ্যুত হয়েছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অন্তত ৩০ হাজার মানুষ।
মিয়ানমার হিংসার বিষয়টাও অস্বীকার করছে। মিয়ানমার এখনও বলছে রোহিঙ্গাদের নির্যাতন
করা হচ্ছে না।বিশ্বের বিভিন্ন মহলের প্রশ্ন তাহলে তারা পালিয়ে আসছে কেন? ২০১২ সালের পর
থেকে এতদিন তো দল বেঁধে গণহারে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করেনি।
২০১৭ সালে নয়া উপরাষ্ট্রপতি
ভেঙ্কাইডু নাইডু
ভারতের উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন বিজেপি
নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটের (এনডিএ) প্রার্থী ভেঙ্কাইয়া নাইডু।
স্থানীয় সময় শনিবার সকাল ১০টায় উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে
ভোটগ্রহণ শুরু হয়। পরে বিকেল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়। ভারতের উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ৭৮৫ জন সাংসদের মধ্যে ভোট
দেন ৭৭১ জন সাংসদ। এর মধ্যে ভেঙ্কাইয়া নাইডু পেয়েছেন ৫১৬টি ভোট। অন্যদিকে, ভারতের ১৮টি বিরোধী দলের সম্মিলিত প্রার্থী গোপালকৃষ্ণ
গান্ধী পেয়েছেন ২৪৪টি ভোট। এদিন ভোটদানের হার ছিল ৯৮ দশমিক ২১ শতাংশ।ভারতের সংসদে
সদস্যের সংখ্যা ৭৯০ হলেও সানোয়ারলাল জাঠ ও বিজয় গোয়েল নামে বিজেপির দুই সদস্য
অসুস্থ থাকায় উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি। অন্যদিকে, বিচার বিভাগের রায়ে বিজেপির এক সাংসদ ভোটাধিকার হারান। এছাড়া
সংসদের দুই কক্ষে দুটি আসন খালি রয়েছে।
নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর ভেঙ্কাইয়া নাইডু বলেন, ‘আমি কোনো দলের নই। দেশের বেশির ভাগ দলই আমার প্রার্থিতা
সমর্থন করেছিলেন বলেই আমি জয়ী হয়েছি।’এ বিষয়ে পরাজিত
প্রার্থী গোপালকৃষ্ণ গান্ধী জানান, এনডিএর প্রার্থী
ভেঙ্কাইয়া নাইডু অভিজ্ঞ ব্যক্তি। তাঁর লড়াই কোনো ব্যক্তির সঙ্গে ছিল না। শনিবারের নির্বাচনের পর বিদায় নিতে যাচ্ছেন ভারতের
বর্তমান উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারি। পরপর দুই দফা এই পদে দায়িত্ব পালন করেছেন
তিনি। আগামী ১০ আগস্ট তাঁর মেয়াদ শেষ হচ্ছে।
ভারত-পাকিস্তান নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের সেনা ঘাঁটিতে
আক্রমণ চালিয়েছে সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এ অভিযানকে 'সার্জিক্যাল
স্ট্রাইক ২' নাম দেওয়া হয়েছে। গত ২৩ ডিসেম্বর সীমান্ত এলাকায়
ঢুকে পাকিস্তানি সেনারা সেনা বাহিনীর উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে সেনাবাহিনীর এক
মেজর ছাড়াও তিন জওয়ান নিহত হন। এর জবাব দিতে ভারতও সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। অবশেষে 26 ডিসেম্বর ভোরে জম্মু-কাশ্মীর সীমান্তে লাইন অব কন্ট্রোল অতিক্রম করে
পাকিস্তানি সৈন্যদের লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালায় ভারতীয় বাহিনী। এতে
পাকিস্তানিদের বেশ কয়েকটি সেনা ছাউনি গুড়িয়ে দিয়েছে তারা।
এর আগেও গত বছর ভারতীয় সেনারা একই ধরনের অভিযান করেছিল, যার
নাম দেওয়া হয়েছিল সার্জিক্যাল স্ট্রাইক। সে সময় এমন অভিযান আরো হতে পারে বলে
জানানো হয়েছিল। আবারো একই ধরনের আক্রমণ করল ভারতীয় সেনারা। এ অপারেশনকে
প্রাথমিকভাবে 'সার্জিক্যাল স্ট্রাইক' অ্যাখ্যা
দেয়নি ভারতীয় সেনাবাহিনী। পরে অবশ্য অভিযানের সাফল্য প্রকাশিত হলে একে 'সার্জিক্যাল স্ট্রাইক ২' বলা হয়।
এর আগে শনিবার জম্মু-কাশ্মীরে ভারত-পাক নিয়ন্ত্রণরেখায় পাকিস্তান সেনার হামলায়
প্রাণ হারিয়েছিলেন এক মেজরসহ চার ভারতীয় সেনা। এ দিন ভারতীয় সেনাদলকে নির্দিষ্ট
নিশানা করেই হামলা চালানো হয়েছিল। সামরিক পরিভাষায় যার নাম 'টার্গেটেড
কিলিং'।
পাকিস্তানের 'টার্গেটেড কিলিং'য়ের জবাবে ভারতীয় সেনা
বাহিনীর এ 'ক্রস বর্ডার রেইড' অভিযান।
পাকিস্তানি সেনারা ভারতীয় সেনাদের ওপর আক্রমণ চালালে 'নিশ্চিতভাবেই
তার প্রতিক্রিয়া' দেখানো হবে বলে সার্জিক্যাল 2 অভিযানের মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।
অভিযানে ভারতীয় সেনাদের কেউ আহত হয়নি বলে জানিয়েছে ভারতীয় সামরিকসূত্র।
পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আন্তবাহিনী জনসংযোগ দপ্তরও (আইএসপিআর) তাদের তিন সেনা
নিহতের কথা স্বীকার করেছে।
সংসদে দেওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কেবল ২০১৭
সালের ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত লাইন অব কন্ট্রোল সীমানায় ৭৭১টি যুদ্ধবিরতি চুক্তি
লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। এতে ১৪ জন সেনা সদস্য ও চারজন বিএসএফ সদস্যসহ ৩০ জন শহীদ
হয়েছে। ওই সীমানায় ২০১৬ সালের তুলনায় প্রায় তিনগুন চুক্তি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে বলে
ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়।
উল্লেখ্য, প্রতিবেশি দেশ পাকিস্তানের ৩ হাজার ৩২৩ কিলোমিটার সীমান্ত
রয়েছে। এর মধ্যে ৭৪০ কিলোমিটার সীমান্তদৈর্ঘ্য রয়েছে কেবল জম্মু আর কাশ্মীর
সীমান্তে।
দেশে ভোট যুদ্ধে প্রথম গুজরাট । জয়ী এবং পরাজয়ী দলের এমন হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
গনতন্ত্রের জন্য সুফল । কোনও নির্বাচনে এমন ঘটনা ভারতীয় গনতন্ত্রে নজিরবিহীন।
পরাজিত কোনো রাজনৈতিক দল এমন অভিনন্দন পায়নি। সদ্য সমাপ্ত গুজরাট নির্বাচনে
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিজেপি জয়ী হয়েছে ঠিকই; কিন্তু রাজনৈতিক
বিশ্নেষকদের মতে, কংগ্রেস পরাজিত
হয়নি। নেতা হিসোবে রাহুল গান্ধী প্রতিষ্ঠিত হলেন এই প্রথম। জাতীয় কংগ্রেসের নতুন
সভাপতি রাহুল গান্ধীর পক্ষে গুজরাটের ফল নিঃসন্দেহে উৎসাহব্যঞ্জক। সম্ভবত এই প্রথম
নির্বাচন-পরবর্তী সংসদীয় দলের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি অত্যন্ত ভাবুক হয়ে
উঠেছিলেন। তিন তিনবার তিনি চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। কেন? এই নির্বাচনকে
কেন্দ্র করে ভারতের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিশার এক ব্যাখ্যা শুরু হয়েছে, যেটা
প্রধানমন্ত্রী মোদির কাছে চিন্তাজনক নিঃসন্দেহে।
গুজরাটের কয়েকটি নির্বাচনী ফল সত্য প্রতিষ্ঠিত করেছে। প্রথমত, বিজেপির পরাজয়
ঘটলে দলের অভ্যন্তরে নেতৃত্বের প্রতি অসন্তোষ বাড়ত। সেই কারণেই মোদিকে বলতে হয়েছে-
প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সময়ে কংগ্রেসের হাতে যত রাজ্য ছিল, তার তুলনায় তার
সময়ে সর্বাধিক উনিশটি রাজ্য রয়েছে। এটা রেকর্ড। দ্বিতীয় সত্য; গুজরাটে বিজেপি
জয়ী হয়েছে শুধু শহর এলাকার মধ্যে সর্বাধিক আসন জেতার দরুন। কিন্তু গ্রামাঞ্চলে
বিজেপি পরাজিত হয়েছে কংগ্রেসের কাছে। তাই বিগত দু'দশকের মধ্যে কংগ্রেস দল সর্বাধিক আসন পেয়েছে। বিজেপি
দু'দশকের মধ্যে এই
প্রথম দুই সংখ্যায় পৌঁছেছে। মোট ১৮২টি আসনের মধ্যে ৯৯। শতক অতিক্রম না করার একটা
স্নায়বিক চাপের মধ্যে পড়েছে দল, যেটা অস্বীকার করা যাচ্ছে না।
গুজরাটের ফল বিশ্নেষণ করলে একটা ছবি স্পষ্ট হয়ে উঠছে। গ্রামীণ এলাকার মানুষ, বিশেষ করে কৃষক
সম্প্রদায় ক্ষুব্ধ। মোট ১০৯টি গ্রামীণ আসনের মধ্যে কংগ্রেস জয়ী হয়েছে ৬৩টি আসনে।
শুধু শহরের আসনগুলোতে এখনও প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা অটুট। তাই বিজেপির সম্মান
বেঁচেছে। মনে রাখা দরকার, গুজরাটের সঙ্গে ভারতের অন্যান্য রাজ্যের ভূরাজনৈতিক মানচিত্র ভিন্ন। গুজরাটে
শহুরে আসন ব্যতীত এমন বেশ আসন রয়েছে, যেগুলো শহর ও গ্রাম মিশ্রিত। যেটা
অন্য রাজ্যে নেই। লোকসভার মোট আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন গ্রামীণ। তাই
ঋণগ্রস্ত কৃষক ফসলের যদি ন্যায্য দাম না পায়, তাহলে কিন্তু মোদির চোখের জলেও কাজ হবে না। তা ছাড়া কৃষি অর্থনীতিতে আরও একটি
বড় প্রভাব রয়েছে। সেটা হলো গোমাংস নিষিদ্ধ করা। এতে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটা
সত্য যে, ভারত থেকে যত
মোষের মাংস বিদেশে রফতানি হয়; তার সিংহভাগ কিন্তু গুজরাট থেকে।
২০১৪ সালে এই বিজেপি গুজরাটে মোট ২৬ আসনের সব ক'টিতেই জয়ী হয়। সেই হিসাবে ১৬৫ বিধানসভা আসনে এগিয়ে
ছিল। কিন্তু এবার লোকসভার আসনের নিরিখে বিজেপির আসন সংখ্যা কমলো আশার অতিরিক্ত।
মাত্র ৯৯। লোকসভার সময়ে বিজেপি ভোট পেয়েছিল ৬০ শতাংশের বেশি। এবার তা নেমে এলো ৪৯
শতাংশে। বিজেপি নেতারা দাবি করছেন, ২০১২ সালের থেকে ৭ শতাংশ ভোট বেড়েছে। ফলে কোথায় খারাপ হলো? কিন্তু ভোটের ফল
বিশ্নেষণ করলেই দেখা যাবে বিজেপির ভোট শতাংশ বাড়ার কারণ শহুরে আসনগুলোতে ভোটের
ব্যবধান অনেক বেশি। তাই মোট শতাংশ বেড়েছে। কিন্তু গ্রামীণ এলাকায় বিজেপির ভোট
আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। তা ছাড়া অন্তত ১৫টি আসনে কংগ্রেস হেরেছে ১শ' থেকে দু'হাজার ভোটের
ব্যবধানে। এগুলোতে বিজেপির জেতার একমাত্র কারণ বিরোধী ভোট বিভক্ত হয়েছে বলেই। এটাই
কিছুটা কংগ্রেসের দুর্বলতা।
রাহুলের নেতৃত্বে হিন্দু ধর্মের বিপদ হবে- এমন একটা সূক্ষ্ণ প্রচার বিজেপি
করেছিল। সেই কারণে এবার রাহুল প্রত্যেকটি হিন্দু মন্দির পরিদর্শন করে সেই ভাবনাকে
ধূলিসাৎ করতে পেরেছেন। ফলে হিন্দু সমাজ কংগ্রেস থেকে সরেনি। কংগ্রেসের বরাবর ভরসা
ছিল ক্ষত্রিয়-হরিজন-আদিবাসী-মুসলিম- এককথায় খাম রাজনীতি। এবারে তাতে যুক্ত হয়েছে
প্যাটেল। যারা এক সময়ে বিজেপির অনুগত ছিল। সেই অর্থে রাহুল এবার বিজেপির
ভোটব্যাংকে ফাটল ধরাতে পেরেছেন। এটাই তার সাফল্য। গুজরাটের নির্বাচনের ধারাবাহিকতা
যদি লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত রাহুল বজায় রাখতে পারেন, তাহলে গুজরাট থেকে
এবার সব আসনে বিজেপির জয় অনিশ্চিত হয়ে উঠবে। সেই আসনের ঘাটতি পূরণ করতে হলে
বিজেপিকে বেশ ঘাম ফেলতে হবে- এতে কোনো সন্দেহ নেই।
ভদ্রেশ্বরে জেটি ভেঙে শতাধিক মানুষের মৃত্যু
ভদ্রেশ্বরে গঙ্গার জোয়ারের তোরে কাঠের জেটি ভেঙে ভেসে গিয়েছিল শতাধিক মানুষ। এই ঘটনায় ১৮জন মারা গিয়েছিল। ২৬ এপ্রিল ঘটনাটি ঘটেছে ভদ্রেশ্বর থানার তেলেনীপাড়া ফেরীঘাটে। ওই দিন সকাল এগারোটা নাগাত গঙ্গায় বান আসে।
সেই সময়ে তেলেনীপাড়া ফেরীঘাটের ওই কাঠের জেটিতে নৌকা ধরার জন্যে প্রায় শতাধিক মানুষ দাঁড়িয়ে ছিলেন। ওই সময়ে একটি ট্রলার জেটিতে ধাক্কা দিতেই জোয়ারের তোরে কাঠের জেটিটির প্রায় পঞ্চাশ ফুট ভেঙ্গে ভেসে যায়। এই ঘটনায় ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা নৌকা করে বেশ কিছু মানুষকে উদ্ধার করলেও বাকিরা জলের তোরে ভেসে যায়। এদের মধ্যে অনেক মহিলা ও শিশু ছিল বলে খবর।
ভদ্রেশ্বর চেয়ারম্যান খুন, তোলপাড় রাজ্য
২১ নভেম্বর দুষ্কৃতীদের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে ভদ্রেশ্বর পুরসভার চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল নেতা মনোজ উপাদ্ধ্যায়ের। এই ঘটনায় গোটা রাজ্যজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়ে গিয়েছিল। এই মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছিল সিআইডিকে। এই ঘটনায় মোট ১১জন গ্রেফতার হয়েছিল। অভিযুক্তরা সকলেই বর্তমানে জেল হেপাজতে রয়েছে। এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন, সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, তপন দাশগুপ্ত, বিধায়ক প্রবীর ঘোষাল ও বিধায়ক অর্জুন সিং। এই ঘটনায় পুলিশের গাফিলতির কারনে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনার পীষূষ পান্ডেকেও ক্লোজ করা হয়েছিল।
ভদ্রেশ্বরে গঙ্গার জোয়ারের তোরে কাঠের জেটি ভেঙে ভেসে গিয়েছিল শতাধিক মানুষ। এই ঘটনায় ১৮জন মারা গিয়েছিল। ২৬ এপ্রিল ঘটনাটি ঘটেছে ভদ্রেশ্বর থানার তেলেনীপাড়া ফেরীঘাটে। ওই দিন সকাল এগারোটা নাগাত গঙ্গায় বান আসে।
সেই সময়ে তেলেনীপাড়া ফেরীঘাটের ওই কাঠের জেটিতে নৌকা ধরার জন্যে প্রায় শতাধিক মানুষ দাঁড়িয়ে ছিলেন। ওই সময়ে একটি ট্রলার জেটিতে ধাক্কা দিতেই জোয়ারের তোরে কাঠের জেটিটির প্রায় পঞ্চাশ ফুট ভেঙ্গে ভেসে যায়। এই ঘটনায় ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা নৌকা করে বেশ কিছু মানুষকে উদ্ধার করলেও বাকিরা জলের তোরে ভেসে যায়। এদের মধ্যে অনেক মহিলা ও শিশু ছিল বলে খবর।
ভদ্রেশ্বর চেয়ারম্যান খুন, তোলপাড় রাজ্য
২১ নভেম্বর দুষ্কৃতীদের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে ভদ্রেশ্বর পুরসভার চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল নেতা মনোজ উপাদ্ধ্যায়ের। এই ঘটনায় গোটা রাজ্যজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়ে গিয়েছিল। এই মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছিল সিআইডিকে। এই ঘটনায় মোট ১১জন গ্রেফতার হয়েছিল। অভিযুক্তরা সকলেই বর্তমানে জেল হেপাজতে রয়েছে। এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন, সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, তপন দাশগুপ্ত, বিধায়ক প্রবীর ঘোষাল ও বিধায়ক অর্জুন সিং। এই ঘটনায় পুলিশের গাফিলতির কারনে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনার পীষূষ পান্ডেকেও ক্লোজ করা হয়েছিল।



































No comments:
Post a Comment