নিজস্ব সংবাদদাতা নববারাকপুর :বই প্রকৃত মানুষ গড়ার কারিগর। অনন্ত জ্ঞানের ভান্ডার রয়েছে ভালো বইয়ের মধ্যে। ছেলেদের বইমুখি করতে স্কুলের উদ্দ্যোগে বইমেলা। খুব ভালো লাগছে। ভালো বই পড়ার বার্তা দিচ্ছে নববারাকপুরের এই বালক বিদ্যালয়। স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকারা বই কিনে পড়তে বলছেন। স্কুলের এই প্রয়াস অবশ্যই প্রশংসনীয়। কথাগুলি বললেন বঙ্কিম পুরস্কার প্রাপ্ত সাহিত্যিক অমর মিত্র। ২৮ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নববারাকপুর কলোনী বয়েজ হাই স্কুলের আয়োজনে চতুর্থ বর্ষ নববারাকপুর বইমেলার শুভ উদ্বোধনে এসে কথাগুলি বললেন বঙ্কিম পুরস্কার প্রাপ্ত সাহিত্যিক ও নত নাট্যকর অমর মিত্র। অমর মিত্র বলেন মানুষের রুচি তৈরি করে বই। বই পাঠের অভ্যাস তৈরি করছে ছেলেমেয়েদের। স্কুলের বিরাট অবদান রয়েছে। উদ্বাস্তু কলোনী থেকে শহরের নাম পত্তনের উন্নয়নে নববারাকপুরের রূপকার হরিপদ বাবুর বিরাট ইতিহাস ও তিনি তুলে ধরেন।
স্বাগত ভাষনে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ড :অনিরুদ্ধ বিশ্বাস বলেন বিদ্যালয়ের ৬৮তম প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে এই চতুর্থ বর্ষ বই মেলার আয়োজন। বইমেলায় এবছর ২৪টি কলকাতার নামিদামী প্রকাশনী সংস্হা ও বেসরকারী স্টল রয়েছে। বই আমাদের শেষ বন্ধু এই শ্লোগানকে সামনে রেখে মঞ্চের নামকরণ করা হয়েছে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর মঞ্চ। আভিধানিক হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম সার্ধশত বর্ষের শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়ে প্রাঙ্গণের নামকরণ করা হয়েছে। এছাড়াও এবছর রুশ সাহিত্যিক ম্যাক্সিম গোর্কি ও বিজ্ঞানী উইলবার রাইটের জন্ম সার্ধশত বর্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়ে স্মরণ করা হয়েছে বইমেলায়। কবি ও ছড়াকার কালিদাস ভদ্র সম্পাদিত মনীষীদের সংকলন "বানীমুকুল","শনিবারের বারবেলা" ভৌতিক গল্প সংকলন ও উত্তর ২৪পরগনা জেলা গল্পকারদের গল্প সংকলন "সাতকাহন" তিনটি বই উদ্বোধন করেন সাহিত্যিক অমর মিত্র।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মঞ্চে উপস্হিত ছিলেন নববারাকপুরের পুরপ্রধান তৃপ্তি মজুমদার,উপ পুরপ্রধান মিহির দে,প্রাক্তন পুরপিতা সুখেন মজুমদার,আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র মহা বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ড. শক্তিব্রত ভৌমিক,প্রফুল্ল চন্দ্র মহা বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ড. সুনীল কুমার বিশ্বাস,বিদ্যালয়ের পরিচালন সমিতির সভাপতি ড. বিধান চন্দ্র মন্ডল,পুরপিতা প্রবীর সাহা,ড. পঙ্কজ কুমার অধিকারী সহ বিশিষ্ট গুনীজনেরা। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে একক ও সমবেত সঙ্গীত,নৃত্য ও পদাবলী কীর্ত্তন পরিবেশন করে স্হানীয় ও বহিরাগত শিল্পীরা।অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন শিক্ষক অম্লান দাশগুপ্ত ও সুখেন্দু বিকাশ মাইতি। বইমেলা চলবে ৩জানুয়ারী পর্যন্ত। ৩জানুয়ারী বিদ্যালয়ের ৬৮তম প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে শেষদিন হবে ছাত্রদের পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। থাকবে প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্রদের নাটক,শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের নাটক,বাউল ও লোক সঙ্গীত,ম্যাজিক প্রদর্শনী ,কবি সম্মেলন,রক্তদান,স্বাস্থ্য ও চক্ষু পরীক্ষা শিবির,বাংলা ব্যান্ড। শেষ দিন উপস্হিত থাকবেন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য,সাংসদ অধ্যাপক সৌগত রায়,প. ব রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. বাসব চৌধুরি,দিব্যগোপাল ঘটক,জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক দীপঙ্কর রায়,প্রাক্তনী সুকুমার দাস প্রমুখ।



No comments:
Post a Comment