চাঁদনী,পশ্চিম মেদিনীপুর: পশ্চিম মেদিনীপুরের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান বালিচক স্টেশন সংলগ্ন এলাকার বালিচক সাব পোষ্টটির উপর বহু মানুষ নির্ভরশীল। এই পোষ্ট অফিসের অধীনে প্রায় ২২০০০ সেভিংস এ্যাকাউন্ট রয়েছে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে পোষ্ট অফিসে প্রায় অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার মানুষ প্রচন্ড ক্ষুব্ধ। মাঝে মাঝে ক্ষোভে ফেটে পড়ছে মানুষ। যে কোনো সামান্য কাজের জন্য কম করে প্রায় এক ঘন্টা সময় লেগে যায়। তার উপর সারাদিনই লিঙ্ক না থাকায় মানুষ দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। বালিচক সাব পোষ্ট অফিসের পোষ্ট মাষ্টার পার্থ গোস্বামীর কথায়, "আমরা বিএসএনএল অফিসে বারবার লিঙ্কের এই সমস্যাটি জানালে তাঁরা বলেন এটি নাকি আমাদের অফিসেরই সমস্যা। কিন্তু আমাদের এখানে কোনো ফল্ট আমরা দেখতে পাইনি।"
এভাবেই চলছে একে অপরে দোষারোপের অযুহাত। ১০/১২ দিন হল চিঠিপত্র পাঠানোর জন্য সাধারণ রেজিস্ট্রি বন্ধ রয়েছে বার কোডের অভাবে। সকলকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে স্পিড পোষ্টে চিঠি পাঠাতে বাধ্য করা হচ্ছে। কয়েকদিন অন্তর এ সমস্যা লেগেই থাকে। বালিচকের পোষ্ট মাষ্টার পার্থ গোস্বামী বলেন, "আমরা ২০০০ হাজার বার কোডের আবেদন করলে ৫০০ পাই। ফলে এই সঙ্কট। প্রয়োজনীয় সংখ্যক কম্পিউটার এবং কর্মীর অভাবও রয়েছে।" এছাড়া প্রিন্টার খারাপ হয়ে রয়েছে দীর্ঘদিন। ফলে মানুষ পাশ বইটাও প্রিন্ট করতে পারছে না। অপ্রতুল কম্পিউটার, তার উপর কম্পিউটারের ইউপিএসের ব্যাটারি ডাউন থাকায় বিদ্যুত চলে গেলেই কম্পিউটার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
এভাবেই দিনের পর দিল সমস্যা লেগে থাকায় পরিশেবা না পেয়ে এলাকার মানুষ প্রচন্ড ক্ষুব্ধ। এ ব্যাপরে সমস্যাগুলি অবিলম্বে সমাধানের দাবী জানিয়ে আজ বালিচক স্টেশন উন্নয়ন কমিটি। কমিটির এক প্রতিনিধিদল বালিচক পোষ্ট মাষ্টারের সঙ্গে স্বাক্ষাত করে ডেপুটেশন দেন এবং অবিলম্বে সমস্যাগুলির সমাধানে তাঁকে উদ্যোগ নিতে বলেন। এ ব্যাপারে লিখিত আবেদন জানিয়ে বালিচক পোষ্ট মাষ্টারের মাধ্যমে মেদিনীপুর পোষ্ট অফিসের সুপারিন্টেনডেন্টের কাছে চিঠি পাঠানো হয়। কমিটির সহ সভাপতি ভারতরঞ্জন দে এবং যুগ্ম সম্পাদক কিংকর অধিকারী ও কালীশঙ্কর গাঙ্গুলী আজ পোষ্ট অফিসে উপস্থিত হয়ে জানান, "অবিলম্বে এই সকল সমস্যাগুলির সমাধান না হলে এলাকার মানুষকে নিয়ে আমরা পোষ্ট অফিস ঘেরাও করবো।"


No comments:
Post a Comment